কাহিনি
দিল্লির চার বন্ধুর বন্ধুত্ব নিয়ে ‘উঁচাই’ ছবির কাহিনি লেখা হয়েছে। ষাটোর্ধ্ব এই চার প্রৌঢ় হলেন অমিত শ্রীবাস্তব (অমিতাভ বচ্চন), ওম শর্মা (অনুপম খের), জাভেদ সিদ্দিকী (বোমান ইরানি) আর ভূপেন (ড্যানি ডেনজনপা)। তাঁদের মধ্যে অমিত অত্যন্ত খ্যাতনামা লেখক। তাঁর লেখা বই পড়ে হাজার হাজার তরুণ উদ্বুদ্ধ হন। দিল্লিতে ওমের এক পুরোনো বইয়ের দোকান আছে। জাভেদ এক জামাকাপড়ের দোকানের মালিক। আর ভূপেন দিল্লির এক অভিজাত ক্লাবের মালিক, পাশাপাশি শেফ তিনি।

ভূপেন পাহাড়ি ছেলে। নেপালের পাহাড়ের আঁকেবাঁকে তাঁর শৈশব থেকে যৌবনের নানা কাহিনি ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। ভূপেনের স্বপ্ন ছিল তিন বন্ধুকে সঙ্গে করে এভারেস্ট জয়ের। কিন্তু তাঁর এই স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ভূপেন মারা যান। ভূপেনের এই অধরা স্বপ্ন সাকার করতে এগিয়ে আসেন তাঁর তিন বন্ধু। এই তিন বন্ধু সিদ্ধান্ত নেন যে এভারেস্টে তাঁরা চড়বেনই।

দিল্লি থেকে তাঁদের বন্ধুত্বের কাহিনি শুরু হয়। তিন বন্ধু গাড়িতে দিল্লি থেকে আগ্রা, কানপুর, লক্ষ্ণৌ, গোরখপুর, কাঠমান্ডু হয়ে এভারেস্টের উদ্দেশে পাড়ি দেন। তাঁদের এই ভ্রমণে সঙ্গী হন মালা ত্রিবেদী (সারিকা) নামের এক নারী। এখন প্রশ্ন, কে এই মহিলা। আর এই চার বন্ধুর সঙ্গে মালার সম্পর্ক কী? অমিত, জাভেদ আর ওম কি পারবেন ভূপেনের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে, না বয়সের কাছে হার মানবেন তাঁরা। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে অবশ্যই দেখতে হবে ‘উঁচাই’ ছবিটি।

ভালো-মন্দ
‘উঁচাই’ ছবির কাহিনি যেমন সুন্দর, তেমনই শক্তিশালী কাস্টিং। ছবির প্রতিটি চরিত্র খুব সুন্দর করে আঁকা হয়েছে। পরিচালক এই ছবির মাধ্যমে নানা বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন৷ ‘উঁচাই’ শিক্ষা দিয়েছে যে কিছু লড়াই মানুষকে একাই লড়তে হয়। আর মনের জোরে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। সুরজের এই ছবির এক অন্যতম বড় সম্পদ হলো পথভ্রমণ। উত্তর ভারতের নানা শহরের নিজস্ব সৌন্দর্য এই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন পরিচালক। ‘উঁচাই’ চার প্রৌঢ়ের কাহিনি হলেও এই ছবি আজকের প্রজন্মকে বেঁধে রাখবে। সব মিলিয়ে সপরিবার দেখার মতো ছবি এটি। এই ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফি সত্যি প্রশংসনীয়। সুরজ বরজাতিয়া তাঁর দক্ষ পরিচালনার জোরে ‘উঁচাই’কে এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।

এবার আসা যাক ‘উঁচাই’ ছবির খামতির দিকগুলোর প্রসঙ্গে। ছবিটিকে অহেতুক লম্বা করা হয়েছে বলে মনে হয়। এখানে সম্পাদকের আরও কাঁচি চালানোর প্রয়োজন ছিল। ছবির দ্বিতীয়ার্ধ একেক সময় দর্শককে বোর করতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ের দৃশ্যগুলো একটু ধীর ছিল। অমিত ত্রিবেদীর সংগীত ছবির গল্পের সঙ্গে মানানসই ছিল। তবে রাজশ্রী প্রোডাকশনের ছবিতে গানের বড় একটা ভূমিকা থাকে। এই ছবিতে কোথাও তার অভাব কিছুটা বোধ হয়েছে। ‘উঁচাই’ ছবিতে ভিএফএক্সের দুর্বলতা কোথাও কোথাও ধরা পড়েছে।

অভিনয়
‘উঁচাই’ ছবির অভিনয়শিল্পীর তালিকার দিকে চোখ রাখলেই বোঝা যাচ্ছে, ছবিটি অভিনয়ের দিক থেকে কতটা সমৃদ্ধ হতে পারে। অমিতাভ বচ্চনের অভিনয়ের প্রসঙ্গে আর নতুন কথা কীই–বা বলার থাকতে পারে। ৮০–তেও অপ্রতিরোধ্য তিনি। তবে একটা ছবি পুরোপুরি টিম ওয়ার্ক। অমিতাভের পাশে অনুপম খের আর বোমান ইরানির মতো অভিনেতারা ছবিটিকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। এই ছবির জন্য তাঁরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছিলেন। ‘উঁচাই’ ছবিতে বোমানের স্ত্রীর চরিত্রে ছিলেন নীনা গুপ্তা। ছবিতে তাঁদের রসায়ন এক মুঠো তাজা বাতাস নিয়ে এসেছে। গাইডের চরিত্রের সঙ্গে পরিণীতি চোপড়া পুরোপুরি ন্যায় করেছেন। সারিকাও তাঁর চরিত্রের সঙ্গে যথাযথ ছিলেন। স্বল্প উপস্থিতিতে ড্যানি মাতিয়ে দিয়ে গেছেন।


নির্মাতা: রাজশ্রী ফিল্মস
পরিচালক: সুরজ বরজাতিয়া
অভিনয়শিল্পী: অমিতাভ বচ্চন, অনুপম খের, বোমান ইরানি, নীনা গুপ্তা, সারিকা, পরিণীতি চোপড়া, ড্যানি ডেনজনপাসহ আরও অনেকে