‘সাইয়ারা’র পর আলোচনায় শাজিয়ার ‘ধড়ক ২’, কী আছে এই সিনেমায়
গত শুক্রবার ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে রোমান্টিক ড্রামা সিনেমা ‘ধড়ক ২’। শাজিয়া ইকবাল পরিচালিত সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রথম দিন খুবই একটা ব্যবসা করেনি। সাড়ে তিন কোটি রুপির কিছু বেশি আয় করছে। কিন্তু এরপরও সমালোচক থেকে শুরু করে অনেক সাধারণ দর্শক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলছেন সিনেমাটি নিয়ে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এ সিনেমাটি নিয়েও ‘সাইয়ারা’র মতো আলোচনা হতে পারে।
‘ধড়ক ২’ ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ধড়ক’-এর সিকুয়েল। তবে গল্পের দিক থেকে সে সিনেমার সঙ্গে এটির কোনো মিল নেই। তবে আছে আত্মিক যোগ। এ সিনেমার পাত্রপাত্রীও আলাদা। প্রথম কিস্তিতে ছিলেন জাহ্নবী কাপুর ও ঈশান খাট্টার। এ ছবিতে আছেন সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী ও তৃপ্তি দিমরি।
মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে কথা বলেছেন নির্মাতা অনুরাগ কশ্যপ। তিনি এটিকে তুলনা করেছেন গুরু দত্ত ও রাজ কাপুরের সিনেমার সঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুরাগ লিখেছেন, ‘আজকাল নির্মাতারা সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে মূলধারার সিনেমা বানানোর কথা যেন ভুলেই গেছেন। এই ছবিতে এমন এক গল্প উঠে এসেছে, যা আমরা প্রতিদিনের জীবনে এড়িয়ে যাই। অথচ মূলধারার সিনেমা তো এমনই হওয়ার কথা ছিল। রাজ কাপুর, বিমল রায়, গুরু দত্ত, কে এ আব্বাস, বি আর চোপড়া, যশ চোপড়ার মতো কিংবদন্তি নির্মাতারা এভাবেই কাজ করতেন। আমরা যেন সেই ধারা হারিয়ে ফেলেছি। এখন সামাজিক বার্তাবাহী সিনেমাগুলো শুধু স্বাধীন শৈল্পিক ধারার সিনেমার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু তামিল সিনেমা, এমনকি দক্ষিণের অনেক ছবিই এখনো এই চর্চা ধরে রেখেছে।’
‘ধড়ক ২’ সিনেমাটি আলোচিত তামিল সিনেমা ‘পারিয়েরুম পেরুমাল’-এর হিন্দি রিমেক। মুক্তির পর সমালোচকদের প্রশংসাও পেয়েছে সিনেমাটি। দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া লিখেছে, ‘শাজিয়া ইকবালের রিমেকটি জাতবৈষম্যবিরোধী গল্প বলার ধারায় একটি সাহসী সংযোজন।’
দ্য হিন্দু সিনেমাটি নিয়ে লিখেছে, ‘যেখানে এক তরুণ-তরুণীর প্রেমে জাতপাতই এখানে প্রধান খলনায়কে। নির্মাতা বড় ব্যানারে ছবিটি বানিয়েছে কিন্তু চেষ্টা করেছেন সিনেমার মূল আত্মা ধরে রাখতে। তবে বলিউডের সিনেমায় সামাজিক বাস্তবতা এত দিন ছিল যেন পাঠ্যক্রমের বাইরে, নির্মাতা সেই বাস্তবতাকে পর্দায় আনার চেষ্টা করেছেন; এ জন্য তাঁর ধন্যবাদ পাওনা।’
সমালোচকেরা ছবিতে সিদ্ধান্ত ও তৃপ্তির অভিনয়েরও প্রশংসা করেছেন। ২০২৩ সালের সিনেমাটির প্রিপ্রোডাকশনের কাজ শুরু হয়। গত বছরের নভেম্বরে শুরু হয় শুটিং। মধ্যপ্রদেশ ছাড়াও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে ছবিটির শুটিং।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস