বিচ্ছেদ থেকে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে বিকৃত যৌনতার অভিযোগ, বারবার আলোচনায় সুস্মিতা

সুস্মিতা রায়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

বিচ্ছেদের পর সদ্যই নতুন করে সংসার পেতেছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী-ইনফ্লুয়েন্সার সুস্মিতা রায়। তাঁকে বহু মানুষ যেমন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তেমনি কটাক্ষও করেছেন অনেকে। এসবের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর বিকৃত যৌন ইচ্ছা, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন অভিনেত্রী। বিচ্ছেদ থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে বিকৃত যৌনতার অভিযোগ—কয়েক মাস ধরেই আলোচনায় সুস্মিতা।

যেভাবে পরিচিতি
সুস্মিতা রায়কে দর্শক ‘জগদ্ধাত্রী’ থেকে শুরু করে ‘কৃষ্ণকলি’, ‘অপরাজিতা অপু’ ধারাবাহিকে দেখেছেন। সুন্দরবন থেকে এসে টলিউডে তিনি নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। এত কাজের মধ্যে তাঁকে সব থেকে বেশি খ্যাতি দিয়েছিল কৃষ্ণকলি ধারাবাহিকটি। বর্তমানে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং, ব্যবসা—সবটাই একা হাতে সামলাচ্ছেন।

জন্মদিনে বিচ্ছেদের ঘোষণা!
২০২৫ সালের ২০ মার্চ ছিল সুস্মিতার জন্মদিন। এদিনেই জানা যায়, তাঁর বিচ্ছেদের খবর। সামাজিক মাধ্যমে স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন সুস্মিতা। এদিন সুস্মিতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের খবর তুলে ধরেন সব্যসাচী। তিনি লেখেন, ‘ভালো থাক। বড় হ আরও। জন্মদিনে, আমার শেষতম শুভেচ্ছায় অনেক ভালো থাকিস। নতুন অধ্যায় ভালো হোক।’ এরপরই বিচ্ছেদের কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমরা আলাদা হচ্ছি। কিছু জিনিস দু তরফে মিলল না, মন খারাপ দু তরফেই। সেটা কাটিয়েই এগিয়ে যাওয়া হোক!’ সেই সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো চর্চা বা আলোচনা না করার অনুরোধও করেন সব্যসাচী। আর এই পোস্ট যে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমেই, তা–ও জানিয়ে দেন।
দম্পতির বিচ্ছেদের খবর মেনে নিয়েছেন সুস্মিতার দেবর, তথা অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, ‘কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। তাঁরা বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।’ উল্লেখ্য, আড়াই বছর আগেও একবার বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। যদিও পরবর্তী সময়ে সব মিটমাট করে আবার একসঙ্গে থাকা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই বিচ্ছেদে এসে থামল তাঁদের পথচলা।

সুস্মিতা রায়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

নতুন শুরু
বিচ্ছেদের পর চলতি মাসেই নতুন করে জীবন শুরু করেছেন সুস্মিতা। গত ১৮ মার্চ  রাতে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই কথা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী, তথা ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই। বিয়ের ছবি পোস্ট করে সুস্মিতা লিখেছিলেন, ‘এই একটা ইচ্ছে কখনো মন থেকে মুছে যায়নি। একটা শব্দ শোনার আশা—মা ডাক। আজ ৩৬ বছর বয়সে এসে সত্যিই আর কোনো ভণিতা করার সময় নেই৷ নিজেকে আর মিথ্যে সান্ত্বনা দেওয়ারও শক্তি নেই। বিয়ে করলাম…তোমরা সবাই আশীর্বাদ করো৷’

আবার বিয়ে করেছেন সুস্মিতা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

নতুন অভিযোগ
বিয়ের পর নতুন করে আবার চর্চায় সুস্মিতা ও সব্যসাচী। এর মধ্যেই গতকাল রাতে সাবেক স্বামীর সঙ্গে একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন সুস্মিতা। সেখানে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ অভিনেত্রীর। এরপর তিনি লাইভে আসেন। সেখানেই অতীত তুলে ধরেন। অভিযোগ করেন, এখনো চক্রবর্তী পরিবার; অর্থাৎ সব্যসাচী ও সায়ক তাঁর গোপন কথা ফাঁস করার হুমকি দিচ্ছেন। তাই নিজেই সব জানাবেন বলে জানান। সেই লাইভেই নিজের একাধিক বিয়ে ও সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। এরপরই সাবেক স্বামী সব্যসাচীর বিকৃত যৌনতা নিয়ে মুখ খোলেন। সুস্মিতার দাবি, বিয়ের পরও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সব্যসাচীর।

সুস্মিতা ও সব্যসাচী। কোলাজ

সুস্মিতার দাবি, তাঁর সামনেই একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন সব্যসাচী। এ ছাড়া বিভিন্ন জিনিস ও টাকাপয়সা তো নিয়েছেনই। সুস্মিতার যুক্তি, তিনি ভালোবেসে সবটা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু একটা পর্যায়ের পর বাধ্য হয়েছেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে। কারণ, চক্রবর্তী পরিবার চায়নি, সন্তান আসুক তাঁর কোলে।

আরও পড়ুন

এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেন সব্যসাচী। তিনি লেখেন, ‘প্রথমত, সুস্মিতার এটা ৫ নম্বর বিয়ে। আমার সঙ্গে আলাপ দ্বিতীয় বিয়ের সময়। আমি একটু ধাক্কা খেলেও হজম করেছি। ওর প্রবল সন্দেহবাতিকতা আমি সহ্য করেছি। আমি মার খেয়েছি। সুস্মিতার মারধর, অশান্তি, একাধিক সম্পর্ক বাড়াবাড়ি ছিল। প্রশ্ন তুললে আমার ঘাড়ে ফেলা হতো। আমার চরিত্র নিয়ে একইভাবে প্রশ্ন উঠত। এভাবেই ও বেরিয়ে গিয়েছিল আরেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। একটা ওয়েব সিরিজ করেছিল তাঁর টাকায়। সুস্মিতা বরাবরই বড়লোক হতে চাইত। বিয়ের পর সত্যি আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। ও এর সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন স্বেচ্ছাচারিতা করে গিয়েছে। বদলে আমাকে গিফট দেওয়ার ব্যবস্থা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই তারকার পক্ষে–বিপক্ষে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ আবার পুরোনো জীবন নিয়ে ক্ষোভ না ঝেড়ে কাজ আর নতুন সংসারে মন দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন সুস্মিতা ও সব্যসাচীকে।

আনন্দবাজার ও সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে