দেহরক্ষী, সহশিল্পী—ভাইয়ের মর্যাদা দিয়েছেন ঐশ্বরিয়া–দীপিকারা
আজ ভারতে উদ্যাপিত হচ্ছে রাখিবন্ধন। সে দেশে ভাই-বোনের ভালোবাসা ও পারস্পরিক নির্ভরতার প্রতীক এই উৎসব। তবে রাখির বন্ধন এখন আর শুধু সহোদর ভাই-বোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভালোবাসা, বিশ্বাস আর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থেকে অনেকে একে অপরকে ভাই-বোনের মর্যাদা দেন।
ভারতের বিনোদনজগতেও এমন কয়েকজন তারকা রয়েছেন, যাঁরা পর্দায় কিংবা কাজের সূত্রে কাছাকাছি এসেছেন। পরে সেই পরিচয় রূপ নিয়েছে ভাই-বোনের মতো গভীর সম্পর্কে। বছরের পর বছর রাখি পরিয়ে তাঁরা উদ্যাপন করছেন এই বিশেষ বন্ধন।
ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও সোনু সুদ
২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যোধা আকবর’ সিনেমায় ভাই-বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও সোনু সুদ। আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত ঐতিহাসিক সিনেমাটিতে ঐশ্বরিয়া ছিলেন যোধাবাই, আর তাঁর ভাই সুজামলের চরিত্রে অভিনয় করেন সোনু।
পর্দার সেই সম্পর্ক পরে বাস্তব জীবনেও ভাই-বোনের বন্ধনে রূপ নেয়। রাখিবন্ধনে ঐশ্বরিয়া সোনুর হাতে রাখি পরান। সোনুও দিনটিতে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন।
গৌরী খান ও সাজিদ খান
পরিচালক সাজিদ খানকে নিজের ভাইয়ের মতো মনে করেন শাহরুখ খানের স্ত্রী ও প্রযোজক গৌরী খান। প্রতিবছর রাখিবন্ধনে সাজিদের হাতে রাখি পরান তিনি। সাজিদের বোন ফারাহ খান ও শাহরুখ খানের পরিবারের মধ্যে বহু বছরের বন্ধুত্ব। দুই পরিবারের এই ঘনিষ্ঠতা থেকেই গৌরী ও সাজিদের সম্পর্কও ভাই-বোনের মতো হয়ে উঠেছে।
অশনূর কউর ও রোহন মেহরা
জনপ্রিয় হিন্দি ধারাবাহিক ‘ইয়ে রিশতা ক্যা কহেলাতা হ্যায়’-এ ভাই-বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অশনূর কউর ও রোহন মেহরা। ধারাবাহিকটিতে রোহন ছিলেন নক্ষ, আর অশনূর অভিনয় করেন নায়রার চরিত্রে।
পর্দার ভাই-বোনের সেই সম্পর্ক বাস্তব জীবনেও গভীর হয়েছে। রোহনকে নিজের ভাইয়ের মতোই দেখেন অশনূর। প্রতিবছর তাঁর হাতে রাখি পরান। সুখে-দুঃখেও তাঁরা একে অপরের পাশে থাকেন।
দীপিকা পাড়ুকোন ও জালাল
দীর্ঘদিন ধরে দীপিকা পাড়ুকোনের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন জালালউদ্দিন শেখ, বলিউডে যিনি জালাল নামেই পরিচিত। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সিনেমার প্রচারণা কিংবা ব্যক্তিগত সফর—সবখানেই তাঁকে দীপিকার পাশে দেখা যায়।
দীর্ঘদিনের এই পেশাগত সম্পর্ক একসময় পারিবারিক বন্ধনে রূপ নেয়। জালালের হাতে রাখি পরিয়ে তাঁকে ভাইয়ের মর্যাদা দিয়েছেন দীপিকা। ফলে তাঁদের সম্পর্ক এখন আর কেবল অভিনেত্রী ও দেহরক্ষীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
নিয়া শর্মা ও ক্রিস্টল ডি’সুজা
‘এক হাজারোঁ মে মেরি বহনা হ্যায়’ ধারাবাহিকে দুই বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নিয়া শর্মা ও ক্রিস্টল ডি’সুজা। নিয়া ছিলেন মানভি, আর জীবিকার চরিত্রে অভিনয় করেন ক্রিস্টল।
ধারাবাহিক শেষ হয়েছে অনেক আগেই, তবে তাঁদের বন্ধুত্ব এখনো অটুট। বাস্তব জীবনেও একে অপরকে বোনের মতোই দেখেন তাঁরা। রাখিবন্ধনে পরস্পরকে রাখি পরিয়ে দিনটি উদ্যাপন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সেই উদ্যাপনের ছবি ও ভিডিও অনুরাগীদেরও নজর কাড়ে।
রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্মান যে মানুষকে আপন করে তুলতে পারে, বিনোদনজগতের এই সম্পর্কগুলো তারই উদাহরণ।