সানির দুই ছেলের সঙ্গে অভিনয় করে আলোচনায়, কে এই অভিনেত্রী

সানি দেওলের দুই ছেলের সঙ্গে অভিনয় করে আলোচনায় এই নায়িকা। কোলাজ

বলিউড তারকা দেওলের দুই ছেলে কারণ দেওল ও রাজবীর দেওল—দুজনের সঙ্গেই অভিনয় করেছেন কানিকা কাপুর। রাজবীরের সঙ্গে ‘দোনো’ ছবিতে অভিনয়ের পর এবার কারণের সঙ্গে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এ দেখা যাবে তাঁকে। রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় ছবিটির প্রযোজক আমির খান। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন সানি দেওল, প্রীতি জিনতা, শাবানা আজমি ও আলী ফজল।

মুক্তির আগে বলিউড হাঙ্গামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা, সানি দেওলের সঙ্গে কাজ এবং তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে কথা বলেছেন কানিকা।

‘একটু ভয়ও লাগছে’
ছবিটি মুক্তির আগে কেমন লাগছে—জানতে চাইলে কানিকা বলেন, ‘অনেক রকম অনুভূতি হচ্ছে। একটু ভয়ও লাগছে। ভাবছি, দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে। তবে এখন পর্যন্ত যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তা খুবই ইতিবাচক। তাই উত্তেজনাও আরও বেড়ে গেছে। এই ছবির অংশ হতে পেরে আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ।’

কানিকা কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

যেভাবে ছবিতে সুযোগ
২০২৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল কানিকার অভিনীত ‘দোনো’। ছবিটি দেখেছিলেন পরিচালক রাজকুমার সন্তোষী। ছবিতে রাজবীর দেওল অভিনয় করায় সম্ভবত তাঁর নজরে কানিকাও এসেছিলেন।

কানিকা বলেন, ‘রাজ স্যার ছবিটি দেখেছিলেন। সম্ভবত রাজবীর অভিনয় করেছিল বলেই তিনি ছবিটি দেখেছিলেন। এরপর তিনি আমাকে এই চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে বলেন। প্রথমে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়, এরপর একাধিক অডিশনবার দিই।’
তত দিনে কানিকা জেনে গিয়েছিলেন, কোন ছবির জন্য অডিশন দিচ্ছেন। আর সেটাই তাঁকে আরও নার্ভাস করে দিয়েছিল।

‘আপনি যখন জানেন না, কোন ছবির জন্য অডিশন দিচ্ছেন, তখন বিষয়টি সহজ থাকে। কারণ, ছবিটির ব্যাপ্তি সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকে না। কিন্তু আমি জানতাম, ছবিটি অনেক বড় পরিসরে তৈরি হচ্ছে। ফলে চাপও বেড়ে গিয়েছিল। আমি অডিশনটি পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম,’ বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্ক্রিন টেস্টের পর চরিত্রটি পান কানিকা।

সানি দেওলের দুই ছেলের সঙ্গেই অভিনয়
রাজবীর দেওল ও কারণ দেওল—সানি দেওলের দুই ছেলের সঙ্গেই অভিনয় করার বিষয়ে কানিকা বলেন, এটি তাঁর জন্য ‘দারুণ এক কাকতালীয় ঘটনা’।
‘দোনো’র শুটিংয়ের সময় রাজবীরের সঙ্গে থাইল্যান্ডে একটি শিডিউল ছিল। সে সময় সানি দেওল, তাঁর স্ত্রী ও কারণ, রাজবীরের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানেই প্রথম কারণের সঙ্গে পরিচয় কানিকার।
‘তাই কারণকে আমি আগে থেকেই চিনতাম। পরে এই সিনেমার প্রস্তুতির সময় আবার দেখা হলে সেও আমাকে মনে রেখেছিল। ফলে আমাদের খুব সহজেই ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়,’ বলেন অভিনেত্রী।

কানিকা কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

‘তারকা সন্তানদের অনেক অহংকার থাকে’—ধারণা ভুল
বলিউডে প্রায়ই তারকা-সন্তানদের নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হয়। কানিকাকেও বলা হয়েছিল, তারকা পরিবারের সন্তানদের নাকি অনেকের মধ্যে অহংকার থাকে। কিন্তু কারণ ও রাজবীরের সঙ্গে কাজ করে তাঁর অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা।
কানিকা বলেন, ‘আমাকে প্রায়ই বলা হতো, তারকা-সন্তানদের অনেক অ্যাটিটিউড থাকে। কিন্তু রাজবীর ও কারণ দুজনই এতটাই মাটির মানুষ ও ভদ্র যে তাঁদের দেখে ভালো লেগেছে।’ তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, তাঁদের কীভাবে বড় করা হয়েছে।
সানি দেওলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য বলে মনে করেন কানিকা।

‘সানি স্যারও ঠিক এমনই। তিনি ভীষণ বিনয়ী। তাঁর প্রতিটি শট বা সংলাপের পর পরিচালক “কাট” বললেই পুরো ইউনিট হাততালি দিত। কিন্তু এত প্রশংসার পরও তিনি মাটির মানুষ হিসেবেই থাকতেন। আমার মনে হয়, কারণ ও রাজবীর বাবার কাছ থেকেই এই গুণ পেয়েছে,’ বলেন কানিকা।

কানিকা কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সানি দেওলের চিৎকারে ভয় পেয়েছেন?
সম্প্রতি প্রীতি জিনতা জানিয়েছিলেন, সানি দেওলকে প্রচণ্ড জোরে চিৎকার করতে শুনে তিনি কাঁপতে শুরু করেছিলেন। কানিকারও কি এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে? হেসে অভিনেত্রী জানান, ছবিতে তাঁর বেশির ভাগ দৃশ্যই কারণ দেওলের সঙ্গে। এমন কিছু সময় ছিল, যখন তাঁর দৃশ্যের শুটিংয়ের আগে সানি দেওলের দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছিল। তখন দূর থেকে সানির অভিনয় দেখার সুযোগ পেতেন তিনি।
‘কয়েকবার তাঁকে চিৎকার করতে দেখেছি। তবে সৌভাগ্যবশত আমি তাঁর থেকে বেশ দূরে ছিলাম,’ বলেন কানিকা।

কানিকার মতে, ‘আপনি যদি এমন কোনো দৃশ্যে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেন, যেখানে তাঁকে চিৎকার করতে হবে, তাহলে যে কেউ ভয় পেয়ে যাবে!’

রাজকুমার সন্তোষীর অভিনয় শেখানোর ধরন
পরিচালক রাজকুমার সন্তোষী অভিনেতাদের সামনে নিজেই দৃশ্য অভিনয় করে দেখান—এ কথা অনেক অভিনেতাই বলেছেন। কানিকার ক্ষেত্রেও কি এমন হয়েছে? কানিকা জানান, বিশেষ করে স্ক্রিপ্ট পড়ার সময় সন্তোষী তাঁকে অনেক সাহায্য করেছেন।

‘তিনি আমাদের বলতেন, কীভাবে সংলাপ বলতে হবে। ধরুন, কোনো দৃশ্যে আমাকে ভয় পেতে হবে, তাহলে তিনি নিজেই ভয় পাওয়া অবস্থায় সংলাপ বলে দেখাতেন। তিনি যেভাবে বিষয়গুলো বোঝান, সেটা খুবই মজার ও মিষ্টি,’ বলেন অভিনেত্রী।
তবে সেটে পৌঁছানোর পর সন্তোষী অভিনেতাদের নিজেদের মতো করে অভিনয় করার সুযোগ দেন। কানিকার ভাষায়, ‘তিনি যদি চান কোনো দৃশ্যে আমরা একটু সংযত অভিনয় করি, কিংবা আরও আবেগ প্রকাশ করি, তাহলে সেটা বলে দেন। তবে বেশির ভাগ সময় তিনি রিহার্সাল ও স্ক্রিপ্ট রিডিংয়ের সময়ই আমাদের সঠিকভাবে গাইড করতেন।’

কানিকা কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

কে এই কানিকা
একটি পোস্টার। তারপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হইচই। অনেকেই ছবির অভিনেত্রীকে দেখে প্রথমে ভেবেছিলেন, তিনি কিয়ারা আদভানি। পরে জানা গেল, পোস্টারে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তিনি কিয়ারা নন-তরুণ অভিনেত্রী কানিকা কাপুর। রাজকুমার সন্তোষীর ‘বাঁটওয়ারা ১৯৭৪’-এর পোস্টার প্রকাশের পর এই ভুল চেনাই নতুন করে আলোচনায় এনেছে অভিনেত্রীকে।

তবে কানিকার পরিচিতি শুধু এই একটি পোস্টারের কারণে নয়। অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছেন তিনি। আর নতুন সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারে নিঃসন্দেহে বড় একটি অধ্যায়।

আরও পড়ুন

কানিকা কাপুরের জন্ম ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ, নয়াদিল্লিতে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। ১৩ বছর বয়সে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি থিয়েটারেও অভিনয় করেছেন। পরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেন।

তবে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল মডেলিং। ১৮ বছর বয়সে মডেলিং শুরু করেন তিনি। এরপর একাধিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য পান।

২০১৫ সালে তেলুগু সিনেমা ‘তিপ্পু’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন, ওয়েবসিরিজ—বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি।

হিন্দি টেলিভিশনে ‘এক দুজে কে ভাস্তে ২’-এ সুমন তিওয়ারির চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। এ ছাড়া ওয়েব ও টেলিভিশনের আরও কয়েকটি প্রকল্পেও কাজ করেছেন।

২০২৩ সালে ‘দোনো’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় এই তরুণ অভিনেত্রীর।

বলিউড হাঙ্গামা অবলম্বনে