আট বছরের বাগ্‌দান, তবু কেন বিয়ে করবেন না? জানালেন নায়িকা

পূজা বেদি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বলিউড অভিনেত্রী পূজা বেদি আবারও আলোচনায়। তবে এবার নতুন কোনো সিনেমা বা টেলিভিশন অনুষ্ঠান নয়; বরং ব্যক্তিগত জীবনের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে। বাগ্‌দত্তা মানেক কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে আট বছর ধরে আংটিবদল হলেও তাঁরা বিয়ে করবেন না—এমন ঘোষণাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পূজা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তাঁদের সম্পর্কে প্রতিশ্রুতির অভাব নেই; তাই সেই সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দিতে বিয়ের প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না।

ভারতীয় সমাজে বিয়ে শুধু দুজন মানুষের সম্পর্ক নয়, দুই পরিবারের বন্ধন হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই দীর্ঘদিন বাগ্‌দান থাকার পরও বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। কিন্তু পূজা বেদি মনে করেন, সম্পর্কের মূল শক্তি কাগজে-কলমে নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মানে।

সাক্ষাৎকারে পূজা ব্যাখ্যা করেন, বাগ্‌দানের অর্থই হলো একজন আরেকজনকে জানিয়ে দেওয়া যে তাঁরা সারা জীবন একসঙ্গে থাকতে চান। সঙ্গী, বন্ধু, প্রেমিক কিংবা পরিবারের সদস্য হিসেবে একে অপরের পাশে থাকার এই অঙ্গীকারই তাঁর কাছে যথেষ্ট। এরপর বিয়ে মূলত সরকারি নথিতে একটি স্বাক্ষরমাত্র। তাঁর ভাষায়, সম্পর্কে যখন প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তখন সেই সম্পর্ককে বৈধতা দেওয়ার জন্য আর বাড়তি কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয় না।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও বড় ভূমিকা রেখেছে। পূজা বেদি একসময় ব্যবসায়ী ফারহান ফার্নিচারওয়ালার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—মেয়ে আলায়া এফ ও ছেলে ওমর। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা তাঁকে বিয়ে সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তাঁর কথায়, তিনি বিয়ে করেছেন, বিচ্ছেদও দেখেছেন। তাই জীবনের এই পর্যায়ে এসে আর নিজেকে কোনো আইনি চুক্তির মধ্যে আবদ্ধ করতে চান না।

মানেক কন্ট্রাক্টরের জীবনেও একই অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনিও আগে বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁরও সন্তান রয়েছে। ফলে দুজনই জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন। পূজার মতে, তাঁদের দুজনেরই নিজস্ব আয় রয়েছে, আর্থিকভাবে কেউ কারও ওপর নির্ভরশীল নন। প্রত্যেকের সম্পদ নিজ নিজ সন্তানের কাছেই যাবে। তাই বিয়ে তাঁদের জীবনে নতুন কোনো নিরাপত্তা বা সুবিধা এনে দেবে না।

তবে পূজা বিয়ের বিরোধিতা করেন না। বরং তিনি মনে করেন, বিয়ে একটি সুন্দর সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং যাঁরা নতুন জীবন শুরু করছেন, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের জীবন, অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজন এক নয়। তাঁর নিজের জীবনের বাস্তবতা তাঁকে অন্য সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছে।

আরও পড়ুন

পূজা ও মানেকের সম্পর্কের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। দুজন একই স্কুল দ্য লরেন্স স্কুল, সানাওয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন। বহু বছর পর স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তাঁদের আবার যোগাযোগ হয়। বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে সম্পর্কে রূপ নেয়। ২০১৯ সালে একটি হট-এয়ার বেলুনে ভ্রমণের সময় মানেক তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সেই মুহূর্তের কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূজা লিখেছিলেন, ‘জীবনের ঝড়ের শেষে রংধনুর মতো সুখ’ খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

মজার বিষয় হলো, সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলেও বিয়ে নিয়ে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। শুরুতে বিয়ের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তাঁরা উপলব্ধি করেন, সম্পর্কের জন্য আনুষ্ঠানিক বিয়ে অপরিহার্য নয়। ফলে বাগ্‌দানই তাঁদের কাছে স্থায়ী প্রতিশ্রুতির প্রতীক হয়ে থাকে।

দ্য হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

পূজা বেদি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে