ভারত হারলেই নাগমার দোষ! সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে সত্যিই কি প্রেম ছিল নায়িকার

সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে নাগমার প্রেমের গুঞ্জন ছিলকোলাজ

দুই দশক আগের কথা। টেলিভিশনে ভারতীয় ক্রিকেট দল হারলেই এক নাম ভেসে উঠত আলোচনায়—নাগমা। ক্রিকেটপ্রেমীদের এক বড় অংশের অভিযোগ ছিল, সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবনে ‘অন্য কারও উপস্থিতি’ নাকি তাঁর খেলায় প্রভাব ফেলছে। আর সেই ‘অন্য কেউ’ বলতে তাঁরা ইঙ্গিত করতেন অভিনেত্রী নাগমার দিকেই।

যদিও প্রকাশ্যে কেউ কখনো মুখ খোলেননি। তবু ক্রিকেট–বলিউড ঘিরে সম্পর্কের সেই গুঞ্জন একসময় তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। গত ২৫ ডিসেম্বর এই অভিনেত্রীর জন্মদিন ছিল। অর্ধশতক পূর্ণ করলেন সেই নাগমা—বলিউডের আলোচিত ও বিতর্কিত এক নায়িকা।

সালমানের হাত ধরে শুরু

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বলিউডে আবির্ভূত হন নাগমা। মাত্র ১৬–১৭ বছর বয়সেই তাঁর নায়িকা–জীবন শুরু। ১৯৯০ সালে সালমান খানের বিপরীতে ‘বাঘী: এ রেবেল ফর লাভ’ ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি পরিচিতি পান তিনি।

ছবিটি সে বছর বলিউডে সর্বাধিক ব্যবসাসফল ছবির মধ্যে ছিল, আর নতুন নায়িকা হিসেবেই নাগমা নিশ্চিত জায়গা করে নেন দর্শকের মনে। এরপর তাঁর যাত্রা থামেনি—শাহরুখ খান, অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগন, সুনীল শেঠি—তখনকার জনপ্রিয় প্রায় সব নায়কের সঙ্গেই কাজ করেছেন তিনি। শুধু হিন্দি নয়, তিনি সমান সাফল্য পেয়েছেন দক্ষিণি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও।

২০০০ সালের দিকটা ছিল যেন রূপকথার মতো—তবে শেষটা কিন্তু ছকভাঙা! আচমকাই বলিউড আর ক্রিকেট মিলিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এক কানাঘুষা—ভারতের অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী নাকি প্রেমে পড়েছেন অভিনেত্রী নাগমার। খবরটা যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো ছড়িয়ে পড়ে। টিভির সংবাদ থেকে পাড়ার চায়ের দোকান—সবখানেই তখন শুধু আলোচনা, ‘দাদা–নাগমা কি তবে সত্যিই?’

তামিল, তেলুগু, মালয়ালম ও কন্নড়ের বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন, এমনকি পরে ভোজপুরি, পাঞ্জাবি ও মারাঠি সিনেমাতেও নিয়মিত দেখা গেছে তাঁকে। রজনীকান্তের সঙ্গেও তাঁর অভিনয় ছিল বিশেষ আলোচনায়।

ফলে অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন বহুভাষিক সিনেমার জনপ্রিয় ও ‘গ্ল্যামারাস’ নায়িকা। তবে পর্দার এই সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও তিনি ছিলেন মিডিয়ার স্থায়ী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপেই যার ছায়া পড়েছে কমবেশি।

তবে এই সম্পর্কে ‘পরকীয়ার’ অভিযোগ ওঠায় শুরু হয় সমালোচনা। পরে ভোজপুরি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করলে আবারও নতুন করে তাঁর নাম জড়ায় অভিনেতা রবি কিষাণের সঙ্গে। রবি একাধিক সাক্ষাৎকারে সম্পর্কের ইঙ্গিত দিলেও নাগমা ছিলেন অপেক্ষাকৃত নীরব। একই সময়ে আরেক ভোজপুরি অভিনেতা মনোজ তিওয়ারির সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতার খবর প্রকাশ্যে আসে। ফলে পর্দার সাফল্যের চেয়ে ব্যক্তিজীবন নিয়ে বিতর্কই যেন বেশি আলোচনায় আসে।

সৌরভ–নাগমা: রহস্যঘেরা সম্পর্ক
২০০০ সালের দিকটা ছিল যেন রূপকথার মতো—তবে শেষটা কিন্তু ছকভাঙা! আচমকাই বলিউড আর ক্রিকেট মিলিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এক কানাঘুষা—ভারতের অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী নাকি প্রেমে পড়েছেন অভিনেত্রী নাগমার। খবরটা যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো ছড়িয়ে পড়ে। টিভির সংবাদ থেকে পাড়ার চায়ের দোকান—সবখানেই তখন শুধু আলোচনা, ‘দাদা–নাগমা কি তবে সত্যিই?’

অভিনেত্রী নাগমা
ফেসবুক থেকে

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো—দুজনের কেউই মুখ খোলেননি। এর মধ্যেই শুরু হলো অদ্ভুত এক প্রবণতা। ভারত ম্যাচ হারলেই ভুলটা ধরা পড়ত একদম নাগমার ঘাড়ে! কেউ কেউ বলতেন—‘দাদা নাকি মাঠের বদলে প্রেমেই বেশি মন দিচ্ছেন!’ কতটা সত্যি, তার প্রমাণ নেই—তবু এই অভিযোগ এমন নিয়মিত হয়ে উঠল যে নাগমা যেন অঘোষিতভাবে দলের ‘স্কেপগোট’ হয়ে গেলেন।

এ নিয়েই বাড়তে থাকে চাপ, মিডিয়ার তোলপাড় আর ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন। বছরের পর বছর নীরবতা বজায় থাকলেও গুঞ্জন থামেনি। আর ঠিক কখন, কীভাবে পথ আলাদা হয়ে গেল—তার উত্তর আজও ধোঁয়াশার মতোই রয়ে গেছে। শুধু এটুকুই সত্য—সৌরভ–নাগমাকে ঘিরে রহস্যটা আজও বলিউড–ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে চর্চিত প্রেমকাহিনিগুলোর একটি।

২০০৪ সালে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান অভিনেত্রী নাগমা। এর পর থেকেই তিনি কংগ্রেসের হয়ে নিয়মিত সভা–সমাবেশ, জনসংযোগ ও প্রচারণায় অংশ নিতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে রাজনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশেষ করে নারী ও সামাজিক অধিকার–সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

প্রেম, বিতর্ক আর ক্যারিয়ারের পতন
সৌরভের পর দক্ষিণি তারকা শরৎ কুমারের সঙ্গেও নাগমার নাম জড়ায়। তখন দুজনকে বেশ কিছু সফল দক্ষিণি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যেত। কাজের সূত্রে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে—এমনটাই প্রচারমাধ্যমের দাবি।

নাগমা। আইএমডিবি

তবে এই সম্পর্কে ‘পরকীয়ার’ অভিযোগ ওঠায় শুরু হয় সমালোচনা। পরে ভোজপুরি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করলে আবারও নতুন করে তাঁর নাম জড়ায় অভিনেতা রবি কিষাণের সঙ্গে। রবি একাধিক সাক্ষাৎকারে সম্পর্কের ইঙ্গিত দিলেও নাগমা ছিলেন অপেক্ষাকৃত নীরব। একই সময়ে আরেক ভোজপুরি অভিনেতা মনোজ তিওয়ারির সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতার খবর প্রকাশ্যে আসে। ফলে পর্দার সাফল্যের চেয়ে ব্যক্তিজীবন নিয়ে বিতর্কই যেন বেশি আলোচনায় আসে।

এই সবকিছু মিলিয়ে ধীরে ধীরে প্রভাব পড়ে তাঁর ক্যারিয়ারে। স্ক্রিনে হিট ছবির সংখ্যা কমতে শুরু করে, নতুন ছবির প্রস্তাবও তুলনামূলকভাবে কমে আসে। আলোঝলমলে বলিউড ও দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরে গিয়ে ধীরে ধীরে আড়ালেই চলে যান নাগমা। ক্যারিয়ারের এই মোড় পরিবর্তনের পেছনে ব্যক্তিজীবনের আলোচনাই বড় কারণ হয়ে উঠেছিল—এমনটাই মনে করেন অনেকেই।

রাজনীতিতেই নতুন জীবন
২০০৪ সালে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান অভিনেত্রী নাগমা। এর পর থেকেই তিনি কংগ্রেসের হয়ে নিয়মিত সভা–সমাবেশ, জনসংযোগ ও প্রচারণায় অংশ নিতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে রাজনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশেষ করে নারী ও সামাজিক অধিকার–সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি উত্তর প্রদেশের মিরাট আসন থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হন, যদিও শেষ পর্যন্ত জয় পাননি। তারপরও দলীয় দায়িত্ব থেকে সরে যাননি; বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন ও প্রচারণায় এখনো কংগ্রেসের মুখ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রায় দুই দশক ধরে সিনেমা থেকে দূরে থেকে নাগমা বর্তমানে নিজেকে পুরোপুরি রাজনীতি ও সামাজিক কাজের সঙ্গেই যুক্ত রেখে চলেছেন।

এক জীবনে নাগমার জীবনে প্রেম এসেছে, চলে গেছে—কিন্তু সবচেয়ে আলোচিত থেকেছে সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে তাঁর সেই রহস্যময় সম্পর্ক। ভারত হেরেও তাঁকে দায় নিতে হয়েছে—এমন ঘটনাও বিরল নয়। সব মিলে বলিউড–ক্রিকেট–রাজনীতি—সব মিলে নাগমার জীবন যেন এক সিনেমার মতোই রঙিন, আবার একই সঙ্গে ঝড়ঝাপটার গল্পও।

শৈশবের টানাপোড়েন ও নাগমার এক জীবন
নাগমার ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন যেন শুরু হয়েছিল শৈশব থেকেই। তাঁর বাবা ছিলেন শিবরাম সাদাশিব রাও, মহারাষ্ট্রের এক সমৃদ্ধ ব্যবসায়ী হিন্দু পরিবার থেকে উঠে আসা। মা সাইরা মেনন ছিলেন মুসলিম। দুজনের বিয়ের মধ্যেই শুরু হয় মতের অমিল ও দূরত্ব। খুব বেশিদিন টেকেনি সেই সংসার।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর ছোটবেলা থেকেই দুই ভিন্ন ধর্ম–সংস্কৃতির টানাপোড়েনের মধ্যে বড় হতে হয় নাগমাকে।

আরও পড়ুন

শৈশবে বাবার বাড়ি ও মায়ের পরিবারের সঙ্গে—দুই দিকের সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয়েছে তাঁকে। এতে মানসিক চাপ তো ছিলই, পড়াশোনার ধারাবাহিকতাতেও প্রভাব পড়ে। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় অল্প বয়সেই। ফলে খুব কম বয়স থেকেই রুপালি পর্দায় কাজ শুরু করেন তিনি।

নাগমা। আইএমডিবি

মাত্র ১৬ বছর বয়সে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর, সালমান খানের বিপরীতে ‘বাঘী’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর নায়িকা–জীবন। অল্প বয়সে হঠাৎ তারকাখ্যাতি, পরিবারের ভাঙন আর ব্যক্তিগত জীবনের চাপ—সব মিলিয়েই নাগমার জীবনের শুরুর দিনগুলো ছিল একরকম লড়াইয়ের গল্প।

এক জীবনে নাগমার জীবনে প্রেম এসেছে, চলে গেছে—কিন্তু সবচেয়ে আলোচিত থেকেছে সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে তাঁর সেই রহস্যময় সম্পর্ক। ভারত হেরেও তাঁকে দায় নিতে হয়েছে—এমন ঘটনাও বিরল নয়। সব মিলে বলিউড–ক্রিকেট–রাজনীতি—সব মিলে নাগমার জীবন যেন এক সিনেমার মতোই রঙিন, আবার একই সঙ্গে ঝড়ঝাপটার গল্পও।

ইন্ডিয়াডটকম, বলিউড লাইফ, হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে