১৯ বছর বয়সে শাহরুখের ছবি ছেড়েছিলেন, সেই নায়িকা এখন কোথায়
১৯৯০-এর দশকে বলিউডে নবাগত অভিনেত্রীদের মধ্যে নিকি অ্যানেজা ছিলেন অনন্য। তাঁর মুখমণ্ডল, যা অনেকেই মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে তুলনা করেছেন, পর্দায় তাঁর উপস্থিতি এমন ছিল যে পরিচালক মুকুল আনন্দ তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি হবে সেরাদের সেরা।’ নিকি অ্যানেজার অভিনয়যাত্রা শুধু সৌন্দর্য বা সৌভাগ্যের ওপর নির্ভর করেনি—তিনি সাহস দেখিয়েছেন এবং নিজের নিয়মে কাজ করেছেন।
শুরুর গল্প
নিকি অ্যানেজার অভিনয়জগতে প্রবেশ ছিল একধরনের চমকপ্রদ। তিনি হিউস্টনে পাইলট প্রশিক্ষণ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পিতার অনুমতি পাননি। নিজস্ব স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি চুপিচুপি একটি পোর্টফোলিও শুট করেছিলেন, যেখানে তাঁর আত্মীয় পারমিত সেতির বাড়িতে অর্চনা পুরান সিংয়ের পোশাক পরেছিলেন। সেই সাহসী পদক্ষেপেই তিনি সাফল্য অর্জন করেন।
মেকআপ আর্টিস্ট মিকি কন্ট্রাক্টর তাঁকে প্রথম মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে তুলনা করেন। পরে এটিই তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মিথিবাই কলেজের প্রতিনিধিত্বে সিউলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং শান্তি দূত হিসেবে মনোনীত হন।
বলিউডে সংক্ষিপ্ত যাত্রা
নিকি অ্যানেজার চলচ্চিত্রে প্রথম অভিষেক ঘটে অনিল কাপুরের ‘মিস্টার আজাদ’ দিয়ে। তবে শুটিং চলাকালীন সময়ে তিনি চাপ অনুভব করেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি এমন সাহস দেখান, যা করতে অনেকেই সাহস দেখাননি। সে সময় তিনি ‘ইয়েস বস’ সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিলেন, কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর পরিবারের ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েন। মাত্র পাঁচ দিনের শুটিংয়ের পর তিনি সিনেমা ছেড়ে দেন এবং ১ দশমিক ৫ লাখ রুপি অগ্রিম পারিশ্রমিক ফেরত দেন। শাহরুখের ছবি থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো নিয়ে তখন বলিউডে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সিনেমা ছেড়ে টেলিভিশনে কাজ শুরু করেন এবং দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। একাধিক ধারাবাহিকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে থাকেন। পরিবারের ঋণ দ্রুতই শোধ করে দেন।
দুর্ঘটনা ও নতুন জীবন
নিকি অ্যানেজা টেলিভিশনের শীর্ষ অভিনেত্রী থাকার সময় এক দুর্ঘটনা সব বদলে দেয়। ‘ঘরওয়ালি ওপরওয়ালি’র শুটিংয়ের সময় এক দুর্ঘটনা ঘটে। একজন জুনিয়র অভিনেতার গাড়ি তাঁকে চাপা দেয়। চিকিৎসার জন্য এক মাস হাসপাতালে কাটাতে হয় তাঁকে। শুটিংয়ের এই বিরতির কারণে পাঁচটি শো বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় তাঁর সাহায্য এগিয়ে আসেন শাহরুখ খান। পরে নিকি প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে ন্যায্য মামলা করেন। তবে এ ঘটনা তাঁর জীবনে গভীর ছাপ ফেলে।
টেলিভিশনে ফিরে আসা
২০০২ সালে নিকি বিয়ে করে যুক্তরাজ্যে চলে যান। ‘আস্তিভা...এক প্রেম কাহিনি’ সিরিয়ালে ডা. সিমরান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি পুনরায় টেলিভিশনে ফিরে আসেন। পরের দশকে সন্তান লালনপালনের জন্য তিনি বিরতি নেন।
২০১৭ সালে তিনি ‘দিল সামভাল জা জারা’, ‘পাঞ্চ বিট’, ‘নেভার কিস ইওর বেস্ট ফ্রেন্ড’-এ অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে