আমার ড্যাডি ইস্যু আছে: নোরা ফাতেহি
নোরা ফাতেহি আর বিতর্ক যেন হাত ধরাধরি করে চলে। তবে তাঁর আইটেম গান মানেই হিট। তাঁর ফিটনেস ও নাচ চর্চায় থাকলেও ব্যক্তিগত জীবন সেভাবে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এবার নোরা নিজেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করলেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নোরা তাঁর জীবনের এক অন্ধকার দিক নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ড্যাডি ইস্যু আছে।’ ছোটবেলায় বাবার চলে যাওয়া এবং একা মায়ের কাছে বড় হওয়া, কীভাবে তাঁর সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে, তা অকপটে জানিয়েছেন নোরা।
নোরা ফাতেহি জানান, ছোটবেলায় মা–বাবার ডিভোর্স হয়ে যায়। তার পর থেকে বাবার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। বাবার অনুপস্থিতি তাঁর মনে পুরুষদের প্রতি একধরনের ক্ষোভ তৈরি করে। যদিও তিনি স্বীকার করে বলেন, ‘এটি আসলে আমার সমস্যা, যা একজন পুরুষের থেকেই শুরু হয়েছে।’ নোরা একে বলেছেন ‘মি প্রবলেম’ বা নিজের সমস্যা। সম্পর্ক ভালো রাখতে হলে আগে নিজের ভেতরের এই কষ্টগুলোকে চিনতে হবে।
এ ছাড়া যাঁরা ছোটবেলায় প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের মনের ভেতর সব সময় একটা ভয় কাজ করতে থাকে। নোরা স্বীকার করেছেন যে তাঁর ‘অ্যাবানডনমেন্ট ইস্যু’ বা একা হয়ে যাওয়ার ভয় এতটাই ছিল যে খারাপ সম্পর্ক থেকেও তিনি বেরোতে পারতেন না। নোরা বলেন, ‘মনে রাখবেন একা হয়ে যাওয়ার ভয়ে ভুল মানুষের সঙ্গে থাকা কখনোই সুখের হয় না। নিজেকে ভালোবাসতে শিখলে এই ভয় কমে যায়।’ অর্থাৎ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দেওয়া কোনো সমাধান নয়, বরং নিজের ভয়কে জয় করা জরুরি
নোরা জানিয়েছেন, রক্ষণশীল পরিবার আর আধুনিক জগতের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে তিনি মানসিক চাপে ভুগতেন। নোরা বলেন, ‘আপনি কী চান এবং আপনার পরিবার কী চায়—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে নিজেকে হারানো চলবে না। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাই প্রতিকূলতা কাটানোর মূল চাবিকাঠি।’
নোরা ফাতেহিও আর পাঁচটা মানুষের মতো সেলিব্রিটিদের ফ্যান ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি বোঝেন তাঁর পরিশ্রমী মা-ই ছিলেন তাঁর আসল হিরো।
তিনি বলেন, ‘জীবনের কঠিন সময়েও পাশে মা ছিল’। নোরা স্পষ্টভাবে বলেন, ‘এখনো এই মানসিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। কোনো সম্পর্ক ভেঙে গেলে দ্রুত তা ভুলে যাওয়া সব সময় সম্ভব হয় না।’ টিপসও শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। নিজেকে সময় দিন, নিজের ভুলগুলো বুঝুন এবং প্রয়োজন হলে সাইকোলজিস্টদের সাহায্য নিন। অতীতকে মেনে নিয়ে বর্তমানকে সুন্দর করাই জীবন।
সুন্দর সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন কেবল ভালোবাসা নয়, বরং নিজের ভেতরের না বলা কথাগুলো বুঝে নিয়ে সেগুলোকে শুধরে নেওয়া। অর্থাৎ নিজের দুর্বলতা বুঝতে পারা এবং তা নিয়ে কাজ করাটাই সুন্দর সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি। আর এই কাজটাই করেছেন নোরা।