পুরুষ শৌচাগারে ঐশ্বরিয়া, মরিচ দিয়ে গাজরের হালুয়া
আজ ১ এপ্রিল। বলিউড পাড়ায় এই দিনে তারকারা বন্ধুদের সঙ্গে ‘প্র্যাঙ্ক’ ও মজা করেন। এমন অনেক তারকা আছেন, যাঁরা সিনেমার সেটে ও সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে ‘প্র্যাঙ্ক’ করার জন্য পরিচিত। তাঁদের মধ্যে সবার আগে আসে দুই বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমার ও অজয় দেবগনের নাম। অক্ষয়-অজয়ের ‘প্র্যাঙ্ক’-এর অনেক গল্পই বেশ জনপ্রিয়, যা তাঁদের সহ-অভিনেতারাই শেয়ার করেছেন। এ ছাড়া বলিউডে ‘প্র্যাঙ্ক’-এর এই খেলা চলতেই থাকে। আজ জেনে নেওয়া যাক এমনই কিছু মজার ও দুষ্টুমিভরা ‘প্র্যাঙ্ক’-এর গল্প।
মরিচ দেওয়া গাজরের হালুয়া
অজয় দেবগনকে ইন্ডাস্ট্রির ‘প্র্যাঙ্ক মাস্টার’ বলা হয়। তাঁর ‘প্র্যাঙ্ক’-এর অনেক গল্পই বিখ্যাত। তেমনই একটি ঘটনা ‘সন অব সর্দার’ ছবির শুটিংয়ের সময়ের। সহ-অভিনেতা অর্জন বাজওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, একদিন অজয় তাঁকে গাজরের হালুয়া খেতে দেন, যাতে মেশানো ছিল মরিচের গুঁড়ো। অজয় বলেন, এটা নাকি সবচেয়ে সুস্বাদু হালুয়া। অর্জন প্রথমে খুব আনন্দ করে হালুয়া খেতে শুরু করেন, কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন এতে মরিচ মেশানো আছে।
হুমার ফোন থেকে বিয়ের প্রস্তাব
অক্ষয় কুমার তাঁর মজার স্বভাবের জন্যও বিখ্যাত। এই বিটাউন তারকার সহ–অভিনেতারা অনেক সময়ই তাঁর ‘প্র্যাঙ্ক’-এর শিকার। ‘কপিল শর্মা শো’-তে অক্ষয়ের ‘জলি এলএলবি’ ছবির সহ-অভিনেত্রী হুমা কুরেশি জানিয়েছিলেন যে অভিনেতা তাঁর সঙ্গে একবার ভয়ানক ‘প্র্যাঙ্ক’ করেছিলেন। শুটিংয়ের সময় অক্ষয় চুপিসারে হুমার ফোন নিয়ে বহু অভিনেতাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে হুমা লজ্জা পেয়ে পরে সবাইকে মেসেজ করে আসল সত্যিটা জানান।
এ ছাড়া ‘গোল্ড’ ছবির শুটিংয়ের সময় অক্ষয় মৌনী রায়কে ফোন বলেন তিনি একজন সাংবাদিক। মৌনী তাঁর কথা বিশ্বাস করে ফোনে সব প্রশ্নের উত্তর দেন। এই বলিউড অভিনেত্রী অনেক দিন পর জানতে পারেন যে পুরো ঘটনাই ছিল ‘প্র্যাঙ্ক’।
গরম কফির ভয়
‘দঙ্গল’ ছবির সেটে আমির খান বলিউড অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখের ওপর গরম কফি ঢেলে দেওয়ার অভিনয় করেন, এতে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডনের সঙ্গেও আমির একই ধরনের ‘প্র্যাঙ্ক’ করেছিলেন। এই বলিউড সুপারস্টার রাভিনার ওপর গরম চা ঢালার ভান করেন। অভিনেত্রী তখন হকচকিয়ে গিয়ে নিজেকে বাঁচানোর জন্য লাফিয়ে ওঠেন। পরে জানা যায় কাপটি খালি ছিল এবং থালাটি সুতো দিয়ে বাঁধা ছিল। একবার জুহি চাওলার হাতে আমির থুতু ফেলেছিলেন, যার কারণে বহু বছর তাঁদের কথা বন্ধ ছিল।
ঐশ্বরিয়াকে পুরুষ শৌচাগারে
অভিষেক বচ্চনকে বাইরে থেকে দেখে গম্ভীর মনে হয়, কিন্তু তিনি ‘প্র্যাঙ্ক’ করতে সিদ্ধহস্ত। এমনকি এ ব্যাপারে জুনিয়র বচ্চন স্ত্রী, অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকেও ছাড়েননি। অভিষেক একবার হোটেলের ঘর দেখানোর নাম করে অ্যাশকে পুরুষ শৌচাগারে নিয়ে যান। পরে বিষয়টি বুঝে ঐশ্বরিয়া খুব জোরে হেসেছিলেন।
ইটের বদলে পাটকেল
অক্ষয় কুমারকে একবার জব্দ করেছিলেন অভিনেত্রী সোনক্ষী সিনহা। ‘মিশন মঙ্গল’ ছবির শুটিংয়ের সময় অক্ষয় কুমারের ‘প্র্যাঙ্ক’-এ জেরবার ছিলেন তাঁর সহ–অভিনেতারা। তবে এর বদলা নিয়েছিলেন অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা। অক্ষয়কে চেয়ার থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন সোনাক্ষী। পরে অভিনেত্রী বলেন, ‘যদি কেউ আমাকে বিরক্ত করে, তাকে আমি এভাবেই জবাব দিই।’ একেই বলে বোধহয় ‘ইটের বদলে পাটকেল’।
ভূতের ভয়
‘শানদার’ ছবির শুটিংয়ে শহীদ কাপুর একবার ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি করে আলিয়া ভাটকে ভয় দেখিয়েছিলেন। এক মহলে এই ছবির শুটিং হচ্ছিল। একদিন অনেক রাত পর্যন্ত ছবির শুটিং চলছিল। শুটিং শেষে একজন ক্রু-সদস্য এক ভুতুড়ে কাহিনি সবাইকে শুনিয়েছিলেন। তাই মহলের পরিবেশটা আরও ভৌতিক হয়ে উঠেছিল। এদিকে ভূতের গল্প শুনে আলিয়ার অবস্থা কাহিল। শহীদের মাথায় তখন দুষ্টু বুদ্ধি খেলে। আলিয়াকে ভয় দেখানোর কথা ভাবেন তিনি।
আর ভাবা মাত্রই কাজ। আলিয়া রাতে তাঁর ঘরে শুতে যান আর ঘরের আলো নিভিয়ে দেন। এই সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন শহীদ। আলিয়ার ঘরের দরজায় তিনি কড়া নাড়াতে থাকেন এবং অদ্ভুত শব্দ করতে থাকেন, যা শুনে আলিয়া খুবই ভয় পেয়ে যান। আর তিনি জোরে চিৎকার করতে থাকেন। শহীদ আর দেরি না করে জানান যে দরজার বাইরে তিনিই ভূত সেজে ভয় দেখাচ্ছেন।
পানির মধ্যে সাইকেল
‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিতে অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রা সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন। এই ছবির সেটে তিনি ১৪ বছরের আদর্শ গৌরবের সঙ্গে ‘প্র্যাঙ্ক’ করেছিলেন। শাহরুখ খানের এই ছবিতে আদর্শ শিশুশিল্পী ছিলেন। আদর্শ এক সাক্ষাৎকার সিদ্ধার্থের এই ‘প্র্যাঙ্ক’-এর বিষয় খোলাসা করেছিলেন। এই ছবির একটা দৃশ্যে সাইকেল চালিয়ে আদর্শকে পানির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সিদ্ধার্থ বলেছিলেন যে তাঁকে সাঁতার কেটে পার হতে হবে। আদর্শ তখন সাঁতার জানতেন না, এতে তিনি ভীষণ ভয় পান। পরে জানা যায় দৃশ্যটির সঙ্গে পানির কোনো সম্পর্কই ছিল না।
এভাবেই বলিউড তারকারা শুটিংয়ের ফাঁকে মজার ‘প্র্যাঙ্ক’ করে পরিবেশকে হালকা রাখেন এবং সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে মজার মুহূর্ত তৈরি করেন।