তিনবার বিয়ে থেকে গোপন সংসার, চমকে দিয়েছিলেন এই খলনায়ক

অজিত। আইএমডিবি

পর্দায় তিনি ছিলেন ভয়ংকর, সংলাপে ছিল এক অদ্ভুত শীতলতা আর উপস্থিতিতে ছিল দাপট। কিন্তু সেই মানুষটিই ব্যক্তিজীবনে বয়ে বেড়িয়েছেন এমন এক গোপন অধ্যায়, যা আজও বিস্মিত করে। বলিউডের কিংবদন্তি ভিলেন অজিত, যিনি ‘লায়ন’ নামেই বেশি পরিচিত, তাঁর জীবন যেন সিনেমার চেয়েও নাটকীয়।

১৯৭৬ সালের ছবি ‘কালীচরণ’-এ ‘লায়ন’ চরিত্রে অভিনয়ের পর অজিত একেবারে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান। তাঁর কণ্ঠস্বর, সংলাপ বলার ভঙ্গি আর অনবদ্য স্ক্রিন প্রেজেন্স তাঁকে বলিউডের অন্যতম স্মরণীয় ভিলেনে পরিণত করে। কিন্তু পর্দার এই শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের আড়ালে লুকিয়ে ছিল জটিল সম্পর্ক, ভাঙা সংসার আর এক গোপন পরিবারের গল্প।

অজিতের ব্যক্তিজীবন ছিল বহুমাত্রিক। তিনি জীবনে তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম স্ত্রী ছিলেন গেওয়েন, একজন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান নারী। ভালোবাসার বিয়ে হলেও সন্তান না হওয়ার কারণে সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভেঙে যায়। এ চাপই অজিতের জীবনে নতুন মোড় নিয়ে আসে।

পরিবারের চাপে অজিত বিয়ে করেন নিজের চাচাতো বোন শহীদাকে। এ সম্পর্ক থেকেই তাঁর দ্বিতীয় পরিবার গড়ে ওঠে। শহীদার সঙ্গে সংসার, সন্তান—সব মিলিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক জীবন শুরু হয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। জীবনের আরও এক বাঁকে অজিত আবার বিয়ে করেন—এবার সারাহকে।

অজিত। আইএমডিবি

এই তৃতীয় বিয়ের পরই শুরু হয় সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায়। সারাহর সঙ্গে সংসার গড়লেও অজিত তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। বরং হায়দরাবাদে তাঁদের জন্য আলাদা একটি জীবন গড়ে তোলেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি এই দ্বিতীয় পরিবারকে গোপন রেখেছিলেন, এমনকি তৃতীয় স্ত্রীর কাছ থেকেও।
এই গোপন জীবনের কথা বহু বছর পর প্রকাশ্যে আনেন তাঁর ছেলে শেহজাদ খানকে। তিনি জানান, তাঁর বাবা একদিকে মুম্বাইয়ে গ্ল্যামার জগতের ব্যস্ত অভিনেতা, অন্যদিকে হায়দরাবাদে আরেকটি সংসারের দায়িত্বে নিয়োজিত। দুই জীবনের এই ভারসাম্য অজিত কীভাবে বজায় রাখতেন, তা আজও বিস্ময়ের বিষয়।

শেহজাদের কথায় উঠে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—পক্ষপাতের অভিযোগ। তাঁর দাবি, অজিতের দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁদের সন্তানদের প্রতি বেশি অনুরাগী ছিলেন। ফলে তৃতীয় সংসারে একধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। এই মানসিক দূরত্বই পরিবারের ভেতরে অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে।

আরও পড়ুন

অজিতের জীবন যেন দুই ভিন্ন বাস্তবতার গল্প। একদিকে আলোঝলমলে বলিউড, যেখানে তিনি ভিলেন হিসেবে দর্শকদের মনে ভয় ও মুগ্ধতা তৈরি করতেন। অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের অন্ধকার, যেখানে সম্পর্কের জটিলতা, গোপনীয়তা আর মানসিক টানাপোড়েন তাঁকে ঘিরে রেখেছিল।

১৯৮৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে অজিতের মৃত্যু হয়। কিন্তু মৃত্যুর পরও তাঁর জীবনের এই অজানা অধ্যায় বারবার ফিরে আসে আলোচনায়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে