ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে কেন যান না আমির খান
বলিউডে আমির খানকে বলা হয় ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। তবে তাঁর এই পরিচয় শুধু অভিনয় বা সিনেমা নির্মাণের জন্য নয়, ব্যক্তিত্বের কারণেও। চার দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার তিনি প্রমাণ করেছেন, জনপ্রিয়তার চেয়ে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ সততা, কাজের মান আর আত্মসমালোচনা। সম্প্রতি এক মাস্টারক্লাসে দেওয়া মন্তব্যে সেই দিকটাই আবার সামনে এল। আমির খান জানালেন, তিনি সাধারণত অন্য নির্মাতাদের ‘টেস্ট স্ক্রিনিং’-এ যান না। কারণ, তিনি মিথ্যা বলতে পারেন না। কোনো সিনেমা ভালো না লাগলে সেটা তাঁর মুখেই ফুটে ওঠে।
হলিউডের মতো বলিউডেও এখন ‘টেস্ট স্ক্রিনিং’ খুব পরিচিত বিষয়। সিনেমা মুক্তির আগে নির্বাচিত কিছু দর্শককে ছবিটি দেখানো হয়। তাঁদের প্রতিক্রিয়া দেখে পরিচালক বা প্রযোজক বুঝতে পারেন, কোথায় পরিবর্তন দরকার। আমির খান বহু বছর ধরেই নিজের সিনেমায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তিনি জানিয়েছেন, ১৯৮৮ সালে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ মুক্তির সময় থেকেই তিনি টেস্ট স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব বুঝেছিলেন। সেই ছবিই তাঁকে রাতারাতি তারকা বানায়।
পরে আমির খানের প্রায় সব বড় সিনেমাতেই এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি কৌতুকধর্মী একটি ছবির জন্য নাকি ২০টির বেশি ফোকাস স্ক্রিনিং করেছিলেন তিনি। কারণ, দর্শক কী ভাবছেন, সেটা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, নিজের সিনেমার ক্ষেত্রে এত খুঁতখুঁতে হলেও অন্যদের ছবির পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীতে যেতে স্বচ্ছন্দ নন তিনি।
মাস্টারক্লাসে আমির খান হেসে হেসেই বলছিলেন, ‘আমি খুব কম সিনেমা দেখি। ছোটবেলা থেকেই এমন। আমি বরং বই বেশি পড়ি।’ তারপরই আসে সেই মন্তব্য। তাঁর ভাষায়, কেউ যদি তাঁকে জিজ্ঞেস করে সিনেমা কেমন লাগল, আর যদি ছবিটি খারাপ হয়, তাহলে তিনি হয়তো বলে ফেলবেন, ‘খুব বাজে ছিল, বিরক্ত হয়ে গেছি।’ তিনি আরও বলেন, তিনি মিথ্যা বলতে পারেন না। তাই মুখ দেখেই মানুষ বুঝে যাবে তাঁর আসল প্রতিক্রিয়া।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে