শাহরুখ–বিজয়ের চেয়েও জনপ্রিয়! কে এই অভিনেতা
নেটফ্লিক্সের নতুন ছবি ‘কর্তব্য’ মুক্তির পর ভারতের বিনোদন অঙ্গনে এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। পুলকিত পরিচালিত ছবির প্রধান আকর্ষণ ছিলেন সাইফ আলী খান। কিন্তু মুক্তির পর দর্শকদের সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে আরেক অভিনেতাকে ঘিরে—যুধবীর আহালওয়াত।
এমনকি এই কৌতূহল এতটাই বেড়ে যায় যে ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ বা আইএমডিবির জনপ্রিয়তার তালিকায় তিনি পেছনে ফেলেছেন শাহরুখ খান, থালাপতি বিজয়, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, জুনিয়র এনটিআর এবং মোহনলালের মতো তারকাদের। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, যাঁকে দর্শকেরা ১৬ বছরের কিশোর ভেবেছিলেন, তাঁর প্রকৃত বয়স ৩৩ বছর!
‘হারপাল’ চরিত্রই বদলে দিল সব
‘কর্তব্য’ ছবিতে যুধবীর অভিনয় করেছেন ‘হরপাল’ নামের এক কিশোরের চরিত্রে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার এই ছেলেকে ঘিরেই ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাটকীয়তা গড়ে ওঠে।
হরপালের অসহায়ত্ব, ভয়, ক্ষোভ ও মানসিক ভাঙন এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যুধবীর যে অধিকাংশ দর্শক বিশ্বাসই করতে পারেননি, তিনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেন, ‘এই ছেলেটা কে?’ ‘ওর বয়স কত?’ ‘এ কি সত্যিই শিশু অভিনেতা?’
এই অনুসন্ধানের ঢেউ সরাসরি পৌঁছে যায় আইএমডিবিতে। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর প্রোফাইল সবচেয়ে বেশি ভিজিট হওয়া ভারতীয় তারকাদের তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।
হরিয়ানার গ্রাম থেকে অভিনয়ের মঞ্চে যুধবীর আহালওয়াতের জন্ম ও বেড়ে ওঠা হরিয়ানার ঝাঝর জেলার শেরিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা জ্ঞান সিং আহলাওয়াত ছিলেন বিএসএফের সদস্য। পরিবারের অন্য সদস্যরা যেখানে প্রচলিত পেশার দিকে ঝুঁকেছিলেন, সেখানে যুধবীর বেছে নেন অভিনয়কে।
তাঁর খাটো গড়ন ও শিশুসুলভ চেহারার কারণে অনেক সময় মানুষ তাঁকে বয়সের চেয়ে অনেক ছোট মনে করতেন। যে বিষয়টি একসময় তাঁর জন্য সীমাবদ্ধতা ছিল, সেটিই পরে সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
‘মুঘল-ই-আজম’ থেকে সিনেমা
প্রায় আট বছর ধরে যুধবীর কাজ করছেন বিখ্যাত মঞ্চনাটক ‘মুঘল-ই-আজম: দ্য মিউজিক্যাল’-এ। পরিচালক ফিরোজ আব্বাস খানের এই প্রযোজনা ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও প্রদর্শিত হয়েছে।
সিনেমায় তাঁর যাত্রা শুরু ২০১৯ সালে ‘সান্ড কি আঁখ’-এর মাধ্যমে। ছবিতে তিনি শুটার চন্দ্র তোমারের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর দেখা যায় ‘শমশেরা’ ছবিতে। পরে ‘লাভ হোস্টেল’-এ রাখেশ দিলাওয়ার চরিত্রে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের নজর কাড়ে। ২০২৫ সালে তিনি অভিনয় করেন ওয়েব সিরিজ ‘কো-এড’-এ। তবে এসব কাজের কোনোটিই তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আনতে পারেনি। সেই কাজটি করেছে ‘কর্তব্য’।
বয়স ৩৩, কিন্তু দেখতে কিশোর যুধবীরের জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড়। কারণ, সম্ভবত তাঁর চেহারা। ২০১৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ২৮ বছর বয়সেও মানুষ তাঁকে শিশু অভিনেতা মনে করত। ‘কর্তব্য’-তে এই বৈশিষ্ট্যই তাঁকে আলাদা সুবিধা দিয়েছে। কারণ, চরিত্রটির জন্য এমন একজন অভিনেতার প্রয়োজন ছিল, যিনি কিশোরের মতো দেখতে হলেও জটিল আবেগ ও ট্রমা বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রকাশ করতে পারবেন।
যুধবীর সেই কাজটি এমনভাবে করেছেন যে দর্শকেরা তাঁর অভিনয় আর বাস্তব বয়সের মধ্যে পার্থক্যই খুঁজে পাননি।
আইএমডিবির শীর্ষে ওঠার অর্থ কী?
আইএমডিবির জনপ্রিয়তার তালিকা মূলত নির্ধারিত হয় কোন তারকার প্রোফাইল কতবার দেখা হচ্ছে, তার ওপর। সাধারণত বড় বাজেটের ছবি বা সুপারস্টারদের নতুন মুক্তি পাওয়া প্রকল্পের সময় এই তালিকায় তাঁদের আধিপত্য দেখা যায়। কিন্তু যুধবীরের ক্ষেত্রে ঘটনা ভিন্ন।
এখানে কোনো বিশাল প্রচারণা ছিল না, ছিল না কোনো তারকাখ্যাতি। ছিল শুধু একটি অভিনয়, যা দর্শকদের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে, ‘এই অভিনেতা কে?’ আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হাজার হাজার মানুষ আইএমডিবিতে ঢুঁ মেরেছেন।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে