‘মনে হয়েছিল যেন অস্কার পেয়ে গেছি’

২০১১ সাল থেকে চলচ্চিত্রে কাজ করলেও ২০২৪-এ ‘হীরামন্ডি: দ্য ডায়মন্ড বাজার’-এ অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তাহা শাহ বাদুশা। শুধু তা–ই নয়, ওই ওয়েব সিরিজের কল্যাণে তাঁর হাতে এসেছে দারুণ দারুণ প্রকল্প। গত বছর করেছেন ‘পারো: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অব ব্রাইড স্লেভারি’, সামনে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে আসছে নতুন সিরিজ ‘নজদিকিয়াঁ’। এখানেই শেষ নয়, রমেশ সিপ্পি এন্টারটেইনমেন্টের তিনটি ছবিতেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। মুম্বাইয়ে প্রথম আলো প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলাপচারিতায় সাফল্যের পাশাপাশি দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান আর টিকে থাকার গল্প শোনালেন তাহা।

তাহা শাহ বাদুশা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

শৈশব ও তারুণ্যের বড় একটা সময় বিদেশে কাটানো তাহা শাহ বাদুশার জন্য মুম্বাইয়ে এসে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। শুরুতে অভিনয় শেখার প্রতিষ্ঠান আর ঘরেই কাটত তাঁর দিন। পরে অডিশনের পথে বেরিয়ে শহরের বিশালতা ও প্রতিযোগিতার চিত্র তাঁকে নাড়িয়ে দেয়। সে অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বাদুশা বলেন, ‘প্রথমে মুম্বাইকে বুঝতে হয়েছে। এখানে কীভাবে টিকে থাকতে হয়, শিখেছি। নিজেকে বদলাতে হয়েছে। আজ ১৫ বছর পর বলতে পারি, আমি এখন সত্যিকারের মুম্বাইয়ের মানুষ।’

অভিনয়ে আসার পেছনে পারিবারিক আবেগও বড় ভূমিকা রেখেছে। ছোটবেলায় অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন তাহার মা। সেই অপূর্ণ স্বপ্নই যেন ছেলের ভেতর দিয়ে পূরণ হচ্ছে। অভিনেতা বলেন, ‘মায়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কিন্তু আমি ছোটবেলা থেকেই তার সঙ্গে সিনেমা দেখতাম। মনে হয়, জীবন আমাকে সেই অসম্পূর্ণ চক্র পূরণের সুযোগ দিয়েছে। আজ আমি আমার মাধ্যমে মায়ের স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রাখছি।’

তবে তাহার অভিনয়প্রীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত শাহরুখ খানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে বসে তরুণ তাহা হঠাৎ দেখেন, ঠিক পেছনে ক্রেনে দাঁড়িয়ে আছেন শাহরুখ। মুহূর্তটি তাঁর ভেতরে আলোড়ন তোলে। পরে শাহরুখের পাশে বসার সুযোগ পেয়ে, তাঁর ভাষায়, ‘মনে হয়েছিল যেন অস্কার পেয়ে গেছি।’ সেই মুহূর্ত থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর আকর্ষণ আরও গভীর হয়।

তাহা শাহ বাদুশা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

‘হীরামন্ডি’-তে ‘তাজদার’ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে জীবনের বড় মোড় বলে মনে করেন তাহা। সঞ্জয় লীলা বানসালির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে যতই ধন্যবাদ দিই, কম হবে। তিনি আমাকে যোগ্য মনে করেছিলেন বলেই এমন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজের সুযোগ পেয়েছি। আশা করি, চরিত্রটির প্রতি সুবিচার করতে পেরেছি।’

তবে এ জায়গায় পৌঁছানোটা মোটেও সহজ ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তাহাকে অনেক প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনও সময় এসেছে, যখন একটি চরিত্র প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর হঠাৎ করেই অন্য কাউকে নিয়ে শুটিং শুরু হয়েছে। আবার কোনো ছবির কাজ শেষ হওয়ার পরও সেটি মুক্তি পায়নি। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছে বহুবার। তাঁর ভাষ্যে, ‘অনেক সময় ভেঙে পড়েছি, কেঁদেছি, হতাশায় ডুবে গেছি। দিশাহারা হয়ে ভাবতাম, এবার কী করব।’

সেই সব কঠিন সময়ে মায়ের কথাই তাহাকে বারবার শক্তি জুগিয়েছে। তিনি বলেন, ‘মা বলতেন, “আমি যখন হার মানিনি, তুমি কীভাবে হার মানবে?” এ কথাই বারবার আমাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।’ তাহার মতে, অভিনয়ই তাঁর একমাত্র পথ, ‘আমার কোনো প্ল্যান বি ছিল না। অভিনয় করেই আমি আনন্দ পাই। তাই লড়াই করে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। আমার এ যাত্রায় আমার অবদান হয়তো ২০ শতাংশ, বাকি ৮০ শতাংশ মায়ের কৃতিত্ব।’

তাহা শাহ বাদুশা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

অভিনয়জীবনের শুরুতে করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশনের গিপ্পি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এ অভিনেতা। এবার তিনি করণ জোহরের সিরিজ ‘নজদিকিয়াঁ’-তে অভিনয় করছেন। আবার করণের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তাহা বলেন, ‘সত্যি ভীষণ বিশেষ লাগছে। ধর্মার ‘গিপ্পি’র অংশ হওয়া থেকে আবার করণ জোহরের সঙ্গে কাজ; সবকিছু যেন একটা পূর্ণচক্র। সঞ্জয় লীলা বানসালি স্যারের সঙ্গে কাজ করার পর নজদিকিয়াঁর মাধ্যমে একেবারে নতুন এক জায়গা অন্বেষণ করতে আমি দারুণ উৎসাহী। আমি কৃতজ্ঞ এবং দর্শক এটি দেখবেন, সে অপেক্ষায় রয়েছি।’

আরও পড়ুন

আগের ছবি ‘পারো’ নিয়েও আলোচনায় তাহা। ছবিটি ইতিমধ্যে কান, দ্য শিকাগো সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। তবে গজেন্দ্র আহিরে পরিচালিত ছবিটি এখনো ভারতে মুক্তি পায়নি। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে পারোর প্রদর্শনী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কোনো চলচ্চিত্র শেষ হলে, অন্তত চলচ্চিত্র উৎসবে, মানুষ হাততালি দিতে শুরু করেন। কিন্তু “পারো” দেখানোর পর আমরা দেখেছি, মানুষ যেন একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সবার স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লেগেছিল। এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার মানে হলো, আমরা ভেতর থেকে কিছু না কিছু নাড়া দিতে পেরেছি। শিকাগোতে ছবিটির প্রচারের সময় আমরা দেখেছি, অনেকে এক-দুফোঁটা অশ্রুও ফেলেছেন। সেটাই অনেক কিছু বলে।’