মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কাছে কী কী চাইলেন কমল হাসান

নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন দক্ষিণি সিনেমার অন্যতম বড় তারকা কমল হাসান। কমল হাসানের এক্স থেকে

আগে ছিলেন সহকর্মী। তবে এখন থালাপতি বিজয়ের পরিচয়টা বদলে গেছে। ভোটে জিতে তিনি এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন দক্ষিণি সিনেমার অন্যতম বড় তারকা কমল হাসান। গত শনিবার টিভিকে সদর দপ্তরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ছয় দফা দাবি–সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন তিনি।
তামিল সিনেমাশিল্পের সংকট, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিস্তার আর পাইরেসির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি নিয়ে বিজয়ের কাছে গিয়েছিলেন কমল হাসান।

স্মারকলিপিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি রাষ্ট্রীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাব। কমল হাসানের মতে, তামিল দর্শকদের জন্য স্বল্প মূল্যে তামিল সিনেমা, স্বাধীন চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র দেখার সুযোগ তৈরি করতে সরকার পরিচালিত ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চালু করা উচিত। তাঁর ভাষায়, এতে একদিকে যেমন আঞ্চলিক কনটেন্টের প্রসার ঘটবে, অন্যদিকে ছোট নির্মাতারাও একটি নির্ভরযোগ্য প্রদর্শনমাধ্যম পাবেন।
এ ছাড়া সিনেমাশিল্পকে বাঁচাতে বিনোদন কর বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন কমল হাসান। বর্তমানে স্থানীয় সংস্থাগুলোর আরোপ করা ৪ শতাংশ বিনোদন কর প্রযোজক, পরিবেশক ও হলমালিকদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন কমল। তাঁর মতে, এই কর তুলে দিলে তামিল চলচ্চিত্রশিল্প অনেকটাই স্বস্তি পাবে।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)
ছবি: দ্য হিন্দুর ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

পাইরেসির বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়েছেন এই অভিনেতা-রাজনীতিক। তিনি বলেন, পাইরেসি হাজারো শিল্পী, কলাকুশলী ও প্রযোজকের পরিশ্রম ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই তামিলনাড়ু পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের অধীনে আলাদা অ্যান্টি-পাইরেসি ইউনিট গঠনের আহ্বান জানান তিনি। সেই ইউনিটকে দ্রুত পাইরেটেড কনটেন্ট সরানোর ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলেন।
সিনেমা হলগুলোর ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন পাঁচটি শো চালুর অনুমতির দাবি জানিয়েছেন কমল হাসান। একই সঙ্গে তামিলনাড়ুতে মুক্তি পাওয়া সব ছবির জন্য বাধ্যতামূলক আট সপ্তাহের ওটিটি উইন্ডো রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ সিনেমা মুক্তির আট সপ্তাহের আগে কোনো ছবিকে ওটিটিতে আনা যাবে না। তাঁর মতে, এতে হলমালিক ও পরিবেশকেরা আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন

স্মারকলিপিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রণোদনা স্কিম চালুর বিষয়টি। কমলের মতে, এতে তামিলনাড়ু আবারও ভারতের প্রধান চলচ্চিত্র প্রযোজনা কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও পর্যটনশিল্পও উপকৃত হবে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এ বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, কমল হাসানের দল মাক্কাল নিধি মইয়াম তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে দলটি ডিএমকের জোটসঙ্গী হিসেবেই ছিল। অন্যদিকে অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া জোসেফ বিজয় এখন রাজ্যের রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত মুখ।
তাই এ বৈঠক শুধু চলচ্চিত্রশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েই নয়, তামিল রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়েও আলোচনা তৈরি করেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে