default-image

ঘটনা বছর কয়েক আগের, কেদারনাথ সফরের। সারার বুদ্ধিতে অল্প খরচের হোটেলে ওঠেন দুজন। যে হোটেল রুম হিটার নেই। কেদারনাথের প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও সারা রুম হিটার ছাড়া হোটেল নিয়েছিলেন ছয় হাজার রুপি বাঁচতে! যা প্রায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল তাঁদের। ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে করণকে জাহ্নবী বলেন, ‘দুটি থার্মাল, একটি পাফার জ্যাকেট, তিনটি শাল, দুই ট্রাক প্যান্ট নিয়ে কেদারনাথ গিয়েছিলাম। ওই রাতে আমি সব কটি পরেও রীতিমতো ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। সারা যখন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে হোটেলে ফেরে, ওর ঠোঁট তখন নীল হয়ে গেছে, সে কাঁপছিল।’

default-image

পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল, সেটা জানিয়ে জাহ্নবী আরও বলেন, ‘মাইনাস সাত ডিগ্রি তাপমাত্রায় রুম হিটার ছাড়া থাকাটা ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ওই হোটেলের বাথরুমের অবস্থায় ছিল শোচনীয়। মনে হচ্ছিল বাথটাবে বসলেই যেন ভেঙে পড়বে।’ এই একবারই নয় আরও একবার মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসেন দুই বন্ধু। সেবার অবশ্য হোটেলে নয়, আটকা পড়েছিলেন পাহাড়ে। সেবার অবশ্য বিপদ ডেকে এনেছিলেন জাহ্নবী। সে অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন সারা, ‘আমরা ভৈরবনাথ যাওয়া ঠিক করেছিলাম। সেখানে যাওয়ার জন্য সাধারণ হাঁটাপথ আছে। কিন্তু আমরা নিজেদের খুব সেয়ানা ভেবেছি, দুর্গম পথ বেছে নিই। হাইক করে যাব ঠিক করলাম। সেখানে ৮৫ বাঁকের পাথুরে পথ আছে। জাহ্নবী বলব, আমরা চড়ব।’

default-image

একে তো ওপরে ওঠা নিয়ে ভয়, সঙ্গে নড়বড়ে পাথর—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল যেকোনো সময় নিচে পড়ের যাবেন। একটা পর্যায়ে যা হওয়ার তাই হলো। একটা পাথরের চাঁই ধরে ঝুলতে লাগলেন দুই বন্ধু। একসময় এক ভক্তের দেখা পেয়ে কিছুটা আশা পান। কিন্তু সেই ভক্ত তাঁদের উদ্ধার না করে স্রেফ সেলফি তুলেই চলে যান। এভাবে ৩০ মিনিট ঝুলে থাকার পর সারার গাড়িচালক তাঁদের খুঁজে পান। পরে ভারতীয় স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করেন। এ অভিজ্ঞতার পর দুই বন্ধু যে অনেক দিন পাহাড়মুখী হননি, সে কথা বলাই বাহুল্য।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন