৫ কোটি নয়, ২ কোটি—রাজপালকে শেষবারের মতো দুই সপ্তাহ সময়
চেক বাউন্সের সাত মামলায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে সাময়িক স্বস্তি দিলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। অভিনেতাকে শেষবারের মতো আরও দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আদালত। এই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে অন্তত দুই কোটি টাকা জমা দিতে হবে তাঁকে। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে আত্মসমর্পণ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে জমা দিতে হবে পাসপোর্ট।
শেষবারের মতো সুযোগ
৮ সেপ্টেম্বর রাজপালের আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে সাময়িক সুরক্ষা দিয়েছিলেন। শর্ত ছিল, পাঁচ কোটি টাকা জমা দিতে হবে আদালতের রেজিস্ট্রিতে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই অর্থ জমা দিতে পারেননি অভিনেতা। এরপর আরও সময় চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে বিষয়টি ওঠে। রাজপালের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী পি এস পাটওয়ালিয়া জানান, অভিনেতার হাতে এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় অর্থ নেই। বকেয়া মেটাতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরির জন্য দুই সপ্তাহ সময় চান তিনি। একই সঙ্গে সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবে অন্তত দুই কোটি টাকা জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
আদালত শেষবারের মতো সেই সময় মঞ্জুর করেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে দুই কোটি টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি বাকি অর্থ পরিশোধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে রাজপালকে।
আদালতের সিদ্ধান্তের পর রাজপালের আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘আমরা এই আদেশকে স্বাগত জানাই। আদালত অর্থ জমা দেওয়ার জন্য আমাদের সময় দিয়েছেন। আগে পাঁচ কোটি টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। এখন দুই কোটি টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তি। আদালতের সব আদেশ ও নির্দেশনা আমরা মেনে চলব।’
রাজপালের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ
স্বস্তি মিললেও শুনানিতে রাজপালের আগের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। আদালতকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বারবার পূরণ না হওয়ায় তাঁর ওপর কতটা আস্থা রাখা যায়, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রাজপালের অতীত আচরণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তাঁর আগের আচরণ দেখলে তাঁকে কীভাবে বিশ্বাস করা যায়?’ বলিউডে অভিনয় ও নাটক করার দক্ষতার প্রসঙ্গ টেনে আদালতেও একই আচরণ করা হচ্ছে বলে কঠোর মন্তব্য করেন তিনি।
তবে রাজপালের আইনজীবীর আশ্বাসের পর আদালত শেষ সুযোগ হিসেবে আরও দুই সপ্তাহ সময় দেন।
যে সিনেমা থেকে শুরু
রাজপালের এই আইনি জটিলতার শুরু প্রায় ১৬ বছর আগে। নিজের পরিচালনায় ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য ২০১০ সালে দিল্লিভিত্তিক মুরলি প্রজেক্টসের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা নিয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। এরপর অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে শুরু হয় বিরোধ।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, ২০১২ সালের একটি সমঝোতায় সুদসহ প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়েছিলেন রাজপাল, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের প্রতিষ্ঠান। পরের বছর পাওনা পরিশোধের অংশ হিসেবে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা করে সাতটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু সাতটি চেকই প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপরই শুরু হয় পৃথক সাতটি চেক বাউন্স মামলা।
২০১৮ সালের এপ্রিলে নিম্ন আদালত মামলাগুলোয় রাজপালকে দোষী সাব্যস্ত করেন। ২০১৯ সালে সেশনস কোর্টও সেই রায় বহাল রাখেন। পরে দিল্লি হাইকোর্টে যান অভিনেতা।
জুলাইয়ে তিন মাসের কারাদণ্ড
চলতি বছরের জুলাইয়ে দিল্লি হাইকোর্টও রাজপালের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখেন। সাতটি মামলায় তাঁকে প্রতিটিতে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; সাজাগুলো একই সঙ্গে চলার কথা। অভিযোগকারীকে প্রতিটি মামলায় এক কোটি টাকার বেশি পরিশোধের নির্দেশও দেওয়া হয়। রাজপাল আগে যে অর্থ দিয়েছেন, তা মোট পাওনা থেকে সমন্বয় করার নির্দেশ দেন আদালত।
সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন রাজপাল। গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর আবেদন শুনে সর্বোচ্চ আদালত আত্মসমর্পণ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছিলেন পাঁচ কোটি টাকা জমা দেওয়ার শর্তে। সেই শর্ত পূরণ করতে না পারায় আবারও আদালতের কাছে সময় চান অভিনেতা। এবার শেষ সুযোগ হিসেবে মিলল আরও দুই সপ্তাহ।
পাসপোর্ট জমা, পরবর্তী শুনানি ৫ অক্টোবর
আপাতত রাজপালকে আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে না। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর আত্মসমর্পণ থেকে অব্যাহতি বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট। তবে এর মধ্যে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। একই দিনে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। অর্থাৎ আগামী দুই সপ্তাহে দুই কোটি টাকা জমা দেওয়া এবং বাকি পাওনা মেটাতে বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব হাজির করাই এখন রাজপালের সামনে বড় পরীক্ষা।
অভিনয়ের দিক থেকে রাজপাল যাদবকে সম্প্রতি প্রিয়দর্শন পরিচালিত ‘হায়ওয়ান’ ছবিতে দেখা গেছে। ক্রাইম থ্রিলারটিতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলী খান।