ঐশ্বরিয়া নয়, ‘উমরাওজান’-এর জন্য পছন্দ ছিল অন্য কেউ
বলিউডের ধ্রুপদি চলচ্চিত্রের একটি ‘উমরাওজান’। এই ছবিতে উমরাওজান চরিত্রে রেখার অভিনয় উদাহরণ হয়ে আছে। উর্দু উপন্যাস ‘উমরাওজান আদা’ থেকে ছবিটি তৈরি করেছেন মুজাফ্ফর আলী। ২০০৬ সালে জেপি দত্ত যখন একই উপন্যাস থেকে আবার ‘উমরাওজান’ বানানোর পরিকল্পনা করেন, তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনয়শিল্পী বাছাই।
এই চরিত্রে দর্শক হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলে রেখেছেন রেখা। তাঁর সেই দুর্দান্ত অভিনয়কে ছাপিয়ে যেতে পারেন কে? আমরা এখন জানি, সেই চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া রাই। কিন্তু একটা ব্যাপার হয়তো অনেকেই জানেন না। চরিত্রটির জন্য পরিচালকের প্রথম পছন্দ সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী ছিলেন না।
ঐশ্বরিয়ার জায়গায় যদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নাম বলা হয়, বিশ্বাস হবে? কিন্তু সত্য এই। এমনকি চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতি নেওয়াও শুরু করেছিলেন তিনি।
জেপি নিজেও প্রিয়াঙ্কাকেই চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রিয়াঙ্কার সঙ্গেই কাজ করতে চেয়েছিলাম। তাঁকেই আমি উমরাওজান হিসেবে দেখেছিলাম।’
তাহলে কী এমন হলো যে তাঁর জায়গায় ঐশ্বরিয়া হাজির হলেন!
আসলে প্রিয়াঙ্কা নিজেই না করে দিয়েছিলেন। কেন সরে গিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা? নিজেই পরে ভারতীয় গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে কারণ জানান তিনি, ‘চরিত্রটিতে অভিনয়ের জন্য আমি দারুণ সব পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু জেপি সাহেব ৯০ দিন চেয়েছিলেন, এত দিন আমি তাঁকে দিতে পারতাম না।’
জেপি এবার নজর দিলেন ঐশ্বরিয়ার দিকে। গায়ত্রী দেবীর জীবনীভিত্তিক একটি ছবির জন্য নিজেকে তখন তৈরি করছিলেন ঐশ্বরিয়া। লন্ডনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন জেপি। ঐশ্বরিয়াকে জানালেন এই চরিত্রের কথা। অ্যাশ তখনো জানেন না যে চরিত্রটি প্রথম প্রিয়াঙ্কাকে প্রস্তাব করা হয়েছিল।
এর পরের ইতিহাস সবারই জানা। ছবিটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে না পারলেও ঐশ্বরিয়ার সৌন্দর্য, রূপের ঝলকানি আর নাচ দর্শকের হৃদয়ে গেথে যায়। ছবিতে আরও ছিলেন অভিষেক বচ্চন, শাবানা আজমি, সুনীল শেঠি, দিব্য দত্ত প্রমুখ।
বলে রাখা দরকার, আজ ছবিটি মুক্তির ১৫ বছর পেরোলো।