মিস ইউনিভার্স বিজয়ীর মুকুটের দাম কত
পাঞ্জাবের মেয়ে হারনাজ সান্ধুর মাথায় উঠেছে এবারের মিস ইউনিভার্স মুকুট। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে দামি মুকুট এটি। মুকুট বিজয়ের পরই আলোচনায় হারনাজ। কারণ, ২১ বছর পর ভারতে এই শিরোপা এনেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর মুকুটে কী পরিমাণ হীরা আর কত দম—এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইসরায়েলে ৭৯টি দেশের প্রতিযোগীদের পরাজিত করেছেন হারনাজ। চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট সরকারি কলেজের এই সাবেক ছাত্রীর মুকুট জয়ের আগে মাত্র দুজন ভারতীয় নারী মিস ইউনিভার্সের খেতাব জিতেছেন। সুস্মিতা সেন ১৯৯৪ সালে ও লারা দত্ত ২০০০ সালে মিস ইউনিভার্স বিজয়ী হন।
মিস ইউনিভার্স খেতাব পাওয়ার পর কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয় বিজয়ীকে। সঙ্গে পাওয়া যায় বেতনও। হারনাজ বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা শুনলে চমকে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে!
হারনাজ সান্ধুর মুকুটের দাম প্রায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৪৩ কোটি টাকা। মুকুটের ওজন এক কেজি। তাতে ১ হাজার ৭২৫টি হীরা বসানো আছে। এর আগে কোনো প্রতিযোগীর জন্য এত দামি মুকুট তৈরি হয়নি।
বিজয়ী হওয়ায় এক বছর তিনি বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা পাবেন। হারনাজ সান্ধু আগামী এক বছরের জন্য নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল পেন্টহাউসে থাকার সুযোগ পাবেন। এখন তিনি মিস ইউনিভার্স প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। এই পদের ফলে তিনি পুরো বিশ্ব ভ্রমণ করার সুযোগ পেতে পারেন। তাঁকে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সব কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। শুধু তা–ই নয়, এ সময় তাঁর পোশাক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য—সবকিছুর খেয়াল রাখার জন্য থাকবেন বিশেষজ্ঞরা। এক বছরের জন্য হারনাজ পাবেন ব্যক্তিগত মেকআপ আর্টিস্ট। তিনি কী খাবেন, কীভাবে নিজের ত্বকের খেয়াল রাখবেন সবকিছুই দেখভালের জন্য আলাদা লোক থাকবে।
এত সব দায়িত্ব পালনের জন্য চাই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। এসবের জন্য যত টাকা লাগবে, তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাঁর অন্য আয়েরও সুযোগ বাড়বে। কারণ, এখন তাঁকে নিয়ে সিনেমা কিংবা বিজ্ঞাপন বানানোর পরিকল্পনা তো থাকবেই।
গতকাল বুধবার দেশে ফেরেন হারনাজ সান্ধু। মুম্বাই বিমানবন্দরে ক্যামেরাবন্দী করা হয়েছে তাঁকে। তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির হয়েছিল অনেকে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের এলিয়াট শহরে মিস ইউনিভার্সের ৭০তম আসর বসেছিল। সেখানে হারনাজ সান্ধুর নাম ঘোষণা করা হয় বিজয়ী হিসেবে। পাঞ্জাবে জন্ম নেওয়া হারনাজ সান্ধু পড়েছেন সিভালিক পাবলিক স্কুলে। স্নাতকোত্তর করেছেন চণ্ডীগড়ের একটি কলেজ থেকে। এখন তিনি স্নাতকোত্তর করছেন লোকপ্রশাসন বিষয়ে।