এই তারকাদের বিচ্ছেদের নেপথ্যে আসল কারণ কী ছিল
রুপালি পর্দায় কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় যাঁদের প্রেম, রসায়ন আর সুখী জীবনের গল্প দেখে দর্শক মুগ্ধ হন, বাস্তব জীবনে তাঁদের অনেকের সম্পর্ক টেকে না। নানা কারণে প্রায়ই বিচ্ছেদের খবর শোনা যায়। এই ঘটনাগুলো আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নেয়। বিচ্ছেদের ঘটনাগুলো একসময় ভক্তদের জন্য হয়ে ওঠে বিস্ময় ও কৌতূহলের বিষয়। দেশের জনপ্রিয় তারকাদের সেই বিচ্ছেদের গল্পই উঠে আসছে এই প্রতিবেদনে—গ্ল্যামারের আড়ালে বাস্তবতার এক ভিন্ন চিত্র। দেশের শীর্ষ তারকাদের বিচ্ছেদের নেপথ্যে আসল কারণ কী ছিল?
১. শাকিব অপুর বিচ্ছেদ
২০০৮ সালে গোপনে বিয়ে করার পর শাকিব ও অপুর সংসার ঠিকমতোই চলছিল। দুজনই নিজেদের মতো করে কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করেছিলেন। যখন বিয়ে আর সন্তানের ব্যাপারটি জনসমক্ষে চলে আসে, তখনই শাকিব ও অপুর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। একসময় ঘটে বিচ্ছেদ। তবে কবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়, সেই তথ্য গণমাধ্যমে আসেনি। কী কারণে বিচ্ছেদ ঘটে, সেটাও কেউ কখনো প্রকাশ্যে বলেননি। তবে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে বিভিন্ন সময় জানা যায়, শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিচ্ছেদের মূল কারণগুলো ছিল বিয়ের খবর গোপন থেকে প্রকাশ্যে আনা।
মূলত অপু বিশ্বাসের হঠাৎ টিভি লাইভে আসা ও তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব, যা শাকিব খানের কাছে অপুর ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ শামিল ছিল, বিশেষত শাকিব চাননি তাঁর মতের বাইরে অপু বিশ্বাস কিছু করুক। তিনি আরেকটু সময় চেয়েছিলেন, যা সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ায় এবং বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়।
২. রাজ পরীমনির বিচ্ছেদ
‘গুণিন’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এই দুই তারকা। ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর বিয়ে করেন দুজন। তবে ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি তাঁদের আবারও পারিবারিকভাবে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে হয়।
২০২২ সালের ১০ আগস্ট তাদের ঘরে আসে ছেলে ‘শাহীম মুহাম্মদ রাজ্য’। ধারণা করা হচ্ছিল তাঁদের সংসার ভালো চলছে। এর মধ্যেই হঠাৎ গণমাধ্যমের শিরোনাম হন এই দম্পতি। শোনা যায়, তাঁরা বিচ্ছেদ করতে যাচ্ছেন। কিন্তু কী কারণে তাঁদের বিচ্ছেদ হচ্ছে, সেটা নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে কথা বলেননি। তবে রাজকে পাঠানো ডিভোর্স লেটারে পরীমনি বিচ্ছেদের চারটা কারণ উল্লেখ করেছিলেন। সেই কারণগুলো হলো—মনের অমিল, বনিবনা না হাওয়া, খোঁজ-খবর না নেওয়া ও মানসিক অশান্তি।
৩. পূর্ণিমার বিচ্ছেদ
২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর আহমেদ জামাল ফাহাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পূর্ণিমা। ২০১৪ সালে কন্যাসন্তানের মা হন তিনি। জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় এক দশক সংসারের পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এ ঘটনা ২০২২ সালে প্রথম প্রকাশ্যে আসে। তখনই জানা যায়, তিন বছর আগে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়েছে। এই নিয়ে পূর্ণিমা কিংবা তাঁর সাবেক স্বামী কেউই কখনো মুখ খোলেননি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছিল, মূলত বোঝাপড়া না হওয়ার কারণে এই বিচ্ছেদ ঘটে। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে পূর্ণিমা বলেছিলেন, ‘যেটা চলে গেছে, যেটা শেষ হয়ে গেছে, সেটা নিয়ে মানুষের বেশি বেশি কৌতূহল থাকে। কেন শেষ হলো? কী হলো না হলো। আসলে ওগুলো নিয়ে বলতে চাই না। কারণ, ওটা তো অনেক বছরের সম্পর্ক। প্রায় ১২ বছর সম্পর্ক ছিল। এত বছর ধরে চেষ্টা করে গেছি। কোনোভাবে মনের মিল, বোঝাপড়া যেটা থাকে না, ওটা হয়নি।’
৪. আরিফিন শুভর বিচ্ছেদ
ভালোবেসে কলকাতার মেয়ে অর্পিতা সমাদ্দারকে বিয়ে করেছিলেন আরিফিন শুভ। অর্পিতার সঙ্গে সাড়ে ৯ বছরের দাম্পত্যজীবনের ইতি টেনেছেন দুই বছর আগে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আরিফিন শুভ জানিয়েছিলেন, ২০ জুলাই বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে শোনা গেছে, তাঁদের মতের অমিল, ‘মানসিক দূরত্ব’ ও অন্য কারও সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন। তবে এই নিয়ে কখনোই কোনো মন্তব্য করেননি কেউ। বিচ্ছেদ নিয়ে শুভ ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমি আর অর্পিতা আমরা হয়তো বন্ধু হিসেবেই ঠিক আছি, জীবনসঙ্গী হিসেবে নয়। আমরা ২০ জুলাই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, বন্ধুত্বটুকু নিয়ে দুজনের সম্মতিতে বাকি জীবন নিজেদের মতো করে বাঁচব।’
৫. এস আই টুটুল ও তানিয়া
আলোচিত এই জুটির বিচ্ছেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়। বিচ্ছেদের ঘটনা প্রথম প্রকাশ্যে আনেন তানিয়া আহমেদ। পরে জানা যায়, ২০২১ সালে তাঁদের অফিশিয়াল ডিভোর্স সম্পন্ন হয়েছে। মূলত তানিয়া আহমেদই তাঁর ছোট ভাই ও ভাবির মাধ্যমে বিচ্ছেদপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। এই বিবাহবিচ্ছেদের কারণ নিয়ে তানিয়া প্রথমে মুখ খুললেও পরে টুটুল বিচ্ছেদের কারণসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন। বিচ্ছেদ নিয়ে তানিয়া গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘তাঁর ভালোবাসা বুঝতে পারত না টুটুল। যে কারণে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’
এই নিয়ে টুটুল প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘এটা সত্যি যে তানিয়ার সঙ্গে আমি কখনোই বিবাহবিচ্ছেদটা চাইনি। আমার নিজের উদ্যোগেও আমি বিচ্ছেদ করিনি বরং তানিয়াই বিচ্ছেদ চেয়েছিল বারবার। কেন চেয়েছিল, সত্যটা সে নিজেই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে। সে তো বলেছে সে সত্যটা বলে দেওয়াই পছন্দ করে, তাই এই বিষয়টা তার কাছে জানতে চাইলে ভালো হবে।’