জীবনানন্দ দাশ হচ্ছেন খায়রুল বাসার, নাবিলা ও সোহেল মণ্ডলরা কে কোন চরিত্রে

অবশেষে ‘বনলতা সেন’ ছবিটির মুক্তির দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ছবিটি ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে। প্রথম আনুষ্ঠানিক পোস্টার প্রকাশের পর ছবির চরিত্রগুলো সম্পর্কে ধারণা দিতে পরিচালক আরও আটটি পোস্টার প্রকাশ করেছেন। একনজরে দেখে নেওয়া যাক মাসুমা রহমান নাবিলা, সোহেল মণ্ডল ও খায়রুল বাসাররা কোন কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন।
১ / ১০
মাসুমা রহমান নাবিলাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘তুফান’ ছবিতে। অবশ্য ‘তুফান’–এর শুটিংয়ের আগে ২০২৩ সালের শেষ দিকে ‘বনলতা সেন’ ছবির শুটিংয়ের যাবতীয় কাজ শেষ করেন নাবিলা। অবশেষে ছবিটির মুক্তি উপলক্ষে নাবিলার অভিনীত চরিত্রটি সম্পর্কে ধারণা দিতে পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। জানা গেছে, ছবিতে বনলতা সেন চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। পোস্টারের ছবিতে নাবিলাকে নিয়ে প্রশংসা করেছেন মন্তব্যকারী ব্যক্তিরা। নাবিলাকে আরেকটি চরিত্রে দেখা যাবে—সেটি কী, তা এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না অভিনয়শিল্পী ও পরিচালকের কেউই।
পোস্টার : পরিচালকের সৌজন্যে
২ / ১০
খায়রুল বাসার ‘বনলতা সেন’ ছবির প্রধান চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অভিনয়শিল্পী। নিজের লুক পোস্টার ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘“আমরা যাইনি ম’রে আজো—তবু কেবলি দৃশ্যের জন্ম হয়!” “বনলতা সেন”। আসছে ঈদে আপনার নিকটস্থ প্রেক্ষাগৃহে। দেখা হবে ঈদে দলে বলে সিনেমা হলে...।’ জানা গেছে, খায়রুল বাসার ছবিতে কবি জীবনানন্দ দাশ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সবাই বাসারের এই লুকের প্রশংসা করেছেন। সাবিকুন নাহার নামের একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে এত ভালো ভালো গল্পের সিনেমা আসছে একের পর এক। কিন্তু আমার আফসোস হচ্ছিল এই ভেবে যে কেউ খায়রুল বাসারকে কেন স্ট্রং একটা গল্পে কাস্ট করতে পারছে না? যেটা লিড করবে খায়রুল বাসার। ফাইনালি! সো হ্যাপি ফর ইউ ম্যাজিক ম্যান খায়রুল বাসার।’ জুবায়ের হাওলাদার নামের একজন লিখেছেন, ‘একজন অভিনেতা কতটা গভীর হলে কবি জীবনানন্দ দাশের এই রূপটা নিজের ভেতরে ধারণ করতে পারেন! আপনার অভিনয় আর লুকের ভক্ত আমি আগেই ছিলাম, কিন্তু এই লুকে আপনাকে দেখে জাস্ট স্তব্ধ হয়ে গেছি। রুপালি পর্দায় রূপসী বাংলার কবিরূপে আপনাকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
পোস্টার : পরিচালকের সৌজন্যে
৩ / ১০
গেল ঈদে ‘রাক্ষস’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে সোহেল মণ্ডল চমকে দেন। ‘বনলতা সেন’ ছবির পোস্টারে ধরা দিয়েছেন অশ্বারোহীর বেশে। মাথায় অ্যাংলো–ইন্ডিয়ানদের হ্যাট, তামাটে চেহারায় নজর কেড়েছেন অভিনেতা। এই সিনেমায় তাঁকে মহীন চরিত্রে দেখা যাবে।
পোস্টার : পরিচালকের সৌজন্যে
৪ / ১০
মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ‘বনলতা সেন’ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। সিনেমায় তাঁর চরিত্রের নাম বনলতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেও এই তারকাকে সিনেমায় দেখা গেছে। তবে ‘বনলতা সেন’ সিনেমায় তাঁর চরিত্রটি নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত এই অভিনয়শিল্পী।
পোস্টার : পরিচালকের সৌজন্যে
৫ / ১০
‘বনলতা সেন’ ছবির মুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার দুই দিন পরই প্রকাশিত হলো এই চলচ্চিত্রের ক্যারেক্টার পোস্টার। এসব পোস্টার থেকে জানা গেছে, লাবণ্য গুপ্ত চরিত্রে দেখা যাবে মাইমুনা মমকে।
পোস্টার : পরিচালকের সৌজন্যে
৬ / ১০
ছবিতে শোভনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুপন্তি আকিদ।
পোস্টার : পরিচালকের সৌজন্যে
৭ / ১০
‘বনলতা সেন’ ছবির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র লীলা নাগ, এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিবা বাশার।
পোস্টার : পরিচালকের সৌজন্যে
৮ / ১০
পরিচালক জানান, ‘বনলতা সেন’ ছবির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মনিয়া, এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুমাইয়া খুশী।
পোস্টার : পরিচালকের সৌজন্যে
৯ / ১০
২০২১-২২ সালের সরকারি অনুদানের এই ছবি গত ১২ এপ্রিল সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে মুক্তির অনুমতিপত্র পেয়েছে। জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি বানিয়েছেন পরিচালক। উজ্জ্বল বলেন, ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায়। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে কবিতাটির বয়স প্রায় ৯১ বছর। আর ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে। সেই হিসাবে বইটির বয়স এখন প্রায় ৮৪ বছর। প্রায় শতবর্ষী একটি কবিতা এখনো কী দারুণভাবে প্রাসঙ্গিক এবং আধুনিক! গোটা কবিতাটিই রহস্য ও দর্শনাবৃত। কবিতাটি যেমন মানুষকে মোহাবিষ্ট করে রাখে, সিনেমাটিও যেন একইভাবে দর্শককে মোহাবিষ্ট করে রাখতে সক্ষম হয়—এটাই এই চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য। ‘বনলতা সেন’ চলচ্চিত্রে ঐতিহাসিক চরিত্রের পাশাপাশি কিছু কাল্পনিক চরিত্রও রয়েছে। চরিত্রগুলোর বাস্তবসম্মত ও মেটাফোরিক—দুই ধরনের উপস্থাপনার সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। সুতরাং এই চলচ্চিত্র যে মানুষকে একধরনের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে, সে কথা মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
ছবি : পরিচালকের সৌজন্যে
১০ / ১০
‘বনলতা সেন’ ছবিটি প্রসঙ্গে উজ্জ্বল আরও বলেন, ‘দুই বাংলার কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশ সমাদৃত। আমার মতে, উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ, এডগার অ্যালান পো কিংবা টি এস এলিয়টের থেকে জীবনানন্দ দাশ কোনো অংশে কম নন। এত দিনে গোটা বিশ্বের তাঁকে জানা উচিত ছিল। আমি এই জীবনে প্রথম এমন বিস্ময়কর এক কবিকে “বনলতা সেন” ছবির মাধ্যমে ট্রিবিউট করার সুযোগ পেয়েছি।’
ছবি : পরিচালকের সৌজন্যে