সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারধর্মী শেষ গল্পটির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার। এই অভিনেতার জন্য চরিত্রটি ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং। পুরো সময় একাই তাঁকে পর্দায় দেখা যাবে। এই অভিনেতা চিত্রনাট্য পড়েই শর্ত দিয়ে দেন, শুটিংয়ের একটি দৃশ্য শেষ হলেই তাঁকে আলাদা একটি রুমে একা থাকার সুযোগ করে দিতে হবে। কেন এমন শর্ত? ‘আমার ডায়ালগগুলো ছিল অনেক বড়। গল্পে ইম্প্রোভাইজের সুযোগ ছিল না। এ জন্য একটি দৃশ্য শেষ হলেই আলাদা একটি রুমে পৃথিবীর সবকিছু ভুলে চরিত্রের মধ্যে থাকার চেষ্টা করতাম। তখন আমি আলাদা এক মানুষ হয়ে যেতাম,’ ব্যাখ্যা করলেন দিনার।

‘ঊনলৌকিক’–এর প্রতিটা পর্বের জন্যই দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছেন নির্মাতা রবিউল আলম রবি।

প্রতিটা গল্পের শুরুতেই দর্শককে আটকে ফেলার চেষ্টা করেছেন এই নির্মাতা। দর্শকের আগ্রহ দেখে বোঝা যাচ্ছে, সেই চেষ্টায় তিনি সফল। কী আছে গল্পগুলোতে? বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারে ভোগা এক রোগী (মোস্তফা মনওয়ার) তার এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। একের পর এক সমাধান খুঁজে ব্যর্থ হয়ে কঠিন এক পথ বেছে নেয় সে, শেষ পর্যন্ত যা তার জীবনকে করে তোলে আরও জটিল। এভাবেই এগিয়ে যায় ‘মরিবার হলো তার স্বাদ’। এটি প্রচারের পর আনিস নামে এক দর্শক লিখেছিলেন, ‘মরিবার হলো তার স্বাদ বেস্ট। পরের পর্বগুলো দ্রুত আপলোড করবেন প্লিজ...এত বেশি লেট করলে দর্শক হারাবেন।’

পরে প্রচার হয় ‘ডোন্ট রাইট মি’। প্রবীণ আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে তরুণ সোহেল মণ্ডলের অভিনয় ছিল অসাধারণ। গল্পটিও জম্পেশ। গল্পে দেখা যায়, লেখকের (আসাদুজ্জামান নূর) লেখা একটি গল্পে ওলট–পালট হয়ে যায় এক পাঠকের (সোহেল মণ্ডল) জীবন। সিরিজের তৃতীয় গল্প ‘মিসেস প্রহেলিকা’। বিচিত্র এক সমস্যা নিয়ে এক মনস্তাত্ত্বিকের (চঞ্চল চৌধুরী) কাছে হাজির হয় হুমায়রা (নুসরাত ইমরোজ তিশা)। সে যা বলে, সবই কি ভ্রম? সর্বশেষ মুক্তি পায় হ্যালো লেডিজ। স্ত্রীকে (সাহানা রহমান সুমি) খুন করে আশরাফ (ইরেশ যাকের)। অলৌকিকভাবে বাসার ছাদ থেকে ঘটনাটা দেখতে পায় উপস্থাপিকা (মিথিলা)। তারই অনুষ্ঠান দেখার সময় খুনটি হচ্ছে। এভাবেই আলাদা আলাদা গল্প নিয়ে চারটি পর্ব পার করেছে ঊনলৌকিক।

দেখা যাক, আজ শেষ পর্বে শুধু ইন্তেখাব দিনারকে নিয়ে কোন চমক দেখান নির্মাতা।