বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জায়মাকে পাওয়া যায় পার্কে। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু সন্তানকে নিয়ে পার্কে হাঁটতে গিয়ে তাকে প্রথম দেখেন। কাস্টিং ডিরেক্টর ইয়াসির আল হক দেখেন ছবিতে। ইয়াসির জানান, শুটিং শুরুর তিন মাস আগে তাঁরা জায়মার খোঁজ পান। ‘ছবি দেখে মনে হয় বাচ্চাটা বয়সে বড়। সামনাসামনি দেখার জন্য কয়েকবার তার বাবাকে ফোন করি। ব্যাংকে চাকরি করেন, ব্যস্ততার কারণে দেখা করার সময় করতে পারছিলেন না। ২০১৯ সালের কোরবানি ঈদ চলে আসে। তাঁরা গ্রামের বাড়ি যান। ফিরে এলে পরে দেখা হয়।’

মা–বাবার সঙ্গে খিলগাঁওয়ে থাকে জায়মা। তার মা একটি ইংরেজি স্কুলের বাংলার শিক্ষিকা। বিনোদন অঙ্গনে মায়ের পরিবারের কেউ নেই। বাবার মামাতো বোন গায়িকা কানিজ সুবর্ণা। ইমু চরিত্রের জন্য ১৫টি বাচ্চার সঙ্গে সামনাসামনি ও ১৭ জনের ছবি দেখে ফোনে কথা হয়েছে ইয়াসিরের। অন্য সব চরিত্র তত দিনে প্রায় চূড়ান্ত। শুটিংয়ের সময়ও সন্নিকটে। বাকি কেবল ইমুর চরিত্র। যতগুলো বাচ্চার সঙ্গে কথা হয়, সবার বয়স ছয় বছরের বেশি। জায়মা কেবল সাড়ে পাঁচ। ছবির সংলাপগুলো ছিল দীর্ঘ। মুখস্থ করতে সমস্যা হচ্ছিল তার। একসময় জায়মা সেসবও মুখস্থ করে ফেলে। ইয়াসির বলেন, ‘আমরা এমন একজন বাচ্চার খোঁজ করছিলাম, যার মেমোরাইজিং ক্ষমতা ভালো। বিজ্ঞাপনের অনেক তারকা শিশুর সঙ্গেও কথা বলি। কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। জায়মাকে সিলেক্ট করার পর দেখি সে প্রমিত বাংলায় কথা বলতে পারে না। টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। তারপরও মহড়া চলছিল। এক সন্ধ্যায় আমাদের অফিসের হোয়াইট বোর্ডে সে কার্টুন আঁকা শুরু করল। আমি গল্প করা শুরু করলাম। সে আমাকে ডোরেমন আঁকা শেখাল। জানতে চাইলাম, ডায়ালগটা বলতে পারবা তো? আমার স্পষ্ট মনে আছে, রাত ৮টা ১০ মিনিটে ক্যামেরার সামনে সে একটা টেক দেয়। এরপর নিশ্চিত হই, পারবে। সাদ ভাইকে বললাম, পেয়ে গেছি আমাদের ইমু। তিনি দুটো ছবি চাইলেন। পাঠালাম, পছন্দ করলেন।’

default-image

বিশ্বের নামকরা চলচ্চিত্রকার এবং চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছে জায়মা। মার্কিন চলচ্চিত্র সমালোচক রজার এবার্টের পোর্টালের সম্পাদক ব্রায়ান টলারিকো বলেছেন, ইমু অবিশ্বাস্য সাবলীল অভিনয় করেছে। প্রথম আলোর সঙ্গে একাধিকবার আলাপে বাঁধনও জানিয়েছেন, উৎসবে রেহানা মরিয়ম নূর ছবিটি দেখানোর পর যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তারাই ইমুর অভিনয়ের প্রশংসা করেছে।

কান উৎসবে প্রশংসিত হওয়ার খবর জায়মার কাছেও পৌঁছেছে। মহাখালী ডিওএইচএসের একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থী, তার মা–বাবাও ভীষণ উচ্ছ্বসিত। গত শুক্রবার বিকেলে মা–বাবার সঙ্গে বাইরে খেতে বের হয়েছিল সে। ড্রয়িং তার খুব পছন্দ। জায়মা বলে, ‘আমিও শুনেছি, ছবিটি সবার ভালো লেগেছে। বাঁধন আন্টি বলেছে, আমার প্রশংসা করেছে সবাই। শুনে আমার অনেক ভালো লেগেছে।’

আরও অভিনয় করতে চাও? জায়মা বলে, ‘এ পর্যন্ত, না। পরে ভেবে দেখব।’ জায়মার মা সামছিয়া নূর ও বাবা আবদুল্লাহিল জামিল মেয়েকে নিয়ে আনন্দিত। শুটিংয়ে জায়মার সঙ্গী ছিলেন তার নানি।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন