শনিবার বাংলাদেশ সময় যখন বেলা দুইটা, তখন নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত চারটা। এরপরই কথা হয় তাঁর সঙ্গে। গত কয়েক দিন শোনা যাচ্ছিল দেশে ফিরছেন শাকিব। কিন্তু প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে জানালেন, আপাতত আসা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এবার আর ঈদ ঢাকায় করা হচ্ছে না। তবে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় থাকতে পারবেন, এমনটাই আশা তাঁর।

শাকিব খান জানালেন, কিছুদিন ধরে নিজের প্রতিষ্ঠানের নতুন চলচ্চিত্র রাজকুমার–এর শুটিং লোকেশন দেখায় ব্যস্ত ছিলেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর দিকেও চোখ রাখছিলেন। এর মধ্যে জানতে পারলেন, বিদ্রোহী ছবিটি শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

default-image

দেশে থাকলে ঈদের সময়টায় ভীষণ ব্যস্ত থাকতে হয় শাকিব খানকে। তবে কাজের ফাঁকে যোগাযোগটা অব্যাহত আছে। হলমালিকদের কেউ যেমন যোগাযোগ করছেন, তেমনি ডিস্ট্রিবিউটর কারও সঙ্গেও ঈদের সিনেমা নিয়ে আলাপ হচ্ছে। সবার মধ্যে উৎসবের একটা আমেজ।

প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ করবেন শাকিব। ভক্তদের কৌতূহল তাঁদের প্রিয় নায়কের ঈদ সেখানে কেমন কাটবে? ঈদের দিন কী করবেন? শাকিব খান জানালেন, ‘আমি নিউইয়র্কের যেখানে থাকি, সেখান থেকে মিনিট দশেক দূরত্বে একটি আলবেনিয়ান মসজিদ আছে। ওখানেই আমি শুক্রবারের নামাজ পড়ি। ঈদের জামাত সেখানে পড়ব। আমার কয়েকজন কাছের আত্মীয় আছেন, তাঁদেরই কাউকে সঙ্গে নিয়ে নামাজ পড়তে যাব। ঈদের দিন পাঞ্জাবি, পায়জামা পরার অভ্যাস। দেশ থেকে আসার কথা, এখনো পৌঁছায়নি। আশা করছি কালকের (আজ সোমবার) মধ্যে চলে আসবে। নামাজ শেষে আত্মীয়ের বাড়ি যাবেন। সেখানেই পছন্দের খাবার খাবেন। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হবেন।’

default-image

কথায় কথায় শাকিব জানালেন, ঢাকায় থাকলে ঈদের দিন সকালেই বাবা পায়জামা–পাঞ্জাবি পরে নামাজে বের হয়ে যেতেন। বাবা আবদুর রব গুলশান আজাদ মসজিদে আর অন্যদের নিয়ে শাকিব খান বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোন এলাকার মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তেন। ঈদের জামাত শেষে ঘরে এসে মায়ের হাতে বানানো সেমাই খেতেন। মিষ্টি খেতে খুব পছন্দ করেন শাকিব খান। বললেন, ঈদের দিন মিষ্টিজাতীয় নানান খাবার খাওয়া হয়। কাচ্চি বিরিয়ানিও ভালো লাগে। এর বাইরে আরও মজার খাবার রান্না হয়। আফসোস এবার মায়ের হাতের বানানো খাবার খাওয়া হবে না।’

ঈদের দিন চুপচাপে ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো দেখা দীর্ঘদিনের অভ্যাস শাকিব খানের। ঈদের জামাত শেষে সকালে বাসায় খাওয়াদাওয়া করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। শো চলা অবস্থায় নীরবেই প্রেক্ষাগৃহে হলে ঢুকতেন, যাতে দর্শকেরা টের না পান। হঠাৎ জেনে গেল কখনো ঢাকার ভেতরের কোনো প্রেক্ষাগৃহ, কখনোবা গাড়ি নিয়ে ঢাকার পাশে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের কোনো প্রেক্ষাগৃহে ঢুঁ মারতেন। দর্শকদের সরাসরি প্রতিক্রিয়া নিয়ে বাসায় ফিরতেন। শাকিব খান বললেন, ‘দর্শকের সঙ্গে চুপচাপ সিনেমা দেখার আনন্দটা অন্য রকম। সিনেমায় আসার পর ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো একটা রুটিন ওয়ার্ক হয়ে গেছে। এবার তা মিস করব। পুরো অভিনয়জীবনে এর আগে হয়তো এক-দুবার এমনটা হয়েছে হয়তো। শুটিংয়ের কারণে তখনো দেশের বাইরে ছিলাম।’

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন