সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা ও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ঈদের ছবি মুক্তি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা ও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ঈদের ছবি মুক্তি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কাকোলাজ

ঈদ কেন্দ্রিক সিনেমা মুক্তির পরিকল্পনা ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণের পর থেকে বড় বাজেটের ছবি মুক্তি নিয়ে প্রযোজকেরা শঙ্কায় ছিলেন। তাঁদের ভরসা ছিল ঈদ। অন্য সময়ে দর্শক কম থাকলেও প্রযোজকদের আশা ছিল, ঈদে বড় বাজেটের ছবিগুলো লগ্নিকৃত টাকা তুলে আনতে পারবে! কিন্তু সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা ও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ঈদের ছবি মুক্তি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা।
ঈদে মুক্তি পেতে পারে, এমন ছবিগুলোর মধ্যে আছে বিদ্রোহী, নবাব এলএলবি: ব্যাক ফর জাস্টিস, মিশন এক্সট্রিম, মন দেব মন নেব, শান, বিক্ষোভসহ বেশকিছু সিনেমা। এ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে অন্তরাত্মা, পরাণ, অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন, শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২, দিন: দ্য ডেসহ ১০টির মতো সিনেমা।

default-image

মিশন এক্সট্রিম সিনেমার প্রযোজক ও পরিচালকদের একজন সানী সরোয়ার। তিনি জানান, নতুন করে করোনা সংক্রমণের কারণে তাঁরা থমকে গেছেন। গত বছর থেকে সিনেমাটি ঈদে মুক্তি দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। ভেবেছিলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ট্রেলার প্রকাশ করে পুরোপুরি প্রচারে নামবেন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে লকডাউন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমাদের সিনেমায় মাল্টি ইনভেস্টর আছেন। আমাদের বিনিয়োগও অনেক। উৎসব ছাড়া মুক্তি দেওয়া অর্থনৈতিক কারণে আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় আমরা কী করব, সেই সিদ্ধান্ত এখনো নিইনি। পরিস্থিতি বুঝেই সিদ্ধান্ত নেব।’

default-image

গত ১৫ বছর ঈদে নিয়মিত সিনেমা মুক্তি পেয়েছে শাকিব খানের। গত বছর তাঁর অভিনীত দুটি সিনেমা মুক্তির তালিকায় ছিল। পাশাপাশি এবার যোগ হয়েছে অন্তরাত্মা ছবিটি। ঈদে মুক্তি দেওয়ার জন্য সিনেমাটির একটানা শুটিং করেছেন শাকিব খান। ছবির পরিচালক ওয়াজেদ আলী জানান, সিনেমা মুক্তি নিয়ে তাঁরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

default-image

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির কার্যক্রম এখন বন্ধ রয়েছে। পরিবেশক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ঈদে হল বুকিংয়ের তালিকায় এখন পর্যন্ত বিদ্রোহী ও দুটি সিনেমার নাম জমা পড়েছে। বিদ্রোহী সিনেমার প্রযোজক সেলিম খান জানান, তাঁদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে বিক্ষোভ সিনেমাটিও ঈদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। ঈদে সিনেমা হল খোলা থাকলে এবং দর্শক হলে যাওয়ার মতো পরিবেশ থাকলে তাঁরা সিনেমা মুক্তি দেবেন।

default-image

তিনি বলেন, ‘সিনেমাগুলো এবারও যদি মুক্তি না দিই, তাহলে পুরোনো হয়ে যাবে। সিনেমাগুলো নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ কমতে পারে। আমাদের বড় বাজেটের সিনেমা। দেরি করলেও সমস্যা, আবার উৎসব ছাড়া মুক্তি দিলেও আর্থিকভাবে প্রচুর লোকসান গুনতে হবে।’

মিশন এক্সট্রিম সিনেমাটি শুটিংয়ের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। সিনেমাটির শুটিংয়ের জন্য বেশ শারীরিক কসরত করতে হয়েছে অভিনেতা আরিফিন শুভকে। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন কমাতে হয়েছে। সিনেমাটি নিয়ে তিনি খুবই আশাবাদী। সাপলুডু সিনেমার পর দীর্ঘদিন তাঁর নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছর ছবিটির মুক্তি আটকে যায়। এখনো পরিস্থিতি অনুকূলে আছে, চাইলে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। তবে কোভিড-১৯ সিচুয়েশন যদি আরও খারাপ অবস্থায় যায়, তাহলে মুক্তি দেওয়া ঠিক হবে না। সিনেমাটিতে আমার দেড় বছরের শ্রম জড়িত। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বুঝতে পারি। ঠিকঠাক সময়ে মুক্তি পাক।’

default-image

লকডাউনের কারণে সিনেমা হল বন্ধ। এ পরিস্থিতি ঈদ পর্যন্ত গড়ালে এই ঈদেও সিনেমা মুক্তির অনিশ্চয়তা থাকছে। শুধু তা–ই নয়, বন্ধ থাকা সিনেমা হল আবার কয়টি খুলবে, তা নিয়েও আছে শঙ্কা। এমনিতেই সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ক্রমেই। প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা ও হলমালিক মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘এবার ঈদে সিনেমা হল বন্ধ রাখলে আমাদের হল চালু করার মতো আর কোনো অবস্থা থাকবে না। ব্যবসাটা নিয়েই আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাব। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে কষ্ট হবে।’
করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। এখন চলছে সরকারের সর্বাত্মক লকডাউন। পরিস্থিতি ভালো না হলে শুধু ঈদের সিনেমাই নয়, গোটা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিই পড়বে হুমকির মুখে।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন