default-image

অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বর্তমানে এ অভিনেতার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে প্রবীণ এ অভিনেতার শরীরে কোনো রোগ বাসা বেঁধেছে কি না, সেটা জানতে তাঁর শরীরের প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে। সব কটি পরীক্ষার ফলাফল হাতে পেলেই বাসায় ফিরবেন তিনি।

গতকাল বুধবার বিকেলে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে।
শ্বাসকষ্ট দেখে চিকিৎসকেরা প্রথম দিকে ধারণা করেছিলেন, এ টি এম শামসুজ্জামান করোনায় আক্রান্ত। পরে পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া হয়। ফলাফলে জানা যায় করোনা নেগেটিভ। এ অভিনেতার স্ত্রী রুনি জামান প্রথম আলোকে জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাঁরা চিন্তিত। কারণ, এ অভিনেতার বয়স হয়েছে। শরীরও দুর্বল। তা ছাড়া গত কয়েক বছরে একাধিক অপারেশন হয়েছে তাঁর। রুনি জামান বলেন, ‘এখনো আমরা কিছুটা ভয়ের মধ্যে আছি। তিনি (এ টি এম শামসুজ্জামান) পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাসায় না ফিরলে চিন্তামুক্ত হতে পারছি না। গতকাল থেকেই তাঁর শরীরের নানা রকম পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে। অন্য কোনো রোগ আছে কি না, তা পরীক্ষা জন্য ১০টির বেশি টেস্ট করা হয়েছে। আরও কিছু টেস্ট বাকি আছে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

এ টি এম শামসুজ্জামানের শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে পুরান ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবরটি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন এ অভিনেতার মেজ মেয়ে কোয়েল আহমেদ। বুধবার কোয়েল জানান, দুই দিন ধরে খাবার খেলেই তাঁর বাবার বমি হচ্ছিল। শ্বাসকষ্টও ছিল। আজ শ্বাসকষ্টের মাত্রাটা বেড়ে যায়। এরপর দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁরা এখনো হাসপাতালে আছেন। হাসপাতাল থেকে রুনি জামান জানান, রাত থেকে বমি হওয়া ও শ্বাসকষ্ট কিছুটা কম। মূলত অ্যাজমার কারণে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া তাঁর নিয়মিত যে চিকিৎসা ও চেকআপ করা হয়, সেটার দিনক্ষণ এগিয়ে আসছিল। এ জন্য তাঁরা আগে থেকেই পরীক্ষা–নিরীক্ষার কথা ভাবছিলেন। এর মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে আসার পরে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা–নিরীক্ষার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সব পরীক্ষার ফল হাতে পেলেই তিনি বাড়ি ফিরতে চান। দুই দিন ধরে এমআরআই, হার্ট, কোভিডসহ বেশ কিছু পরীক্ষায় কিছু ধরা পড়েনি। সবকিছু ভালো থাকলে যত তাড়াতাড়ি পারা যায় তাকে নিয়ে বাসায় ফিরব।’

default-image

২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল রাতেও বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এ টি এম শামসুজ্জামান। সেদিনও তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। ওই রাতে তাঁকে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ টি এম শামসুজ্জামানের অন্ত্রে প্যাঁচ লেগেছিল। সেখান থেকে আন্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা। এর ফলে খাবার, তরল, পাকস্থলীর অ্যাসিড বা গ্যাস বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং অন্ত্রের ওপর চাপ বেড়ে যায়। ফলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তাঁর দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর কিছু শারীরিক জটিলতা হয়।

এ টি এম শামসুজ্জামান বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ লেখক ও গল্পকার। অভিনয়ের জন্য কয়েকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন একুশে পদক।

default-image
বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন