default-image

বেলা সোয়া তিনটা। কাজী হায়াতের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খবর নিতে মেয়ের নম্বরে ফোন করা হয়। ধরেই ওপাশ থেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন। এ যেন যুদ্ধজয়ের আনন্দ। কারণ, বাবাকে আজ বাসায় নিয়ে গেছেন। বাবা বরেণ্য পরিচালক কাজী হায়াতের করোনা থেকে সুস্থতার খবরে তাই ভীষণ আনন্দিত মেয়ে কাজী আফরোজা মিম। সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করলেন। অথচ কয়েক দিন বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে শুধুই কেঁদেছেন। করোনা নেগেটিভ আসার পর আজ রোববার দুপুরে বাসায় নেওয়া হয় কাজী হায়াৎকে।

কাজী হায়াতের সুস্থতা ও বাসায় ফেরার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন তারই মেয়ে কাজী আফরোজা মিম। তিনি বললেন, ‘আমার আব্বা দেখতে এবং চলন–বলনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার নয়, সাইবেরিয়ান বাঘের মতো। অথচ এই কয়েক দিনের অসুস্থতায় আমার সেই আব্বা এখন একদম শুকিয়ে গেছেন। আব্বার এখন অনেক বেশি যত্ন দরকার। শারীরিক দুর্বলতা আছে। কাশিও আছে কিছুটা। সবাই আব্বার জন্য দোয়া করেছেন। আমরা তাঁকে সুস্থভাবে বাসায় আনতে পেরেছি, এটাই পরম আনন্দের।’
করোনা থেকে সুস্থ হলেও ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, ব্লাডপ্রেশার, কিডনিসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত বাবাসহ আরও কিছু জটিলতা শরীরে বাসা বেঁধেছে কাজী হায়াতের। বাসায় ফিরলেও চিকিৎসকের পরামর্শে সেসবের চিকিৎসা চলছে। এদিকে বাবা সুস্থ হয়ে যাওয়াতে আজ রাতেই নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক কাজী মারুফ।

বিজ্ঞাপন
default-image

কাজী হায়াতের মেয়ে কাজী আফরোজা মিম ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সেরেছেন। বর্তমানে দেশের নামকরা একটি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। মিম বলেন, ‘করোনার শুরু থেকে আব্বাকে ঘরের বাইরে বের হতে দিইনি। এমনিতে আমার আব্বার অনেক ধরনের শারীরিক জটিলতা, তাই ঘরের বাইরে বের হতে দিতে ভয় লাগত। আমার সেই আব্বাকে করোনা কীভাবে সংক্রমণ করল, ভাবতেই পারছি না। হাসপাতালে আব্বাকে অসহায় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে কিছুই ভালো লাগত না। এখন বাসায় ফেরায় স্বস্তি।’
করোনায় আক্রান্ত বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎকে ১৫ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। একই হাসপাতালে তাঁর স্ত্রীকেও ভর্তি করানো হয়। ৮ মার্চ দুজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তাঁরা দুজন বাসাতেই ছিলেন। ২ মার্চ তিনি করোনার টিকা নিয়েছেন। ৫ মার্চ থেকে জ্বর জ্বর বোধ করছেন তিনি।

default-image

বাসা ও বাইরে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন পরিচালক কাজী হায়াৎ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এ সময় কাজ থেকে বিরত ছিলেন এই নির্মাতা, প্রযোজক ও অভিনেতা। তখন থেকেই ঘরের বাইরে বের হতেন না তিনি। কোনো কাজে বের হলেও থাকত বাড়তি সতর্কতা। মার্চের প্রথম সপ্তাহে জ্বর নিয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন এই পরিচালক। ফল হাতে এলে জানতে পারেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

সম্প্রতি কাজী হায়াৎ অভিনয় করেছেন হিরো আলম প্রযোজিত ‘টোকাই’ ছবিতে। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত শুটিংয়ে অংশ নেন। ছবিতে কাজী হায়াৎকে দেখা যাবে নায়িকার বাবার চরিত্রে, যিনি টোকাই চরিত্রের অভিনেতা হিরো আলমকে তাঁর বাড়িতে আশ্রয় দেন। তাঁর পরিচালিত সর্বশেষ ছবির নাম ‘বীর’। এই ছবিতে অভিনয় করেন শাকিব খান ও বুবলী।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন