ছেলে মারুফ ও মেয়ে মিমের সঙ্গে বরেণ্য পরিচালক বাবা কাজী হায়াত
ছেলে মারুফ ও মেয়ে মিমের সঙ্গে বরেণ্য পরিচালক বাবা কাজী হায়াতছবি : পারিবারিক অ্যালবাম থেকে নেওয়া

‘ছোটবেলা থেকে এই আব্বা-আম্মাই আমাদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছেন। তাঁরা খুব সাধারণ ও সাদামাটা জীবন যাপন করে আমাদের সব চাওয়া–পাওয়া পূরণ করেছেন। এই আব্বাটা কখন যে আমার ছেলে হয়ে গেছে, তা টেরই পাইনি। আমার সেই আব্বাটা দুদিন ধরে আইসিইউতে। আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না। কেউ তো আমাকে একবার বলেন, আমার আব্বার কিছুই হয়নি।’ বিলাপ করতে করতে এভাবেই বাবা দেশবরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনয়শিল্পী কাজী হায়াতের সর্বশেষ অবস্থার বর্ণনা করছিলেন তাঁরই মেয়ে কাজী আফরোজা মিম।

default-image

কাজী আফরোজা মিম ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সেরেছেন। বর্তমানে দেশের নামকরা একটি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। আজ সোমবার সকাল ও দুপুরে দুই দফায় কথা হয় কাজী আফরোজা মিমের সঙ্গে। তিনি জানালেন, গতকাল তাঁর বাবাকে হাসপাতালের কেবিন থেকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনায় আক্রান্ত মা রোমিসা হায়াৎ সুস্থ হলেও এখনো তিনি হাসপাতালেই ভর্তি।

বিজ্ঞাপন
default-image

মিম বলেন, ‘করোনার শুরু থেকে আব্বাকে ঘরের বাইরে বের হতে দিইনি। এমনিতে আমার আব্বার অনেক ধরনের শারীরিক জটিলতা, তাই ঘরের বাইরে বের হতে দিতে ভয় লাগত। আমার সেই আব্বাকে করোনা কীভাবে সংক্রমণ করল ভাবতেই পারছি না। হাসপাতালে আব্বাকে এভাবে শুয়ে থাকতে দেখে কিছুই ভালো লাগছে না। সবাই আমার আব্বার জন্য দোয়া করবেন।’

চলচ্চিত্র পরিচালক বাবা কাজী হায়াতের কথা বলতে বলতে কেঁদেই চলছেন মেয়ে কাজী আফরোজা মিম। তিনি বললেন, ‘ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, ব্লাড প্রেশার, কিডনিসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত বাবা। ফুসফুসেও সংক্রমণ হয়েছে। অক্সিজেন সাচুরেশন উঠানামা করছে।’

default-image

করোনায় আক্রান্ত বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎকে ১৫ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। একই হাসপাতালে তাঁর স্ত্রীকেও ভর্তি করানো হয়। ৮ মার্চ দুজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তাঁরা দুজন বাসাতেই ছিলেন। ২ মার্চ তিনি করোনার টিকা নিয়েছেন। ৫ মার্চ থেকে জ্বর জ্বর বোধ করছেন তিনি। কাজী হায়াতের পুত্রবধূ রাইসাও আইসিইউতে ভর্তি তাঁর শ্বশুরের জন্য দোয়া চেয়েছেন। অসুস্থ বাবার পাশে থাকতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসেছেন কাজী হায়াতের ছেলে চিত্রনায়ক কাজী মারুফ।

default-image

বাসা ও বাইরে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন পরিচালক কাজী হায়াত। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এ সময় কাজ থেকে বিরত ছিলেন এই নির্মাতা, প্রযোজক ও অভিনেতা। তখন থেকেই ঘরের বাইরে বের হতেন না তিনি। কোনো কাজে বের হলেও থাকত বাড়তি সতর্কতা। মার্চের প্রথম সপ্তাহে জ্বর নিয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন এই পরিচালক। ফল হাতে এলে জানতে পারেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

সম্প্রতি কাজী হায়াত অভিনয় করেছেন হিরো আলম প্রযোজিত ‘টোকাই’ ছবিতে। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত শুটিংয়ে অংশ নেন। ছবিতে কাজী হায়াৎকে দেখা যাবে নায়িকার বাবার চরিত্রে, যিনি টোকাই চরিত্রের অভিনেতা হিরো আলমকে তাঁর বাড়িতে আশ্রয় দেন।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন