default-image

ধর্ষণে নারীর অশালীন পোশাককে দায়ী করে যে ভিডিও বার্তাটি প্রকাশ করেছিলেন, সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন অনন্ত জলিল। তোপের মুখে ক্ষমা চেয়ে ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে ভিডিওটি সরাতে বাধ্য হন পোশাক ব্যবসায়ী ও ঢালিউডের আলোচিত–সমালোচিত অভিনেতা অনন্ত জলিল। ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে ভিডিওটি সরিয়ে সম্পাদিত নতুন ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। অনেকেই বলছেন, আলোচনায় থাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ভিডিওগুলো আগেই বানিয়েছেন জলিল।

বিজ্ঞাপন
default-image
সম্প্রতি দেশে ধর্ষণ, বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীর দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। পরিবারের দায়িত্ব নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা

জলিলের ভিডিওর মন্তব্যের ঘর ভরে উঠেছিল ক্ষুব্ধ মন্তব্যে। সাধারণ মানুষ ও বিনোদন অঙ্গনের মানুষদের ক্ষোভের মুখে ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে নিজের ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলেন জলিল। ভিডিওটি সরিয়ে জলিল লেখেন, ‘গতকালের ভিডিওতে আমি মূলত মেয়েদেরকে শালীনতা বজায় রাখার কথা বলতে চেয়েছি। অনেকেই বিষয়টিকে পজিটিভভাবে নিয়েছেন আবার অনেকেই নেগেটিভভাবে নিয়েছেন। আমি কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না। নারী-পুরুষ উভয়েই পরিবার ও সমাজের জন্য অনিবার্য। পরিবার টিকিয়ে রাখার জন্য যেমন নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, পরিকল্পনা, ত্যাগ ও সংযমের প্রয়োজন। একজনকে উপেক্ষা করে বা বাদ দিয়ে কেবল পুরুষ কিংবা নারীর পক্ষে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়। তাই আমরা চাই নারী-পুরুষের সৌহার্দ্যপূর্ণ সমঝোতামূলক সম্পর্ক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক।’

ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে সারা দেশ যখন সোচ্চার, ঠিক তখনই নারীর পোশাক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন অনন্ত জলিল। চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেক পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও পরিচালকেরা অনন্ত জলিলের এ ধরনের মন্তব্যে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারকাদের কেউ কেউ তাঁকে বয়কট করারও আহ্বান জানিয়েছেন।

default-image

৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে জলিল বলেছিলেন, ‘অশালীন পোশাক ধর্ষণের কারণ’, ‘শালীন পোশাক পরা নারী কখনোই ধর্ষণের শিকার হন না’, ‘পোশাক ভালো না হলে নারীর ফিগার দেখে বাজে স্বভাবের লোকজন ধর্ষণে উসকানি পায়।’ গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এ রকম বক্তব্যসংবলিত এক ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেখানে তরুণীদের উদ্দেশে জলিল বলেছিলেন, ‘তোমাদের ভাই হিসেবে কিছু কথা বলতে চাই। নাটক, সিনেমা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসরণ করে অন্য দেশের মেয়েদের মতো মডার্ন হতে গিয়ে বিদেশি সংস্কৃতির পোশাক পরছ। এসব পোশাকের জন্য রাস্তার বখাটেরা তোমার চেহারার দিকে না তাকিয়ে তোমার শরীর ও ফিগারের দিকে নজর দেয়। তোমাদের পোশাক দেখেই তারা তোমাদের ফিগার নিয়ে নানা কথা বলে। আর তাদের মাথায় ধর্ষণের চিন্তা আসে।’

ক্ষমা চেয়ে দেওয়া পোস্টে অনন্ত জলিল লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ, বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীর দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। পরিবারের দায়িত্ব নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0