default-image

করোনাভাইরাসের উপদ্রব শুরু হওয়ার প্রথম দিকে বেশ কিছু ছবির ঘোষণা আসে। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে বেশ কয়েক মাস। ছবিগুলোর অগ্রগতি নিয়ে পরে আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে কি ঘোষণাতেই আটকে আছে ছবিগুলো? শোনা গেছে, কোনো কোনো ছবি নির্মাণের পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে। কোনো ছবির শুটিং হয়েছে দু–এক দিন। সেসব ছবির প্রযোজক ও পরিচালকেরা জানালেন, ছবিগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

চলতি বছরের মার্চ মাসে ব্লাড ছবির মহরত হয়। চিত্রনায়ক ইমন ও নায়িকা মাহিয়া মাহিকে নিয়ে ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল এপ্রিল মাসে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে শুটিং করতে পারেননি পরিচালক। গত জুন মাসে শুটিং করার অনুমতি মেলে। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাস পেরিয়ে গেলেও ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ছবির পরিচালক ওয়াজেদ আলী সুমন বলেন, ‘ছবির প্রযোজক বিদেশে চলে গেছেন। এখন আর ছবিটি তৈরির সুযোগ নেই। আবার নতুন প্রযোজক পাওয়া গেলে ছবি নিয়ে ভাবব। তখন আবার নায়ক–নায়িকা চূড়ান্ত করে কাজ শুরু করতে পারি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

পরিচালক অনন্য মামুন, দীপংকর দীপন ও সৈকত নাসির যৌথভাবে ৭ জুন থেকে ত্রিভুজ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দেন। ছবিতে নেওয়ার কথা ছিল সিয়াম ও পূজা চেরিকে। ছবিটি নিয়ে ফেসবুকে এসব লিখেছিলেন অনন্য মামুন। গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ছবির শুটিং শেষ করে চলতি বছরের ঈদুল আজহায় মুক্তি দেবেন। কিন্তু প্রায় সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও শুটিং শুরু হয়নি ছবির। তিন পরিচালকের একজন সৈকত নাসির জানিয়েছেন, তিনি এ প্রকল্পের সঙ্গে আর থাকবেন না। তিনি বলেন, ‘আমি ছবির ঘোষণা ফেসবুকে দিইনি। অনন্য মামুন নিজেই জানিয়েছিলেন। অনেক দিন হয়ে গেল এখন আর ছবিটি করার সময় আমার হাতে নেই। আমি এখন অন্য ছবির প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। তা ছাড়া ওই ছবির গল্পও এই সময়ের সঙ্গে মানানসই হবে না।’

তবে অনন্য মামুন এখনো ছবিটি তৈরির ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি জানান, নভেম্বর থেকে ত্রিভুজ ছবির কাজ শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এ জন্য ছবির কাজ ঠিক সময়ে শুরু করতে পারিনি। এখন নবাব এলএলবি ছবির শুটিং করছি। নভেম্বর থেকে ত্রিভুজ ছবির শুটিং শুরু করার ইচ্ছা আছে।’

বিজ্ঞাপন

গত ১০ এপ্রিল থেকে নিরবকে নিয়ে তিতুমীর ছবির শুটিং শুরুর কথা ছিল ডায়েল রহমানের। ছবিতে নিরবের ‘ফার্স্টলুক’ দিয়ে একটি পোস্টারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, আসে শুটিং সেট নির্মাণের ঘোষণা। কিন্তু বেশ কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও শুটিং শুরু হয়নি ছবির। নিরব বলেন, ‘প্রস্তুত হচ্ছিলাম। পরে করোনার কারণে সবকিছু থেমে গেল। ছবির খবর আমি জানি না। এ ব্যাপারে পরিচালকের সঙ্গে আর কথা হয় না। কবে থেকে শুটিং, আদৌ হবে কি না, এ পরিস্থিতিতে বলা মুশকিল।’

করোনার মধ্যে ঘোষণা দেওয়া সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের লকডাউন ছবিটির অবস্থাও একই। বাপ্পী ও অধরা খানকে নিয়ে গত ২৯ মে কমলাপুর রেলস্টেশনে দুই ঘণ্টা শুটিং হয়েছে ছবিটির। নতুন করে কবে শুটিং শুরু হবে, তার নিশ্চয়তা দিতে পারেননি ছবির পরিচালক। ডায়মন্ড বলেন, ‘শুটিং যেহেতু শুরু করেছি, অবশ্যই শেষ করব। তবে কবে থেকে শুরু করব, এখনই বলতে পারছি না।’

মন্তব্য পড়ুন 0