default-image

সতেরো বছর আগে চলচ্চিত্র থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন জনপ্রিয় জুটি শাবনাজ–নাঈম। এর পর তাঁদেরকে আর কোনো ছবিতে দেখা যায়নি। ৯০ দশকের জনপ্রিয় এই জুটি এত দিন সংসার ও ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। দীর্ঘ সতেরো বছর পর এক সময়ের জনপ্রিয় এই জুটি আবারও ফিরছেন বাংলা চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রে ফেরার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন শাবনাজ ও নাঈম দুজনেই।

দুই যুগ আগে নির্মিত হয় ‘চাঁদনী’ ছবিটি। গুণী পরিচালক এহতেশাম পরিচালিত এই ছবির মাধ্যমে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে শাবনাজ ও নাঈম জুটির। ‘চাঁদনী’ ছবির আদলেই এবার তাঁরা ছবি নির্মাণ করবেন। নাঈম হবেন ছবিটির নির্মাতা। আর তাঁকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন শাবনাজ। গতকাল বুধবার বিকেলে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তেমনটাই জানালেন শাবনাজ ও নাঈম।
নাঈম বলেন, ‘চলচ্চিত্রও ছেড়েছি অনেক বছর। মানুষ এখনো আমাদের ভালোবাসে অভিনয়শিল্পী হিসেবে। বেশ কিছুদিন ধরে ভাবছি, চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করার। চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে আবার চলচ্চিত্রের ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া।’
নাঈম আরও বলেন, বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে এহতেশামের হাত ধরে অনেক বড়মাপের নির্মাতা ও নায়ক-নায়িকা এসেছেন। অথচ এখন তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পর্যন্ত ঠিকমতো পালন করা হয় না। থাকে না তাঁকে নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা অনুষ্ঠান। নাঈম তাঁর পরিচালিত ছবিটির মধ্য দিয়ে এহতেশামকেও স্মরণ করতে চান।
নাঈম বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন ‘চাঁদনী’ রিমেক হবে কী না? আমি বলব, আসলে বিষয়টা তেমন কিছু নয়। আমরা যে ছবিটি বানাতে চাই, তা নিটোল প্রেমের। ইচ্ছে আছে, চাঁদনী ছবিকে বেইজড করে সমসাময়িক ব্যাপার মাথায় রেখে একটি নিটোল প্রেমের ছবি বানানোর। এখনো নাম নিয়ে ভাবিনি। অক্টোবরে ‘চাঁদনী’ ছবি মুক্তির ২৪ বছর হবে, এ ছবির মাধ্যমে এহতেশাম সাহেব আমাদেরকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরেন। নতুন একটি পরিচয় দেন। তাই এহতেশাম সাহেবকে শ্রদ্ধা জানাতে আমাদের ছবিটি সম্পর্কে চাঁদনী মুক্তির মাসেই বিস্তারিত ঘোষণা দেব।’
শাবনাজ ও নাঈমের প্রথম ছবিতে অভিনয় করবেন এক জোড়া নতুন মুখ। এখন নায়ক-নায়িকা খোঁজার কাজ চলছে। আগ্রহীরা চাইলে tomakechaibangladesh@gmail.com এই ইমেইলের মাধ্যমেও যোগাযোগ করতে পারেন। নাঈম বলেন, ‘আমার মাথায় অনেক দিন ধরে নতুনদের জন্য একটা কিছু করার চিন্তা ছিল। আমরাও কিন্তু চলচ্চিত্রে নতুন ​হিসেবেই এসেছিলাম। নতুনরা এলে তাঁদের দেখে আরও নতুন কেউ চলচ্চিত্রে আসবে। ‘চাঁদনী’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আমার ও শাবনাজের চলচ্চিত্রে আসা। সে সময় আমাদের ছবিটি খুব হিট হয়েছিল। আমরাও নতুন ছিলাম। আমাদের পর পরই মৌসুমী-সালমান-শাবনূরসহ আরও অনেকেই চলচ্চিত্রে আসে। আমি আসলে ওই ধারণাই সবাইকে দিতে চাচ্ছি।’
‘অনেকেই বলছেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অবস্থা নাকি খুব খারাপ। এই সময়টাতে আপনি কেন নির্মাণে আসছেন? আমরা যখন চলচ্চিত্রে আসি তখনো চলচ্চিত্রের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। নতুনদের কোনো জায়গা ছিল না। আমরা কিন্তু জায়গাটা করে নিয়েছি এবং চলচ্চিত্রও একটা ভালো জায়গায় পৌঁছে। আমার বিশ্বাস আমার ছবি নির্মাণের কথা শুনে হয়তো আমার সহকর্মী ও বন্ধুরা ছবি নির্মাণে আগ্রহী হবে। আর তাতেই ছবির একটা ইতিবাচক পরিবর্তন তো হবেই।’ বললেন নাঈম।
নাঈম আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্র থেকে আমার আর নতুন করে পাওয়ার কিছু নাই। আমি চাই, নতুন ছেলে-মেয়েরা অভিনয়ে আসুক। তাঁরা সুন্দরভাবে কাজ করুক। আমার লগ্নিকৃত টাকাটা ঠিকমতো উঠে আসলে হলো। চলচ্চিত্র থেকে আমি ব্যবসায়িকভাবে কোনো লাভের আশা করছি না। শুধু নায়ক-নায়িকা নয়, তার সঙ্গে নতুন নির্মাতার দেখাও পাব। আমি কিন্তু একটা ছবি বানানোর জন্য আসছি না। আমি চাইব, চলচ্চিত্র আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।
শাবনাজ ও নাঈম জুটির প্রথম ছবি এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’। কয়েক বছরের চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ারে তাঁরা জুটি হয়ে অভিনয় করেন বিশটির মতো ছবিতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘জিদ’, ‘লাভ’, ‘চোখে চোখে’, ‘অনুতপ্ত’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘সোনিয়া’, ‘টাকার অহংকার’, ‘সাক্ষাৎ’ ও ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন