ভারতের মুম্বাইতে ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবির শুটিং করছেন বাংলাদেশের অভিনেতা আরিফিন শুভ। শুটিং শেষে হোটেল কক্ষেই কাটে তাঁর সময়। কিন্তু গত শনিবার সন্ধ্যাটা একটু অন্য রকম হয়ে আসে তাঁর কাছে। এক বন্ধু জানায়, ভারতের খ্যাতিমান কবি জাভেদ আখতারের সঙ্গে দেখা করার একটা সুযোগ এসেছে! এ সুযোগ কে হাতছাড়া করতে চাইবে?

সেদিন শুটিংয়ের পর বন্ধুর সঙ্গে শুভ ছুটলেন মুম্বাইয়ে জুহুর এক বাড়িতে, বলিউডের বিখ্যাত সব গানের গীতিকবি জাভেদ আখতার ও অভিনেত্রী শাবানা আজমি দম্পতি থাকেন যেখানে। অন্য অনেকের মতো অভিনেতা শুভরও স্বপ্নের মানুষ এ দুজন।

সামনে থেকে তাঁদের দেখা পেয়ে কেমন লেগেছিল শুভর? প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে গত রোববার দুপুরে শুভ জানান, সেই সন্ধ্যার কয়েকটা ঘণ্টা তাঁর জীবনের অমূল্য নয়, যেন অপার্থিব মুহূর্ত হয়ে রইল। জাভেদ আখতারের সঙ্গে কাটানো চার ঘণ্টা কখনই ভুলবেন না তিনি। শুভ বলেন, ‘জাভেদ সাহেবের ব্যাপারে আমার পাগলামির কথা তাঁকে জানিয়েছিলেন আমার সেই বন্ধু। জাভেদ আখতার আমার বন্ধুকে বলেছেন, শুটিংয়ের ফাঁকে যেন আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যায়।’ বন্ধুর কাছ থেকে যখন জাভেদ আখতারের বাড়িতে যাওয়ার দাওয়াত পেলেন, আনন্দে যেন হাওয়ায় উড়ছিলেন শুভ।

default-image
বিজ্ঞাপন

গত মাসের ১৯ তারিখ মুম্বাইতে যান শুভ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীচিত্র ‘বঙ্গবন্ধু’র শুটিংয়ের জন্য। এপ্রিল মাস পর্যন্ত তাঁকে থাকতে হবে ভারতে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী অবলম্বনে নির্মাণাধীন ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিটি পরিচালনা করছেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার শ্যাম বেনেগাল। গত রোববার শুটিং ছিল না। এদিন দুপুরে শুভ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি অভিনয়জীবনের দারুণ একটা ভ্রমণ। কত কী যে শিখছি, জানতে পারছি, তা বলে বোঝাতে পারব না।’

default-image

শুভসহ ছবির অন্য অভিনয়শিল্পীরা উঠেছেন একটি পাঁচতারা হোটেলে। ইউনিটের কেউ কেউ আবার শুভর কক্ষে মহড়াও করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের মধ্যে থেকে দুজন জানিয়েছেন, শুভ পুরোপুরি চরিত্রে ডুবে আছেন। এর প্রমাণ পাওয়া গেছে তাঁর কক্ষে ঢুকে। তিনি বলেন, ‘কক্ষটি ভরে আছে শেখ মুজিবুর রহমানের নানা সময়ের ৫০টি ছবিতে। ঘুম থেকে উঠে শুভ যেদিকে তাকাবেন, সেদিকেই শেখ মুজিবের দুর্লভ সব ছবি তাঁর চোখে পড়বে। চরিত্র হয়ে ওঠার এমন গভীর আত্মনিবেদন মুগ্ধ করার মতো।’

default-image


স্বপ্নের সেই মানুষটিকে সামনে থেকে কেমন লাগল? শুভ বলেন, ‘চার ঘণ্টা শুধু তাঁর কথা গিলেছি। দেখছিলাম, শুনছিলাম আর মুগ্ধ হচ্ছিলাম। কেবল খাবারের টেবিলে কিছু কথা বলেছি।’ জাভেদের স্ত্রী শাবানা আজমির সঙ্গে দেখা হয়নি? জানতে চাইলে শুভ বলেন, ‘তিনি বাসায় ছিলেন না। স্টিফেন স্পিলবার্গের একটি ছবির শুটিংয়ে অংশ নিতে তিনি ভারতের বাইরে গেছেন।’ রাতের খাবারের মেন্যুতে কী কী ছিল? শুভ বলেন, ‘লক্ষ্ণৌ বিরিয়ানি, ডাল, মাছসহ আরও কী কী সব যেন খেলাম। আমি যেহেতু বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি, তাই আমার জন্য মিষ্টি দই আর রসগোল্লাও ছিল।’

default-image

শুধু খাওয়াদাওয়া আর আড্ডা নয়। হোটেলে ফেরার আগে শুভকে একটি পেনড্রাইভ উপহার দেন জাভেদ আখতার। সেটায় ছিল জাভেদ আখতারের অনুবাদ করা দশটি রবীন্দ্রসংগীত। ওই মুহূর্তে বাসায় কোনো সিডি না থাকায় গানগুলো পেনড্রাইভে করে শুভর হাতে তুলে দেন জাভেদ আখতার। এ ছাড়া তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফেরার আগে যদি আবার দেখা হয়, তাহলে নিজের লেখা বই উপহার দেবেন শুভকে।

হোটেলে ফিরে ফেসবুকে জাভেদ আখতারের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন শুভ। ভক্ত ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন মিষ্টি অনুভূতি। শুভ লেখেন, ‘এমন লিজেন্ডকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অসাধারণ এক সন্ধ্যা। আমার স্বপ্ন সত্যি হলো নাকি আমি এখনো স্বপ্ন দেখছি? যিনি “শোলে”, “ডন”, “১৯৪২”, “জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা” ছবিগুলোর জন্য গান লিখেছেন। যার লেখা প্রতিটি শব্দ মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আমার জীবনে আপনার লেখাগুলো অনেক প্রভাব ফেলেছে। জাভেদ সাহেব, আপনার সঙ্গে দেখা করার এই সুযোগ অনেক সম্মানের। কোনো ভাষায় সেই জাদুকরী সন্ধ্যার অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আর লক্ষ্ণৌ প্ল্যাটারটি উপভোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

default-image
বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন