বিজ্ঞাপন
default-image

‘টেলিভিশন’ দেখে ভারতের কলকাতার এক নির্মাতা রুমীকে বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশের হলে আপনাকে সিনেমায় নিতে পারতাম।’ রুমীও ভেবেছিলেন, নিয়মিত সিনেমা করবেন। সবার প্রশংসা তাঁর ভেতরে অভিনেতা হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ আরও প্রকট করে তোলে। তিনি অভিনয়কে ধ্যানজ্ঞান করে ফেলছিলেন। আর দিনের পর দিন অপেক্ষার প্রহর গুনেছেন, ভালো একটি চরিত্রের, চিত্রনাট্যের। যেখানে তিনি নিজেকে উজাড় করে অভিনয় করবেন। কিন্তু সেই চরিত্র কেউ তাঁর সামনে আনেননি। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য সেভাবে কোনো চরিত্র কেউ লেখেননি। কাজের জন্য তেমন কোনো প্রস্তাব পাইনি। চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে অনেক আশা ছিল, কিন্তু কিছুই হলো না। এসব নিয়ে এখন আর আমার কোনো অভিমান নেই। কিন্তু “টেলিভিশন”–এর পর আশ্চর্য ও ব্যথিত হয়েছিলাম আমি। ভালো চরিত্র আমার কপালে আর জুটল না।’

default-image

রুমীকে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে মোস্তাফা সরয়ার ফারুকীর নির্মাণে। এই অভিনেতার ক্যারিয়ারের যেটুকু পরিচিতি, সেটা হয়েছে এই নির্মাতার নাটক, বিজ্ঞাপন ও সিনেমা করেই। একসঙ্গে প্রথম তাঁরা কাজ করেন ২০০০ সালে। রুমী জানান, ১৯৯৯ সালে একুশে টেলিভিশনে বছরব্যাপী একটি রান্নার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি ছিল মজার। নানা রকম কৌতুক, মজার গল্প ও কথোপকথন থাকত সেখানে। সেই অনুষ্ঠানের সময় ফারুকী একটি বিজ্ঞাপনের জন্য চরিত্র খুঁজছিলেন। তখন অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিমের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়। তিনি বলেন, ‘‌‌ফারুকীর কাছ থেকেও “টেলিভিশন” সিনেমা করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। আমি চারজনকে গুরু মানি। তাঁদের একজন সরয়ার (মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী)। এমনও হয়েছে, অভিনয়ের প্রস্তাব পেলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম সেটা করব কি না। তিনি সায় দিলে করতাম। আমাদের বোঝাপড়া ভালো ছিল।’

default-image

‘টেলিভিশন’ সিনেমার পর এনামুল করিম নির্ঝরের ‘নমুনা’ ও আশীষ খন্দকারের ‘বাথান’ ছবিতে অভিনয় করেন রুমী। দুটি সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে। দুটি গল্পেও ছিল ভিন্নতা। কিন্তু সিনেমাগুলো মুক্তি পায়নি। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঘরানার কিছু ছবিতে ডাক পেয়েছিলেন। গল্প–চরিত্র মিলিয়ে উৎসাহ পাননি। তবে এখন তাঁর মনে হচ্ছে, কাজগুলো করা উচিত ছিল। কারণ, পর্দায় থাকাটাও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ। যদিও পরে তিনি নাটক ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পর্দায় ফেরেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভালো ভালো চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা ছিল। সেটা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে আফসোস হয়।’

শৈশব থেকেই স্কুলের অনুষ্ঠানগুলোতে আবৃত্তি ও অভিনয় করতেন কাজী শাহীর হুদা রুমী। তখন অভিনয়টা সেভাবে বুঝতেন না। তবে অভিনয় শেখার প্রবল ইচ্ছা ছিল। ১৯৭২-৭৩ সেশনে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাশাপাশি যোগ দেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে। অভিনয় শিখতে থাকেন। এখান থেকেই তাঁর অভিনয়ে হাতেখড়ি। এখান থেকেই তাঁর অভিনয়ের প্রতি তীব্র ভালোবাসা তৈরি হয়। শুরু হয় গুরু আলী যাকেরের কাছ থেকে অভিনয় শেখা। আলী যাকেরের নির্দেশনায় তিনি ‘সৎ মানুষের খোঁজে’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন।

default-image

আবদুল্লাহ আবু সাঈদের উপস্থাপনায় বিটিভির কিছু অনুষ্ঠানের নাটিকায় অভিনয় করেছিলেন। সত্তর দশকের শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে গিয়েও অভিনয় ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘অভিনয় আমার খুবই ভালো লাগত। এই সময়ে দেশে অনেক নাটক হচ্ছিল। আমি গেলে সেই নাটকগুলো মিস করব। উচ্চশিক্ষা নিতে যাব কি না, এ নিয়ে দোটানায় ছিলাম। পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও ক্যাম্পাস ও বাঙালি কমিউনিটিতে অভিনয় করেছি। কিন্তু আমি সবচেয়ে বেশি মিস করেছি আশির দশকের নাটকগুলো।’

জাতিসংঘের পরামর্শক হিসেবে ২০ বছর কাজ করেছেন রুমী। এর ফাঁকে অভিনয় করতেন। চাইতেন, নিয়মিত অভিনয় করবেন। সেই সুযোগ তিনি পাননি। প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থেকে গত বছর ফিরেছেন। তারপর থেকেই করোনার কারণে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি। সর্বশেষ দীপ্ত টিভির একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছিলেন। দুই পর্বে অভিনয়ের পর ব্যক্তিগত জরুরি কারণে নাটকটি থেকে সরে পড়তে হয়। তিনি প্রথম অভিনয় করেন ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নম্বর’ সিনেমায়। স্পার্টাকাস–৭১, ছায়াবাজি, প্রজন্ম টকিজসহ একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন