গত মঙ্গলবার রাতে ফাখরুল আরেফীন খান রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানান।
গত মঙ্গলবার রাতে ফাখরুল আরেফীন খান রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানান।ছবি: ফেসবুক থেকে

ফরাসি মুক্তিযোদ্ধা জঁ ক্যাকে এবার বড় পর্দায় দেখবেন দর্শক। সিনেমার নাম ‘জেকে ১৯৭১’। মুখ্য চরিত্র জঁর ভূমিকায় দেখা দেবেন ভারতীয় বাঙালি অভিনেতা শুভ্র সৌরভ দাশ। তাঁকে কেন জঁর ভূমিকায়? উত্তরে পরিচালক ফাখরুল আরেফিন খান বললেন, ‘সৌরভের সঙ্গে কলকাতায় দেখা। আমার এক বন্ধু চিত্রনাট্য পড়ে জঁর জন্য ওর কথা বলল। আমি দেখা করতে বললাম। দুজনে গভীর রাত পর্যন্ত কলকাতায় আড্ডা দিলাম। ওর বয়স, চেহারা—সবকিছুর সঙ্গে জঁর মিল আছে। থিয়েটার করা ছেলে। সব মিলিয়ে মনে হলো, এই জার্নির জন্য ও ঠিকঠাক।’

default-image

পাইলট চরিত্রে সব্যসাচী চক্রবর্তীকে রাজি করালেন কীভাবে? হেসে এই পরিচালক জবাব দিলেন, ‘উনি তো শুনেই বললেন, “তুমি কীভাবে জানলে, আমি ছোটবেলা থেকে পাইলট হতে চেয়েছি?” সহজেই রাজি হয়ে গেলেন। এই চরিত্র আগে করেননি। “গণ্ডি”র অভিজ্ঞতাও হয়তো তাঁকে সহজে রাজি করিয়েছে।’ অন্যান্য বিদেশি চরিত্র নেবেন ভারতের মুম্বাই থেকে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ফাখরুল আরেফীন খান রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানান।

আগামী এপ্রিলের ১৫ থেকে ১৮ তারিখের ভেতর শুরু হবে শুটিং। প্রাথমিকভাবে হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে শুটিং করতে চেয়েছিলেন ফাখরুল আরেফিন খান। তবে তাতে বাজেট অনেক বেড়ে যায়। তাই ছোট পরিসরে ভাবতে হচ্ছে এই পরিচালককে। শুটিং হতে পারে ভারতের কলকাতায় বা বাংলাদেশের ঢাকায়। দুই জায়গার সুবিধা–অসুবিধাগুলো নিয়ে ভাবছেন এই পরিচালক। সিনেমায় কেবল ৩ ডিসেম্বর দিনটি উঠে আসবে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫০ মিনিট। স্থান, প্যারিসের অরলি বিমানবন্দর। পাইলট আকাশে ওড়ার প্রস্তুতি হিসেবে বিমানটি চালু করতেই পকেট থেকে পিস্তল বের করে ইঞ্জিন বন্ধ করতে বললেন ২৮ বছর বয়সী ফরাসি যুবক জঁ ক্যা। নির্দেশ অমান্য করলে সঙ্গে থাকা বোমা (আসলে জঁর সঙ্গে কোনো বোমা ছিল না) দিয়ে পুরো বিমানবন্দর উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন তিনি। ওয়্যারলেসটি কেড়ে নিয়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে জঁ নির্দেশ দিলেন। বিমানটিতে যাতে ২০ টন ওষুধ ও চিকিত্সাসামগ্রী তুলে তা যুদ্ধাহত ও বাংলাদেশি শরণার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

default-image

পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) ‘সিটি অব কুমিল্লা’ নামে ওই বোয়িং-৭২০বি বিমানটির করাচি যাওয়ার কথা ছিল। জঁ চেয়েছিলেন বিমানটি ছিনতাই করে যুদ্ধাহত ও শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে। এভাবেই এক ফরাসি তরুণ চেয়েছিলেন বাংলাদেশের হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে। কিন্তু তা আর হয়নি। ফরাসি সেনাবাহিনীর সদস্যরা একফাঁকে বিমানে ঢুকে পড়েন। তাঁরা জঁকে গ্রেপ্তার করেন। যদিও জঁর কথামতো ফরাসি সরকার রেডক্রস ও আরেক ফরাসি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অর্ডি দ্য মানতে’র সহায়তায় ওষুধ ও চিকিত্সাসামগ্রী পাঠিয়েছিল।  ১৯৭১ সালের সেই দুঃসাহসিক ঘটনা নিয়েই এই সিনেমা।

default-image

২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি ‘দুঃসাহসী সেই ফরাসি মুক্তিযোদ্ধার সন্ধানে’ শিরোনামে একটা লেখা ছাপা হয় প্রথম আলোয়। লেখাটি নাড়া দিয়েছিল পরিচালক ফাখরুল আরেফিন খানকে। তখন থেকেই তিনি ছবিটি নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। অবশেষে সত্যি হতে চলেছে তাঁর সেই স্বপ্ন।

default-image
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন