বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফেসবুকে মুভি লাভারস অব বাংলাদেশের সদস্যসংখ্যা সাড়ে আট লাখ। মুভি অ্যান্ড সিরিজ অ্যাডিক্টেড গ্রুপে প্রায় ছয় লাখ, বাংলা চলচ্চিত্রে তিন লাখ, সিনেমা খোর গ্রুপে দুই লাখের মতো সদস্য আছেন। এ ছাড়া মুভি খোর, সিনেমাখোরদের আড্ডা, সিনেমাপ্রেমী পোলাপাইনসহ বেশ কিছু গ্রুপে লক্ষাধিক সদস্য রয়েছেন। অর্ধলক্ষ সদস্যের গ্রুপও আছে গোটা দশেক। সিনেমা নিয়ে আলোচনা–সমালোচনার মাধ্যমে বাংলা সিনেমার রুচিশীল দর্শক গড়ে তোলাই এসব গ্রুপের লক্ষ্য। এসবে যুক্ত আছেন ৪০ লাখের বেশি সিনেমাপ্রেমী। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, কোরিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ প্রায় সব দেশের সিনেমা নিয়েই আলোচনা করা হয় এ গ্রুপগুলোতে। সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, রিভিউ, নতুন সিনেমার শুটিং, মুক্তির খবর, ট্রেলার-টিজার প্রকাশের আগাম খবর, অতীত সিনেমার অজানা তথ্য, তারকাদের নিয়ে গুঞ্জন, পুরোনো ছবি, সিনেমা–সম্পর্কিত হেল্প পোস্টসহ নানা কথায় জমজমাট থাকে এগুলো।

মুভি লাভারস অব বাংলাদেশের অ্যাডমিন শাহনেওয়াজ খান বলেন, ‘২০১৬ সালে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই গ্রুপটি চালু করি। নিয়মিত মুভি দেখতাম, সমালোচনা করতাম। পরে মনে হলো, সিনেমাপ্রেমীদের একটি কমিউনিটি করলে কেমন হয়। দেখলাম, আমাদের আলোচনা অনেকেই পছন্দ করছেন। তখন আমরা চিন্তাভাবনা করি, এটিকে বড় আকার দেওয়া যায়, দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক কাজে লাগানো যায়।’

default-image

বেশ কয়েকটি গ্রুপের অ্যাডমিন ও মডারেটরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সিনেমা নিয়ে দেড় হাজারের বেশি পোস্ট জমা হয় গ্রুপগুলোতে। লেখাগুলো যাচাই–বাছাই করে আট শতাধিক পোস্ট আপ্রুভ করা হয়। মুভি লাভারস অব বাংলাদেশ গ্রুপে প্রতিদিন জমা পড়ে আড়াই শতাধিক পোস্ট, প্রকাশ করা হয় দেড় শ। ২০১২ সালে যাত্রা করে মুভি অ্যান্ড সিরিজ অ্যাডিক্টেড গ্রুপটি। অ্যাডমিন ইসমাইল আহমেদ বলেন, ‘একজন দর্শক যেভাবে সিনেমা দেখেন, সেভাবেই লেখেন। অনেক সময় দেখা যায়, সিনেমার রিভিউ নিয়ে নির্মাতারা আপত্তি তোলেন, অনেক নির্মাতা খুশি হন। পক্ষপাতহীন লেখাকে আমরা অ্যাপ্রিশিয়েট করি, আমরা নিরপেক্ষ থাকি। এ জন্য বিশেষ করে দেশি সব সিনেমাই আমরা নিয়মিত দেখার চেষ্টা করি। উসকানিমূলক মন্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশোভন শব্দচয়ন করলে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করি।’ বিভিন্ন সময় অশালীন মন্তব্য ও গ্রুপের নিয়ম না মানায় এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি সদস্যকে ব্লক লিস্টে রেখেছে সাতটি গ্রুপ। গ্রুপগুলোতে যোগ দেওয়া ও পোস্ট দেওয়ার রয়েছে কড়া নিয়ম। সেসব অমান্য করলেই সদস্যপদ চলে যায়। লেখার ক্ষেত্রে অশালীন শব্দ বা গালাগাল করা যাবে না, কোনো পোস্টে খারাপ মন্তব্য করা যাবে না, লেখককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যাবে না, ভিডিও পোস্টের ক্ষেত্রে পাইরেটেড সিনেমার লিংক পোস্ট করা যাবে না।

default-image

২০১০ সালে দেশের ব্লগাররা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হলিউড–বলিউডের সিনেমা নিয়ে লিখতেন। দেশের সিনেমা নিয়ে তাঁদের অনেকেরই ছিল অবজ্ঞা। ব্যাপারটি কষ্ট দিত তানভীর খালেদকে। কিছু মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার নাম বাংলা সিনেমা। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে হিসেবেই তিনি গড়ে তোলেন বাংলা চলচ্চিত্র গ্রুপটি। সেই গ্রুপে এখন দেশের সিনেমা ছাড়া এক অক্ষরও লেখা যায় না। দেশে এখন কোনো সিনেমা মুক্তি পেলেই গ্রুপটির প্রোফাইল ছবি বদলে দেওয়া হয় নতুন সিনেমার পোস্টার। খালেদ বলেন, ‘আমাদের রিভিউ নিয়ে অনেকেই মন খারাপ করেন। অনেকেই টাকা দিয়ে ভালো রিভিউ করাতে চান। গঠনমূলক রিভিউ অনেকেই গ্রহণ করতে পারেন না। তখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, আমরা টাকা খেয়ে লিখি। ঘটনাগুলো কষ্ট দেয়।’ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী খালেদ জানান, গ্রুপ অ্যাডমিনরা সবাই পদস্থ ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও আছেন।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন