default-image

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক বানাতে ঢাকায় এসে দিনভর ব্যস্ত সময় পার করলেন ভারতের বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি তেজগাঁওয়ের চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) যান। ঘণ্টা দেড়েক সেখানে ছিলেন। বিএফডিসির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। দুপুরের খাবার খেয়ে তিনি ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কবিরপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটিতে যান। প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজহারুল হক।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক বানানো নিয়ে কথা বলতে গতকাল সোমবার রাতে ঢাকায় আসেন শ্যাম বেনেগাল। আজ বেলা ১১টায় তিনি এফডিসিতে আসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন এফডিসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক লক্ষণ চন্দ্র দেবনাথ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মসীহ উদ্দিন শাকের, চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, চলচ্চিত্র প্রযোজক গাউসুল আলম শাওনসহ অনেকে।

আলোচনার বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে মতিন রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক কীভাবে বাংলাদেশে বানানো হবে, কারিগরি সুবিধা কী কী থাকবে, কলাকুশলী—এসব নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি ছবিটি বাংলা ভাষায় হোক—এটাই চেয়েছেন। শিল্পী নিয়ে এখনো তেমন কিছুই চূড়ান্ত করেননি বলেও জানতে পারি।’

শ্যাম বেনেগাল বলেন, ‘সবার টিমওয়ার্কে সিনেমা তৈরি হয়। বাংলাদেশি মেধাবীরা এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হবেন। এ দেশেই ছবিটির দৃশ্যধারণ করব। তাই আমি ঢাকায় এসেছি, এখানে কী ধরনের সুবিধা পাব তা দেখতে। এ ছাড়া নানা বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এটা ঠিক যে বঙ্গবন্ধুর মতো একজন ব্যক্তিত্বের জীবনী নিয়ে ছবি নির্মাণ করাটা আমার জন্য গর্বের বিষয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দারুণ একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এই ছবির কাজ করতে গিয়ে সম্পর্কটা আরও উন্নতর জায়গায় পৌঁছাবে। বঙ্গবন্ধুর মতো এত বড় মাপের একজন জাতীয় নেতাকে নিয়ে ছবির কাজটি সততার সঙ্গে করতে চাই।’

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নিয়ে তৈরি হতে যাওয়া এই ছবির জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজহারুল হক এই কমিটির বাংলাদেশ অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি জানান, কাল দুপুরে শ্যাম বেনেগাল তথ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। আর সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছবিটি সম্পর্কে নিজের ভাবনাচিন্তার কথা জানাতে যাবেন।

বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে ছবিটি বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হবে। ২০২০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে এই ছবি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ছবির নাম কী হবে এবং বাজেট কত—এ নিয়ে কিছুই জানাননি বরেণ্য এই পরিচালক।

বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিতব্য ছবিটি নিয়ে গত বছর অক্টোবরে শ্যাম বেনেগাল বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ছবিটি বানানোর জন্য তিনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত এবং ছবির নাম ভূমিকায় কে অভিনয় করবেন, তা নিয়েও তিনি ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন। তাঁর কথায়, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই বাংলাদেশ থেকে কোনো অভিনেতা এই চরিত্রে অভিনয় করুন। কারণ, সেটাই বেশি সমীচীন হবে। আর তিনি একটু রোগা হলেই ভালো, কারণ জীবনের বেশি অংশ শেখ মুজিব নিজেও কিন্তু বেশ সরু আর রোগা ছিলেন। খুব কম লোকই এটা খেয়াল করেন যে শেখ মুজিবের যে বিশাল, ভারিক্কি চেহারার ছবিগুলোর সঙ্গে আমরা বেশি পরিচিত, সেটা তাঁর জীবনের পরের দিকের। শেষ দিকে তাঁর কিছুটা ওজন বেড়েছিল ঠিকই, কিন্তু জীবনের বেশি সময় তিনি রীতিমতো রোগাই ছিলেন, যেমনটা টিপিক্যাল বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও অ্যক্টিভিস্টরা হন আরকি!’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0