default-image

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম মিলনায়তনে যখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান চলছিল, তখন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় সুচন্দা কাঁদছিলেন। মনের দুঃখে ডুকরে কাঁদছিলেন তিনি। সুচন্দার কান্নার খবরটি জানা যায় তাঁর ছোট দুই বোন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ববিতা ও চম্পার সঙ্গে কথা হলে। চলচ্চিত্রের এই দুই গুণীর সঙ্গে কথা শেষ করেই সুচন্দাকে ফোন করতেই প্রতিবেদককে বললেন, ‘আমার মনটা খুবই খারাপ। অনেক খারাপ। আনন্দের পাশাপাশি দুঃখ পেয়েছি। কষ্ট পেয়েছি।’
রোববার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম মিলনায়তনে বসেছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার–২০১৯–এর পুরস্কার প্রদানের আসর। দেশের চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য এবারের আসরে যুগ্মভাবে কোহিনুর আক্তার সুচন্দা ও সোহেল রানাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। সোহেল রানা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকলেও দুই সপ্তাহ আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হওয়ার কারণে সুচন্দা থাকতে পারেননি। খুব ইচ্ছা ছিল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে মনের কিছু অব্যক্ত কথা বলবেন, কিন্তু তা আর হয়নি।

বিজ্ঞাপন
default-image

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্তির খবরটি শোনার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে কিছু কথা বলার পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী সুচন্দা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সামনাসামনি পাবেন, তাই সেই চিঠি লেখা হয়। কিন্তু করোনার কারণে অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে ওপেন হার্ট সার্জারি হওয়ার কারণে সুচন্দাও থাকতে পারেননি।
সুচন্দা বললেন, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে আমার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। চিকিৎসক বলেছেন, দুই মাস বিশ্রামে থাকতে হবে। তাই অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি। টেলিভিশনে দেখলাম চমৎকার অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী আমাকে আজীবন সম্মাননার জন্য মনোনীত করেছেন, সে জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর এবং তাঁর সরকারের প্রতি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। দেরিতে হলেও জীবদ্দশায় আমি এ পুরস্কার পেলাম। যেমন আনন্দিত হয়েছি, তেমন দুঃখও পেয়েছি। কষ্ট লেগেছে ভীষণ।’

default-image

সুচন্দা এ–ও বললেন, ‘সব সময় জানি, আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্তরা অনুভূতি ব্যক্ত করেন। ভেবেছিলাম, আমিও কিছু কথা বলব। কিন্তু এর মধ্যে অসুস্থতার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। আমি যেতে পারিনি। তারপরও আমার ও জহির রায়হানের ছেলে আরাফাত রায়হান আমার অনুভূতিটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পড়ে শোনানোর কথা ছিল। আমি চিঠি আকারে তা লিখেও দিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত তা না শোনাতে পারায় খুবই কষ্ট পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার ও জহির রাহয়ানের অসাধারণ স্মৃতির কথা পড়ে শোনানোর ইচ্ছা ছিল, যা সবারই অজানা।’
কথায় কথায় সুচন্দা জানালেন, বেশি কিছুদিন ধরে বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন তিনি। নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। এরই মধ্যে শারীরিক সমস্যা আরও বাড়লে গত ডিসেম্বরে চিকিৎসক পরামর্শ দেন ওপেন হার্ট সার্জারির।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন