default-image

প্রয়াত অভিনেতা মান্নার কবর নিয়ে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী শেলী মান্না। মৃত্যুর পর ঢালিউডের এই অভিনেতাকে দাফন করা হয় টাঙ্গাইলে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে। দাফনের পর থেকেই কবরটি বাঁধানো হয়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা কথা শুনতে হয়েছে তাঁদের পরিবারকে। সম্প্রতি গুজব ছড়িয়েছে, মান্নার কবর নিশ্চিহ্ন করে জায়গাটি ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, মান্নার কবর কেন বাঁধানো হয়নি, কেন অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে। এই অভিনেতার কোনো চিহ্ন রাখতে চান না তাঁরা, এ কারণে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে কবরস্থানটি। এ রকম বেশ কিছু অভিযোগের কথা জানালেন শেলী মান্না নিজেই। তবে এগুলোকে মন্দ লোকের গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন তিনি। এসব কথা অনেক দিন ধরেই শুনে আসছেন তাঁরা। সম্প্রতি যোগ হয়েছে নতুন গুজব। তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক দিন ধরে শুনছি ও দেখছি, অনেকেই বলছেন, আমরা নেতিবাচক উদ্দেশ্য নিয়ে মান্নার কবর ভরাট করেছি। কিন্তু কেন ভরাট করা হয়েছে, সেটা তাঁরা জানেন না। কারণ, অনেক দিন ধরেই বৃষ্টি নামলে সেখানে পানি জমত। যে কারণে আমরা পারিবারিকভাবে কবরস্থানটি ভরাট করিয়েছি। এখন আলাদাভাবে কবরের কিছু নেই। আমরাই শুধু জানি কার কবর কোথায়। আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা কাজ শুরু করব।’

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রতিবছর দূরদূরান্ত থেকে মান্নার ভক্তরা প্রিয় অভিনেতার সমাধিস্থলে গিয়ে হাজির হন। কবর জিয়ারত এবং ফুল দিয়ে প্রয়াত অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানান। অনেকেই নিজ উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করেন। শেলী জানান, মান্নার ভক্তদের মধ্যে অনেক রকম পাগলামি আছে। তাঁরা অনেকেই খুব আবেগপ্রবণ। এসবই প্রিয় তারকার প্রতি তাঁদের ভালোবাসার প্রকাশ। এর মাঝে অনেকেই আসেন কেবল সমালোচনা করার জন্য। তিনি বলেন, ‘এখন মান্নার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মতো অবস্থায় নেই। দেখা যাবে, এই ভক্তরা এসে কবরটি খুঁজে না পেয়ে আরেক জায়গায় ফুল দিয়েছেন। সেটার ছবি তুলে আবার কেউ কেউ নতুন করে গুজব ছড়াবেন। এ নিয়ে উল্টাপাল্টা খবর প্রকাশিত হবে, যা নতুন করে আলোচনার খোরাক জোগাবে। এই জন্য আমি মান্নার ভক্তদের অনুরোধ করব, এই মুহূর্তে মান্নার কবরের আলাদা কোনো মার্কিং দেওয়া নেই। আপনারা অনেকেই এসে হতাশ হবেন। অনুরোধ করব এই বছরটা কবরে না গিয়ে যার যার জায়গা থেকে এলাকার কবর জিয়ারত করে মান্নার আত্মার জন্য দোয়া করবেন।’

default-image

অভিনেতা মান্নার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিনটিতে তাঁকে স্মরণ করে টাঙ্গাইল ও ঢাকায় থাকবে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া সমাবেশ। শেলী মান্না জানান, সম্প্রতি তিনি টাঙ্গাইলে গিয়ে মান্নার স্মরণ অনুষ্ঠানের সব ব্যবস্থা করে এসেছেন। মান্নার কর্মস্থল এফডিসি, তাঁদের বাসা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র থেকে এই অভিনেতাকে স্মরণের আয়োজন করা হবে। শেলী মান্না বলেন, ‘প্রতিবছর বড় আয়োজন করতে গিয়ে আমরা পরিবারের সদস্যরা এবং আত্মীয়স্বজন মনোযোগ দিয়ে তাঁর জন্য দোয়া করতে পারি না। এদিন প্রচুর মানুষ আসেন। তাঁদের সবার সঙ্গে কথা বলেই দিনটি চলে যায়। এবার করোনার কারণে সীমিত পরিসরে আয়োজন করেছি। গত শুক্রবার টাঙ্গাইলে গিয়ে আমরা সেখানকার এতিমখানা, মাদ্রাসা, মসজিদে মিলাদ ও দোয়া আয়োজনের ব্যবস্থা করে এসেছি। সবাইকে বলব, যে যেখানেই থাকবেন, মান্নার জন্য দোয়া করবেন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রয়াত অভিনেতা মান্নার জন্ম টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতীতে। তাঁর আসল নাম এস এম আসলাম তালুকদার। ছোটবেলা থেকে সিনেমার প্রতি তাঁর ছিল প্রচণ্ড ঝোঁক। ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমের মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। ১৯৯১ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘কাশেম মালার প্রেম’ ছবিতে প্রথম নায়ক হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন মান্না। নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর পর পরিচালকদের চোখে একমাত্র আস্থার নাম ছিল মান্না। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় মারা যান।

default-image
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন