বিজ্ঞাপন
default-image

পরিচালক জানিয়েছিলেন, সেখানকার একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ছবিটি পছন্দ করেছে। কিন্তু করোনার কারণে জানুয়ারিতে ছবিটি মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে কয়েক মাস দেরিতে হলেও ছবিটি যে মুক্তি পাচ্ছে, এতে ভীষণ আনন্দিত পরিচালক গাজী রাকায়েত।

প্রথম আলোকে আজ গাজী রাকায়েত বলেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। একজন পরিচালক হিসেবে তো আমার জন্য অনেক বেশি আনন্দের। ওই দেশের একটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা ছবিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পেরেছি। লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি সেখানকার স্থানীয় দর্শকেরাও ছবিটি দেখতে পাবেন। আমাদের দেশের নির্মাণ এবং গল্প সম্পর্কে তাঁরা ধারণা পাবেন। সবকিছু মিলিয়ে ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পাওয়া দেশের চলচ্চিত্রের জন্য বিরাট আশার খবর। ঈদের আগে পাওয়া খবরটি আমার ছবির সব অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীর ঈদের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’

default-image

নর্থ হলিউডের লায়েম লে নোহো প্রেক্ষাগৃহের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, মুক্তির পর থেকে সাত দিন ছবিটি প্রদর্শিত হবে। পরিচালনার পাশাপাশি চলচ্চিত্রটির কাহিনি, সংলাপ, চিত্রনাট্যও করেছেন গাজী রাকায়েত। যৌথভাবে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন ফরিদুর রেজা সাগর ও গাজী রাকায়েত। সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবিটির পরিবেশনায় আছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। ছবির বিভিন্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আশিউল ইসলাম, গাজী আমাতুন নূর, এ কে আজাদ সেতু, দ্বীপান্বিতা মার্টিন, মৌসুমি হামিদ, সুষমা সরকার, শামীম তুষ্টি, মামুনুর রশীদ, দিলারা জামান, এস এম মহসিন ও কাজী আনিসুল হক বরুণ।

‘দ্য গ্রেভ’ বা ‘গোর’ ছবিটি একসঙ্গে দুটি ভাষায় নির্মাণ প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ‘ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন উৎসবে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেই চিন্তা থেকেই দুই ভাষায় শুটিং করা হয়েছে।’ ‘মৃত্তিকা মায়া’ ছবিটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে “মৃত্তিকা মায়া” ছবিটি ১-১৬ অক্টোবর এবং নভেম্বরের ১-১০ তারিখ শুটিং করেছিলাম। মজার ব্যাপার হলো, ২০১৮ সালে একই সময়ে এই ছবির শুটিং করেছি।’

default-image

তবে ব্যাপারটি পরিকল্পনার চেয়ে কাকতালীয়। তবে শুটিং সময়ের পরিকল্পনা না করলেও পুরো শুটিংয়েই ছিল পরিকল্পনার ছাপ। এমনটা জানান এই ছবির অভিনেত্রী মৌসুমি হামিদ। তিনি বলেন, ‘ছবির শুটিংয়ের আগে অনেক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম আমরা। এ কারণে সময়ের আগেই শুটিং শেষ করতে পেরেছি।’

প্রস্তুতি প্রসঙ্গে গাজী রাকায়েত বলেন, ‘আমরা শুটিং করেছি দোহারের শাইনপুকুর গ্রামে। সেই গ্রামের একটা ভিটাবাড়ি, তার পাশে ঘন জঙ্গল ছিল। সাপের বসবাস ছিল। সেই জঙ্গল পরিষ্কার করে তিন মাস আগে সেখানে একটা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু বাড়িই না, রীতিমতো গৃহস্থের বাড়ি, যেখানে লাউয়ের মাচা, মুরগি, গরু-ছাগল সবই ছিল।’

শুটিংয়ের জন্য এমন বাড়ি সচরাচর তৈরি হয় না বলেই জানালেন তিনি। বলেন, ‘আমরা টানা এত দিন শুটিং করব, কে আমাদের বাড়িঘর ছেড়ে দিয়ে করতে দেবে? তাই নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে করেছি।’

default-image

এত কিছুর কারণে ছবিটি নিয়ে দারুণ প্রত্যাশা এই নির্মাতার। এমনকি প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীই আশা করছেন, এটা দারুণ একটা চলচ্চিত্র হয়েছে। এর পেছনে একটা কারণও ব্যাখ্যা করলেন নির্মাতা। গাজী রাকায়েতের চিত্রনাট্য ও অভিনয়ে ১৯৯৭ সালে ‘গোর’ নামে একটি ৫৫ মিনিটের নাটক নির্মাণ করেছিলেন নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলু। সেটি প্রচার হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। পরের বছর প্রথমবার আয়োজিত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সেরা নির্মাতার পুরস্কার পেয়েছিলেন লাভলু। এই নাটকে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছিলেন বিপাশা হায়াত। ওই গল্পটিকে সিনেমার উপজীব্য করেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন গাজী রাকায়েত। তাঁর মতে, ‘আমাদের এক ঘণ্টার নাটক গল্প দিয়ে সিনেমা নির্মাণ করা সম্ভব। কয়েক বছর ধরে যেসব নির্মাতা জাতীয়সহ বিভিন্ন পুরস্কার পাচ্ছেন, বেশির ভাগই নাটক নির্মাণ করে এই জগতে এসেছেন। তাই গল্পগুলোতে যত্ন করতে হবে আগে।’

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন