default-image

স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানালেন, ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সের পান্থপথ, জিগাতলা, মিরপুর, মহাখালীসহ সব শাখায় ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছে চারটি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে বাংলাদেশি দুটি হচ্ছে ‘পরাণ’ ও ‘দিন: দ্য ডে’ এবং অন্য দুটি হলিউডি ছবি। ঈদে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশি ছবির ব্যবসায়িক খবর জানতে যোগাযোগ করা হলে মেসবাহ উদ্দিন বললেন, ‘ঈদের পরদিন থেকে বাংলাদেশি ছবি দুটি বিকেল ও সন্ধ্যার দুই শো–ই হাউসফুল যাচ্ছে। দিন দিন দর্শক আগ্রহ বাড়ছে। আমরাও সন্তুষ্ট। ঈদুল ফিতরেও বাংলাদেশি ছবির ভালো সাড়া পেয়েছি। এবারও ভালোর দিকে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশি সিনেমা নিয়ে একের পর এক সুখবর দিতে পারব। দুটি ছবির দর্শক হাউসফুল থাকলেও রিভিউতে এগিয়ে আছে ‘পরাণ’। দিনকে দিন এই ছবির দর্শক আগ্রহ বাড়ছে। আমরাও তাই প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছি।’

যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাস প্রেক্ষাগৃহে শুরু থেকে চূড়ান্ত ছিল ‘দিন: দ্য ডে’ ছবিটি। তাই প্রথমে এই ছবির পাঁচটি শো চূড়ান্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলা ছবির তালিকায় যুক্ত হয় ‘পরাণ’ ও ‘সাইকো’। পরের দুটি ছবির প্রদর্শনীর সংখ্যা যথাক্রমে তিনটি ও দুটি। যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাসের অপারেশন ইনচার্জ এ আই রাজু বললেন, ‘“দিন: দ্য ডে” ও “পরাণ” সমানভাবে ভালো যাচ্ছে। তবে শুরু থেকে “দিন: দ্য ডে” ছবির প্রদর্শনীর সংখ্যা যেহেতু বেশি, তাই ব্যবসাটাও বেশি। এটাও ঠিক, আমরা দেখছি, “পরাণ” ছবির প্রতি দর্শকের আগ্রহও বাড়ছে। তাই তো তিন দিনের মাথায় প্রদর্শনীসংখ্যা বাড়াতে বাধ্য হয়েছি।’

default-image

এদিকে যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাসের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের প্রেক্ষাগৃহেও দর্শক রিভিউ বেশ ইতিবাচক ‘পরাণ’ ছবির ক্ষেত্রে। যেটা অন্য দুটি বাংলা ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহে চলছে ‘দিন: দ্য ডে’ ছবিটি। এই প্রেক্ষাগৃহের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার উদ্দিন বললেন, ‘কোরবানির ঈদের সময় অনেক মানুষ ঢাকার বাইরে চলে যায়। এমনিতে ব্যবসার অবস্থা খুব একটা ভালো থাকে না। তারপরও আমাদের এখানে মোটামুটি ব্যবসা করছে। তবে ছবিটির গানগুলো আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার ক্ষেত্রে গান অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা রাখে। দিন দ্য ডে ছবির গানগুলো ভালো হয়নি।’

default-image

চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে ‘পরাণ’, ‘দিন: দ্য ডে’ ও হলিউডের ছবির “থর”। এই প্রেক্ষাগৃহের ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন মোহাম্মদ পারভেজ বললেন, ‘আমাদের এখানে “পরাণ” বেস্ট। সব বয়সী দর্শকেরা ছবিটি দেখতে আসছে। অন্যদিকে ‘দিন: দ্য ডে’ চললেও সেভাবে সাড়া নেই। এমনও হয়েছে, একটি শোতে একজন দর্শকও ছিল না।’

ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহেও ‘পরাণ’ ছবির প্রতি দর্শক আগ্রহ বাড়ছে জানালেন পরিচালক রায়হান রাফী। তিনি তাঁর ছবির অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ছুটে গেছেন। একসঙ্গে সেখানকার দর্শকের সঙ্গে বসে ছবিটি দেখেছেন। রায়হান রাফীর দাবি, দর্শকদের কাছ তাঁর ছবি ‘পরাণ’ নিয়ে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নেই। তিনি বলেন, মুক্তির আগে বিভিন্ন জন নেগেটিভভাবে কিছু কথা বললেও ছবি দেখার পর চুপ হয়ে গেছে। আমিও জানতাম, এমনটাই হবে। হয়েছেও তাই।’

রাফী বলেন, ‘আমরা দুপুর ১২টা ও বেলা ৩টার শো দর্শকের সঙ্গে বসে দেখেছি। এই গরমের মধ্যে কষ্ট করে আমাদের সিনেমা দেখছেন! গরমে তো ভেবেছিলাম আমরাই বেরিয়ে আসব, কিন্তু দর্শকের মাতামাতি দেখে তা পারিনি। হলভর্তি দর্শকের সঙ্গে বসে সিনেমা দেখেছি। পরিবেশ বেশি ভালো ছিল না, তারপরেও মানুষ ‘পরাণ’ দেখতে ভিড় করেন। যে ভালোবাসা দিয়েছে তা কখনোই ভোলার নয়।’

শুধু ময়মনসিংহ নয়, যেসব সিনেমা হলে ‘পরাণ’ চলছে, সব জায়গা থেকে দর্শকের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে বলে জানালেন ছবির পরিচালক রায়হান রাফী। তিনি বলেন, সিনেপ্লেক্সেও টিকিট পাচ্ছেন না। যাঁরা দেখছেন, তাঁরা টিকিট আগের দিন কাটছেন। প্রচুর মানুষ আমাকে ফোন করছেন। মধুমিতা হলে গিয়েও নাকি দর্শক ‘পরাণ’-এর টিকিট খুঁজছেন। ঈদের সব কটি ছবির সঙ্গে ‘পরাণ’ নিয়ে মাতামাতি হচ্ছে—এটাই প্রাপ্তি।’

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন