default-image

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর প্যারিসের অরলি বিমানবন্দরে ঘটেছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। সেদিন জঁ ক্যা নামে ২৮ বছর বয়সী এক ফরাসি তরুণ পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) ‘সিটি অব কুমিল্লা’ নামে বোয়িং-৭২০বি বিমানটি ছিনতাই করতে চেয়েছিল। জঁ চেয়েছিলেন বিমানে ওষুধ আর চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে যুদ্ধাহত ও শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে। এভাবেই এক ফরাসি তরুণ চেয়েছিলেন বাংলাদেশের হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে।

এ ঘটনা নিয়ে ফাখরুল আরেফিন খান বানাচ্ছেন চলচ্চিত্র। নাম—‘জেকে ১৯৭১’। সিনেমায় জঁ ক্যার ভূমিকায় দেখা যাবে ভারতের বাঙালি অভিনেতা শুভ্র সৌরভ দাশকে। কেন? উত্তরে এই পরিচালক বলেন, ‘আমার এক বন্ধু চিত্রনাট্য পড়ে জঁ চরিত্রের জন্য তাঁর কথা বলল। আমরা দেখা করলাম। দুজনে গভীর রাত পর্যন্ত কলকাতায় আড্ডা দিলাম। তাঁর বয়স, চেহারা—সবকিছুর সঙ্গে জঁর মিল আছে। থিয়েটার করা ছেলে। সব মিলিয়ে মনে হলো, এই জার্নির জন্য সেই ঠিকঠাক।’

বিজ্ঞাপন
default-image

শুভ্র সৌরভ দাশের কাছে এই সিনেমায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমার কিছু বন্ধুবান্ধব আছে। তারা খুব আন্তরিক আর সরল মনের মানুষ। পরিচালক ফাখরুলও তেমন।’ জঁ চরিত্রের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন? তিনি বলেন, ‘প্রচুর ফ্রেঞ্চ সিনেমা দেখছি, ভাষাটা আয়ত্ত করার জন্য। ইউরোপীয় বডি ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার জন্য। জঁকে নিয়ে পড়াশোনা করছি।’ এই ছবিতে পাইলটের চরিত্রে দেখা যাবে ফেলুদা চরিত্রের ভারতীয় অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী।

আগামী এপ্রিল মাসের ১৫ থেকে ১৮ তারিখের ভেতর শুরু হবে ছবির শুটিং। শুটিং হতে পারে ভারতের কলকাতা বা বাংলাদেশের ঢাকায়। দুই জায়গার সুবিধা–অসুবিধাগুলো নিয়ে ভাবছেন এই পরিচালক। সিনেমায় কেবল ৩ ডিসেম্বর দিনটি উঠে আসবে।

এর আগে বাংলাদেশ সরকার যখন ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের তালিকা করে, সেখানে ১৬ জন ফরাসি নাগরিকের ভেতর জঁর নাম নেই। কেননা ফরাসি সরকার রাষ্ট্রীয় আইন ভঙ্গের ‘অপরাধে’ বাংলাদেশের বন্ধু তালিকায় জঁর নাম দেয়নি। এবারে জঁকে বাংলাদেশের বন্ধু করে নেওয়ার দাবি তুলবেন ফাখরুল। জঁর যাবতীয় তথ্য তিনি পাঠাবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে।

default-image

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে কী ঘটেছিল ফ্রান্সের অরলি বিমানবন্দরে? যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বিমানটি। অমনি পকেট থেকে পিস্তল বের করে ইঞ্জিন বন্ধ করতে বলেন ২৮ বছর বয়সী জঁ ক্যা। কথা না শুনলে বোমা মেরে বিমানবন্দর উড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিলেন। কেড়ে নিলেন ওয়্যারলেস। নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলেন, বিমানটিতে যাতে ২০ টন ওষুধ ও চিকিত্সাসামগ্রী তুলে পৌঁছে দেওয়া হয় বাংলাদেশে। যদিও তাঁর সঙ্গে কোনো বোমা ছিল না। কিন্তু তা আর হয়নি। ফরাসি সেনাবাহিনীর সদস্যরা একফাঁকে বিমানে ঢুকে পড়েন। তাঁরা জঁকে গ্রেপ্তার করেন। যদিও জঁর কথা মতো ফরাসি সরকার রেডক্রস ও আরেক ফরাসি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অর্ডি দ্য মানতে’র সহায়তায় ওষুধ ও চিকিত্সাসামগ্রী পাঠিয়েছিল। ১৯৭১ সালের সেই দুঃসাহসিক ঘটনা নিয়েই এই সিনেমা।

নানা দেশ ঘুরতে ঘুরতে জীবনের একপর্যায়ে জঁ চলে আসেন ভারতের কলকাতায়। সেখানকার দরিদ্র পথশিশুদের বিনা মূল্যে মুরগির স্যুপ বিলি করতেন তিনি। জঁকে নিয়ে একাধিক ফরাসি পত্রিকায় লেখা সংবাদে জানা যায়, ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে কলকাতা থেকে একাধিকবার বাংলাদেশেও এসেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন