কিন্তু একসময়ের সাড়াজাগানো পরিচালকদের প্রায় কেউই নেই নির্মাণের মাঠে
কিন্তু একসময়ের সাড়াজাগানো পরিচালকদের প্রায় কেউই নেই নির্মাণের মাঠেছবি: কোলাজ

ঢালিউডের তরুণ নির্মাতাদের অনেকেই একের পর এক সিনেমা নির্মাণে ব্যস্ত। কিন্তু একসময়ের সাড়াজাগানো পরিচালকদের প্রায় কেউই নেই নির্মাণের মাঠে। কেউ দিচ্ছেন প্রযোজক না পাওয়ার অজুহাত, কেউ দুষছেন সিনেমার মন্দা বাজারকে। অথচ তাঁদের সমসাময়িক হলিউড ও বলিউডের পরিচালকেরা এখনো সক্রিয় সিনেমা নির্মাণে।
গত শতকের আশি-নব্বইয়ের দশকের সাড়াজাগানো পরিচালকদের তালিকায় আছেন এ জে মিন্টু, দেওয়ান নজরুল, মতিন রহমান, সোহানুর রহমান সোহান, কাজী হায়াৎ, এফ আই মানিক, মনতাজুর রহমান আকবর, মুশফিকুর রহমান গুলজারসহ অনেকেই। তাঁদের দু-একজনকে হঠাৎ পাওয়া যায় দু-একটি কাজে। সেসব কাজ বিনোদন অঙ্গনে তেমন একটা তরঙ্গ সৃষ্টি করেনি।

উল্লিখিত পরিচালকদের পরের প্রজন্ম হিসেবে জনপ্রিয় কিছু সিনেমার পরিচালক জাকির হোসেন রাজু, শাহাদাৎ হোসেন লিটন, বদিউল আলম খোকন, সাফি উদ্দিন সাফিরাও নিয়মিত ছবি বানাচ্ছেন না। কেউ কেউ বলছেন, অনেক দিন ধরে সিনেমার ব্যবসা খারাপ। তা ছাড়া পেশাদার প্রযোজকেরাও সরে গেছেন। প্রযোজকের অভাবে এই নির্মাতাদের হাতে ছবি নেই।

default-image
কেউ কেউ বলছেন, অনেক দিন ধরে সিনেমার ব্যবসা খারাপ। তা ছাড়া পেশাদার প্রযোজকেরাও সরে গেছেন। প্রযোজকের অভাবে এই নির্মাতাদের হাতে ছবি নেই। আবার কেউ কেউ বলছেন, সিনেমার নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না এই পরিচালকেরা।
বিজ্ঞাপন

আবার কেউ কেউ বলছেন, সিনেমার নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না এই পরিচালকেরা। এ কারণে একটু পিছিয়ে পড়েছেন তাঁরা। যদিও বিষয়টি মানতে নারাজ ‘অন্ধ বিশ্বাস’, ‘তোমাকে চাই’, ‘বিয়ের ফুল’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিগুলোর নির্মাতা মতিন রহমান। ২০০৮ সালের পর থেকে তিনি আর নির্মাণে নেই। তিনি বলেন, প্রযুক্তি কোনো ব্যাপার নয়। পরিচালক তো গল্প বলে যাবেন। নতুন প্রযুক্তি ও সিনেমার আপডেটেড যন্ত্রাংশের জন্য তো আলাদা আলাদা মানুষ আছেন। প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে আগের পরিচালকেরা কাজ করতে পারছেন না, এটা ভুল ধারণা। ছবি না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন সিনেমা বানানোর সুযোগ কম। সিনেমার পরিবেশই নেই।

default-image

‘জীবন সংসার’, ‘এ জীবন তোমার আমার’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’র মতো দর্শকপ্রিয় ছবিগুলোর পরিচালক জাকির হোসেন রাজু গত দুই বছর ছবি বানাচ্ছেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছবির সংখ্যা কমে যাওয়া, সিনেমা হল কমে যাওয়া, পেশাদার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া—এ তিন কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যবসা না থাকায় প্রযোজক পাওয়া যাচ্ছে না।

জাজ মাল্টিমিডিয়া পেশাদারভাবে বেশ কয়েক বছর ধরে ছবি নির্মাণ করেছিল, সেটিও এখন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।
কিন্তু এখনকার অনেক তরুণ একের পর এক সিনেমা বানাচ্ছেন কীভাবে? এই নির্মাতা বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে কিছু প্রযোজককে এই জায়গায় নিয়ে আসছেন। খেয়াল করলে দেখবেন, এই প্রযোজকেরা একটি করে ছবি বানিয়ে এখান থেকে সরে পড়ছেন। তাঁরা পেশাদার প্রযোজক নন। আমরা যারা দীর্ঘদিন এই জায়গায় কাজ করে এসেছি, তারা তো এভাবে কাজ করতে পারব না।’ তবে এই নির্মাতা জানান, শিগগিরই সিনেমার চিরাচরিত নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করবেন তিনি।

default-image

২০১৫ সালে মুক্তি পায় সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত শেষ ছবি ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’। পরিচালকদের প্রযুক্তিজ্ঞান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি যেভাবে এগোচ্ছে, আমাদের প্রজন্মের পরিচালকেরাও সেভাবে এগোচ্ছেন। প্রযুক্তির কারণে পিছিয়ে পড়ছি, কথাটি ঠিক নয়।’

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি যেভাবে এগোচ্ছে, আমাদের প্রজন্মের পরিচালকেরাও সেভাবে এগোচ্ছেন। প্রযুক্তির কারণে পিছিয়ে পড়ছি, কথাটি ঠিক নয়।
সোহানুর রহমান সোহান
default-image

তাহলে ছবি বানাচ্ছেন না কেন? তিনি বলেন, ‘আমরা একসময় বড় বড় বাজেটের ছবি বানিয়েছি। অনেক ছবিই সুপার–ডুপার হিট হয়েছে। কিন্তু একটা সময় এসে ছবির বাজেট ৫০ থেকে ৬০ লাখে নেমে এল। তখন থেকে আমার মতো অনেক পরিচালকই কাজ করতে পারছেন না। এত কম বাজেটে ভালো ছবি নিমাণ সম্ভব নয়।’

নতুন প্রজন্মের যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে কিছু প্রযোজককে এই জায়গায় নিয়ে আসছেন। খেয়াল করলে দেখবেন, এই প্রযোজকেরা একটি করে ছবি বানিয়ে এখান থেকে সরে পড়ছেন। তাঁরা পেশাদার প্রযোজক নন। আমরা যারা দীর্ঘদিন এই জায়গায় কাজ করে এসেছি, তারা তো এভাবে কাজ করতে পারব না।
জাকির হোসেন রাজু
default-image

তিনি জানান, মাঝে দুটি ছবির কাজ শুরু করেছিলেন। বাজেট–সংকটে কাজ দুটি বন্ধ হয়ে গেছে।
উল্লিখিত পরিচালকদের সমসাময়িক হলিউড ও বলিউডের পরিচালক অনেকেই এখনো দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন নিজেদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য। ঠিক একই সময়ে ঢালিউডের অভিজ্ঞ পরিচালকেরা নানা সংকটে নিজেদের নিষ্ক্রিয় করে রেখেছেন।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন