‘নবাব এলএলবি’ ছবির ‘বিলিভ মি—আমি তোর হতে চাই’ গানের শুটিংয়ে শাকিব খান ও মাহিয়া মাহি
‘নবাব এলএলবি’ ছবির ‘বিলিভ মি—আমি তোর হতে চাই’ গানের শুটিংয়ে শাকিব খান ও মাহিয়া মাহিছবি : সংগৃহীত

‘নবাব এলএলবি’ নিয়ে তিন সপ্তাহ আগে প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরটিই সত্যি হলো। সেখানে জানানো হয়েছিল, দর্শককে হয়তো পুরো সিনেমাটি দেখানো হবে না। ছবি মুক্তির পর ঠিক সেটাই হয়েছে। পুরো টাকা নিয়ে দর্শককে দেখানো হয়েছে অর্ধেক সিনেমা। এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন বাংলা সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরা। ছবির অভিনয়শিল্পী শাকিব খান ও মাহিয়া মাহিও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
‘নবাব এলএলবি’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে নতুন একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। সেখানে সাবসক্রাইব করে ছবি দেখার জন্য ৯৯ টাকা ব্যয় করেছেন দর্শক। কিন্তু সেখানে পুরো ছবিটি দেখতে না পেরে ক্ষুব্ধ দর্শকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রতারণার শিকার। ফেসবুকে দর্শকদের কেউ কেউ প্রতারণার অভিযোগে পরিচালক-প্রযোজকদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার আইনে মামলা করা যায় কি না, সেই পথও খুঁজেছেন। অনেকেই আবার ‘নবাব এলএলবি’ ছবিটি দুই খণ্ডে মুক্তির বিষয়টি আগে প্রচার না করায় একে ‘ওয়েব সিরিজ’ বলে উপহাসও করেছেন। তবে পরিচালক অনন্য মামুন সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি প্রতারণা করেননি। অর্ধেক সিনেমা দেখানো একটা বিজনেস পলিসি।

বিজ্ঞাপন
default-image

ফেসবুকে মিফতাহ উদ্দিন নামের এক দর্শক লিখেছেন, ‘নবাব এলএলবি’ দুই খণ্ডে মুক্তি নিয়ে পরিচালক অনন্য মামুনের এই কাজের সমর্থন করি না। আগে থেকে জানানো উচিত ছিল। দর্শকদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেতে চাইলে তা করতে দেব না। একটা সিনেমার বাকি অংশ দেখার জন্য কেউ এত দিন অপেক্ষা করবে না। মানুষের এত সময় নেই। প্রয়োজনে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযোগ করব, যাতে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এমন প্রতারণাকারীদের সবাই বর্জন করি। সিনেমাপ্রেমীদের ইমোশন, অর্থ নিয়ে খেলার সাহস তাঁকে কে দিয়েছে?’
এস এ সাব্বির নামের এক দর্শক লিখেছেন, ‘আসলে তারা অ্যাপে সিনেমা দেখার পদ্ধতিটা বুঝতে পারছেন না, আহা কি সস্তা যুক্তি। বিজনেস পলিসির নাম করে স্ক্যামিং করতে লজ্জা করে না? এ দেশে হইচই, এরোজ, নেটফ্লিক্স কি চলে না? ভালো সিনেমার জন্য বাংলাদেশের দর্শকদের আর কত ধোঁকা খেতে হবে? সাইবার গোয়েন্দাদের উচিত এগুলো খতিয়ে দেখা।’

default-image

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অর্ধেক সিনেমা মুক্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শাকিব খান বলেন, ‘দর্শকের সঙ্গে এটা অনেক বড় ধরনের প্রতারণা। এটা কোনো অবস্থায় বিজনেস পলিসি হতে পারে না। দেশ–বিদেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরা এত বড় প্রতারণার শিকার আগে কখনো হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’ অর্ধেক সিনেমা মুক্তিকে ‘সিনেমা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র’ বলেও উল্লেখ করেছেন শাকিব। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই ছবিটি নিয়ে নানা ধরনের প্রতারণা হচ্ছিল। বেশ কয়েকবার প্রযোজক–পরিচালককে সাবধান করা হয়। এই ছবির প্রযোজক–পরিচালকের অপেশাদার আচরণে বেশির ভাগ অভিনয়শিল্পীও খুবই বিরক্ত। তারপরও দেশের সিনেমার কথা ভেবে, দর্শকের কথা ভেবে আমরা সবাই ছবিটির কাজ শেষ করেছি। কিন্তু দর্শকের সঙ্গে এভাবে প্রতারণার সাহস কোথায় পেল তারা, ভেবে অবাক হই। এটা শুধু দর্শকের সঙ্গে প্রতারণা নয়, দেশের ওটিটি বাজার নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করা। এমন অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

বিজ্ঞাপন
default-image

মাহি জানান, ছবির শুটিং করতে গিয়ে পরিচালক অনন্য মামুনের কথার সঙ্গে মিল পাননি তিনি। তিনি বলেন, ‘ছবির শুটিং শেষে দুটি গান করার কথা ছিল। রোমান্টিক গানটি করা হলেও “ড্যান্স নাম্বার” নামে আরেকটি গান বাতিল করা হয়। রোমান্টিক গানের শুটিং শুরুতে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা ছিল, পরে বলা হয়েছিল সেটি দুবাই ও মালদ্বীপে করা হবে। কিন্তু সেই গানের শুটিং হলো ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। শুটিং করার কথা ছিল তিন দিন, কিন্তু এক দিনেই গানের শুটিং শেষ করা হয়।’

default-image

গত ২৭ নভেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরে লেখা হয়, অ্যাপে ‘নবাব এলএলবি’ দুই দফায় মুক্তি দেওয়ার চিন্তা করছেন পরিচালক অনন্য মামুন। নতুন অ্যাপ সাবস্ক্রাইব করাতে এ কৌশল অবলম্বন করছেন তিনি। ছবির সঙ্গে যুক্ত কেউ কেউ আবার এ–ও বলেছিলেন, ‘নবাব এলএলবি’ ছবি হিসেবে নির্মিত হলেও এটিকে দুই পর্বের ওয়েব সিরিজ আকারে চালানো হতে পারে। এমন আশঙ্কা ছিল নায়ক-নায়িকাদেরও। সেই আশঙ্কা অবশেষে সত্যি হয়েছে।

default-image

‘নবাব এলএলবি’ সিনেমা অর্ধেক মুক্তি দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে অনন্য মামুন সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘কোনো প্রতারণা করিনি। এমন তো নয় যে ৯৯ টাকায় পুরো সিনেমা দেখাচ্ছি না। যাঁরা ৯৯ টাকায় টিকিট কেটেছেন, তাঁরা এক টিকিটেই প্রথম পার্ট দেখেছেন, পরে পরের পার্টও দেখতে পাবেন। আর সিনেমাটির দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন ঘণ্টা। এত বড় সিনেমা এক পার্টে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয় বলেই  দুই অংশে দেওয়া।’

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন