শাবনূরের ‘চাঁদনী রাতে’ ফ্লপ, তারপর...

১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর মুক্তি পায় শাবনূরের চাঁদনী রাতেকোলাজ : প্রথম আলো

১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর দিনটিও ছিল শুক্রবার। সেদিন সারা দেশে মহাসমারোহে মুক্তি পায় ‘চাঁদনী রাতে’ চলচ্চিত্রটি। ঢালিউডে অভিষেক হয় এক নবাগত নায়িকার। ‘চাঁদনী রাতে’ নামের সেই চলচ্চিত্রে নবাগত এক নায়কেরও অভিষেক ঘটে। প্রধান দুই অভিনয়শিল্পী নবাগত হলেও পরিচালক এহতেশাম অভিজ্ঞ। তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যাঁদেরই পর্দায় অভিষেক হয়েছে, মোটামুটি সবাই সফল হয়েছেন। ধারণা ছিল, শাবনূরের তেমনটা হবে। কিন্তু প্রথম সিনেমাই ব্যবসায়িকভাবে ফ্লপ। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৩ বছর।

‘চাঁদনী রাতে’ ফ্লপ হওয়ায় সব হিসাব পাল্টে যায়। তবে ফিরতে বেশি দিন লাগেনি। সালমান শাহর সঙ্গে ‘তুমি আমার’ সুপারহিট হওয়ার পর নির্মাতাদের কাছে শাবনূরের চাহিদা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে ঢালিউডের আকাশে জ্বলজ্বলে তারা হয়ে ওঠেন। সিনেমায় কয়েক বছর ধরে অনিয়মিত হলেও ভক্তদের কাছে তাঁর আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। পরিচালক আর প্রযোজকেরা এখনো তাঁকে নিয়ে নতুন গল্প তৈরির পরিকল্পনা করে চলছেন।

শাবনূর
ছবি : সংগৃহীত

শাবনূর এখন আছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। একমাত্র ছেলে আইজান নেহানসহ পরিবারের অন্য সবাইকে নিয়ে তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে থাকছেন। নির্দিষ্ট সময় পর ঢাকায় আসেন। অভিনয়জীবনের শুরুর দিনের কথা তুলতেই আজ শুক্রবার সিডনি থেকে শাবনূর বললেন, ‘অভিনয় শুরুর আগে আমি কিন্তু চলচ্চিত্রের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো সম্পর্কে শিখতে থাকি। প্রথমেই শিখেছিলাম সম্পাদনার কাজ। এহতেশাম দাদুর পরামর্শেই এটা করেছি। সম্পাদনার কাজ শেখার কারণে আমি ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল বেশ ভালোভাবেই রপ্ত করেছিলাম, যা আমার অভিনয়ে অনেক বেশি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।’

‘চাঁদনী রাতে’ চলচ্চিত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শাবনূর বললেন, ‘নতুন ছবির জন্য নায়ক–নায়িকা খুঁজছিলেন এহতেশাম দাদু। তাঁর মাধ্যমেই ঢালিউডে একাধিক নতুন নায়ক-নায়িকার অভিষেক হয়েছে। একদিন তাঁর অফিসে বাবাকে নিয়ে যাই। অভিনয়ের প্রতি আমার আগ্রহের বিষয়টি জানতে পারেন। কথা প্রসঙ্গে এহতেশাম দাদুও জানালেন, গল্পের সেই মেয়েকে তিনি আমার মধ্যে পেয়েছেন। নায়িকা হওয়ার জন্য যা যা দরকার, সেভাবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

শাবনূর
ছবি : প্রথম আলো

এরপর তো নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরে শুরু হয় “চাঁদনী রাতে” ছবির শুটিং। আর মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালের আজকের দিনে।’
আপনার প্রথম সিনেমা ‘চাঁদনী রাতে’ ফ্লপ, এ নিয়ে কি হতাশ হয়েছিলেন? ‘একদমই না। ব্যবসায়িকভাবে সিনেমা ফ্লপ হলেও অভিনয়ের জন্য কিন্তু প্রশংসা ঠিকই পেয়েছি। দর্শকের ভালোবাসা শুটিং শুরু থেকে প্রথম সিনেমা মুক্তির পরও টের পেয়েছি। তাই তো অল্প সময়ে নিজে ঘুরে দাঁড়িয়েছি,’ বললেন শাবনূর।

শুটিং সেট কিংবা বাসা বা বাইরে—যেখানেই দেখা হতো, এহতেশামকে ‘দাদু দাদু’ বলে ডাকতেন শাবনূর। যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হাজির হতেন দাদুর কাছে। শাবনূর বলেন, ‘শুরুর দিকে আমি রোগাপাতলা ছিলাম। আমাকে নিয়ে ছবি বানালে ওই ছবি নাকি চলবে না, সে জন্য অনেকেই চাইছিলেন না দাদু আমাকে তাঁর ছবিতে নায়িকা হিসেবে নিক। কিন্তু আমার ওপর দাদু আস্থা রেখেছিলেন। সেই প্রথম ছবি “চাঁদনি রাতে” দিয়ে দাদু আমাকে ভক্তদের কাছে শাবনূর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেন।’

‘স্বপ্নের পৃথিবী’ ছবিতে শাবনূর ও সালমান শাহ
ছবি: সংগৃহীত

শাবনূর তাঁর ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্য আনতে প্রতিষ্ঠিত জুটির বাইরে প্রায়ই নতুন নায়কদের সঙ্গেও সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এই নায়কদের মধ্যে মাসুদ শেখ অন্যতম। ১৯৯৫ সালে শাহ আলম কিরণ পরিচালিত ‘আসামী বধূ’ ছবিতে তাঁর সঙ্গে শাবনূরের জুটি বাঁধেন তিনি। ছবির প্রযোজকের ছেলে মাসুদ শেখের সঙ্গে কয়েক বছর পর ২০০০ সালে সৈয়দ হারুন পরিচালিত ‘জামিন নাই’ ছবিতেও অভিনয় করেন শাবনূর। ২০০৬ সালে মামা গাজী মাজহারুল আনোয়ারের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন টিভি অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। তিনি প্রথম ছবিতেই নায়িকা হিসেবে পেয়েছিলেন শাবনূরকে। এর বাইরেও শামস, শাহেদ শরীফ খান, এস ডি রুবেল, শায়ের খান, রাশেদ মোর্শেদের মতো চলচ্চিত্রের নবাগত নায়কদের সঙ্গেও দেখা গেছে শাবনূরকে।

শাবনূর
ছবি : প্রথম আলো

শাবনূরের প্রথম সিনেমা ‘চাঁদনী রাতে’ ব্যবসায়িকভাবে সাড়া জাগাতে না পারলেও এই সিনেমাই তাঁকে দিয়েছে সফল হওয়ার মন্ত্র। ব্যর্থতাকে হারিয়ে শাবনূর ক্রমে হয়ে ওঠেন বাংলা ছবির প্রথম সারির নায়িকা। অভিনয়গুণে সব ধরনের চরিত্রেই সহজে মানিয়ে নিতেন নিজেকে। অসংখ্য ছবিতে দর্শকদের কাঁদিয়েছেন, হাসিয়েছেন এই অভিনেত্রী।