বইমেলায় বেরিয়েছিল টিভি তারকা আশনা হাবিব ভাবনার লেখা নতুন বই। মেলায় নিজের বইয়ের ক্রেতাদের অটোগ্রাফ দেওয়া ভাবনার একটি ছবি নিয়ে তাঁকে বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। অনলাইনে ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী কোনাল। তিনি নিজে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার। ফেসবুকে এ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান এই তরুণ কণ্ঠশিল্পী।

default-image

কোনাল ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সাইবার বুলিং বা সাইবার ভিকটিমাইজেশন একটা মারাত্মক অসুখ। যারা এগুলো করে, তারা মানসিকভাবে অসুস্থ, বিকারগ্রস্ত। নারীরা যেন এসব নোংরা মানুষের সহজ টার্গেট। কেবল নারী হওয়ার জন্যই অনলাইনে তাকে এভাবে হেয়, অপদস্থ হতে হয়। সে আপনি অভিনেত্রী, কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, পাইলট, ব্যাংকার, অ্যাথলেট, সাংবাদিক, শিক্ষক—যে–ই হোন না কেন। অথচ এর যেন প্রতিবাদ করার কেউ নেই, যেন কোনো প্রতিকার নেই। অথচ সাইবার বুলিংয়ের কারণে একজন নারী ভয়াবহ হীনম্মন্যতা, হতাশা আর বিষণ্নতায় ডুবে যেতে পারে, এমনকি আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে পারে।’

default-image

লেখায় কোনাল আরও জানান, ইউটিউবে একটি মজার ভিডিও দেখতে গিয়ে তিনি ভাবনার ব্লাউজ নিয়ে আলোচনা লক্ষ করেন। সেই ভিডিওটির ভাষা স্তব্ধ করে দেয় তাঁকে। তিনি লিখেছেন, ‘আমি লজ্জিত। একজন নারী কেবল হাতাকাটা ব্লাউজ পরার জন্য প্রতিদিন এভাবে বুলিংয়ের শিকার হবে? যখন মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে, খেতে পারছে না, চাকরি হারাচ্ছে, ঘুমানোর জায়গা নেই, তখন কিছু মানুষরূপী নোংরা প্রাণী মেতে আছে ভাবনার ব্লাউজ নিয়ে। আপনারা কেউ না, কিচ্ছু না। যে প্রতিদিন আঁকে, লেখে, অভিনয় করে, বই পড়ে, প্রতিনিয়ত নিজেকে একটু একটু করে গড়ে, আপনারা তাঁর তারকাখ্যাতি ব্যবহার করে, তাঁকে গালি দিয়ে নিজেরা আলোচিত হতে চান।’ কোনালের আরও খারাপ লাগে যখন তিনি দেখেন, ভাবনার কোনো সহকর্মী এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করেননি। তিনি একজনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্য শিল্পীদের প্রতিবাদী হতেও অনুরোধ করেন।

default-image
বিজ্ঞাপন

ভাবনার কণ্ঠেও একই আক্ষেপের সুর। তিনি বলেন, ‘আমার মেসেঞ্জার ভরা এসব আলোচনার লিংক। আমার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব যে যেখানে আছে, সবাই খুঁজে খুঁজে আমাকে এসব পাঠাচ্ছে। আমার নারী সহকর্মী, সিনিয়ররা বলেন, ‘এই ছবিটা কি আসলেই তুমি আঁকছ?’, ‘এই বইটা কি আসলেই তুমি লিখছ?’ ওদের ধারণা, অনিমেষ আমার সব করে দেয়। আমি নিজের নামে চালিয়ে দিই। ভাগ্যিস, অনিমেষের (ভাবনার প্রেমিক, নির্মাতা অনিমেষ আইচ) দাড়ি আছে। না হলে বলত, তোমার অভিনয় কি তুমি নিজেই করো, নাকি অনিমেষ করে দেয়? অনিমেষ চারুকলায় পড়েছে, ঠিক আছে। সে কিন্তু ভাস্কর্য নিয়ে পড়েছে। ড্রইংয়ে না। শিল্পকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে কেমন লাগে? আর এখন আমাকে নিয়ে এভাবে ট্রল করা হচ্ছে, হাজার হাজার ভিডিও বানানো হচ্ছে, আজেবাজে লেখালেখি হচ্ছে, আমার সহকর্মীরা কেউ কোনো কথাই বলছেন না।’ ভাবনা আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বিষয়টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখালেখি করেছেন। আমি তাঁদের ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানাই।’

default-image

বন্যা মির্জাও ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই বিষয়টা নিয়ে ভাবনার সহকর্মীদের ভাবনা জানা হলো না, আফসোস। সবাই ভাবে, তার সঙ্গে হবে, আমার সঙ্গে এমন হবে না। আমাদের এই সম্মিলিত নীরবতার মূল্য একদিন কড়ায়–গন্ডায় দিতে হবে।’
কোনালের ওই পোস্টে ভাবনা লিখেছেন, ‘আমরা ততক্ষণ চুপ থাকি, যতক্ষণ সেটা নিজের ঘাড়ে এসে না চাপে। এই বিষয়টা আমাকে কয়েক দিন যাবৎ কী ভয়ংকরভাবে যে আঘাত করছে, তা আমি কাউকে বোঝাতে পারছি না। সবাই বলে তুমি তারকা, এসব গায়ে মেখো না। কিন্তু আমি বাদ দিতে পারছি না। জোর করে বই পড়ছি, ছবি আঁকার চেষ্টা করছি। তবু কোথায় যেন একটা রাগ, বিরক্তি কাজ করছে। আমার ব্লাউজ নিয়ে এত নিউজ। আর এসবে আমার কেমন লাগছে, সেটা কেউ লিখল না, বলল না। এখন আমার নাম গুগল করলে নাকি প্রথমে আসে ভাবনার হাতাকাটা ব্লাউজ! আমি ভয়ে কিছুই দেখি না।’ ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে অভিযোগ করেছেন ভাবনা।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন