আমি যদি প্রথম আলোকে বন্ধু মনে করি, আমাকেও বন্ধুত্ব রক্ষার জন্য ইতিবাচক ও ভিন্নধর্মী কাজ করে যেতে হবে। আমি কখনোই প্রত্যাশা করিনি, একটা অন্যায় ও খারাপ কাজ করব কিন্তু প্রথম আলো কিছু লিখবে না! আমি সব সময় সুস্থ–সুন্দর সমালোচনা ও পরামর্শ চেয়েছি এবং পেয়েছিও। এই জন্য আমাদের সুশিক্ষিত, মার্জিত এবং স্মার্ট একটা বন্ধুত্ব ছিল, আছে এবং বিশ্বাস করি, আগামীতেও থাকবে।

এমনিতে যেটা বেশি ভালো লাগে, আমার চলচ্চিত্রকে প্রথম আলো সব সময় মূল্যায়ন করেছে। আপাতদৃষ্টে আমি যেটা দেখেছি, আমাদের চলচ্চিত্রের অনেক অনেক অন্যায় এবং গর্হিত ব্যাপারগুলোও অনেক সুন্দর আর সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেছে। তারা ঘটনাকে কখনোই বাড়তে দেয়নি। এটা আমাদের অঙ্গনের সবার জন্য বড় একটা সাপোর্ট। চলচ্চিত্রের সবার বন্ধু হয়ে, যেকোনো সংকটে পাশে ছিল। সংকটকে বাড়তে না দিয়ে, কীভাবে সমাধান করা যায়, সেই চেষ্টা করেছে। কখনোই হলুদ সাংবাদিকতা করেনি। আমরা অনেক সময় অনেক গসিপের সুযোগ করে দিয়েছি, তারা হয়তো এসব গসিপ দিয়ে হুলুস্থুল অনেক কিছু করতে পারত। কিন্তু তা না করে সেটাকে যথেষ্ট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে প্রথম আলোকে শুধু আমার বন্ধু বললে ভুল হবে, আমাদের চলচ্চিত্রের সবার বন্ধু হয়ে প্রথম আলো পাশে রয়েছে।

প্রথম আলো পত্রিকার চেয়ে বেশি, এটা বারবার প্রমাণ করেছে। তারা আমাদের অঙ্গনের জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার যেমন করেছে, তেমনি খেলার পুরস্কার, শিক্ষক সম্মাননা, মাদকবিরোধী কনসার্ট, মেধাবীদের সংবর্ধনা, অ্যাসিড সন্ত্রাসে সচেতনতা, বন্ধুসভাসহ আরও কত কী যে করেছে! নানাভাবে, শিক্ষায়, দীক্ষায়, সংস্কৃতিতে অবদান রাখছে। প্রথম আলো একটা প্রতিষ্ঠানের জায়গায় চলে যাচ্ছে। প্রথম আলো শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান মানুষের পদপ্রদর্শক হিসেবেও কাজ করছে। ২৪ বছর ধরে এটা করে যাচ্ছে। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত, সংবাদের মানের জায়গাও বহাল রেখেছে, সে জন্য আন্তরিক অভিবাদন।
আগামীর প্রত্যাশা, যে ধারাবাহিকতায় চলছে, সেভাবেই যেন চলে। আরও নতুন কিছু সময়ের সঙ্গে যেন উপহার দেয়। সময়কে সঙ্গে নিয়ে যেন এগোয় প্রথম আলো।’