৬৫ সিনেমার চিত্রগ্রাহক আব্দুল লতিফ আর নেই
বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন চিত্রগ্রাহক আব্দুল লতিফ বাচ্চু। উন্নত চিকিৎসার জন্য এ বছরের জুলাইয়ে তাঁকে দেশের বাইরেও নেওয়া হয়। এরপর দেশে আনা হলে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। আজ রোববার সন্ধ্যায় তাঁর শরীরে একটি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে মারা যান আব্দুল লতিফ বাচ্চু। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। প্রথম আলোকে আব্দুল লতিফ বাচ্চুর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন তাঁর শ্যালক দেশের আরেক প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন বুলু।
আনোয়োর হোসেন বলেন, ‘তাঁর ফুসফুস সংক্রমিত হয়। এর বাইরে ডায়াবেটিস, কিডনির জটিলতাও ছিল। সকাল থেকে তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। এরপর দ্রুত ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে জানান, সাড়ে বারোটায় তিনি মারা গেছেন।’
জানা গেছে, আব্দুল লতিফ বাচ্চুর তিন ছেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী, তাঁদের দেশে ফেরা পর্যন্ত বাবার মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার হোসেন বুলু। তাঁদের ফেরার পর দাফনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
দেশ স্বাধীনের আগে থেকে আব্দুল লতিফ বাচ্চু চিত্র গ্রহণের কাজে নিজেকে জড়ান। শুরুটা সহকারী হয়ে, এরপর পূর্ণাঙ্গ চিত্রগ্রাহক হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’, ‘দর্পচূর্ণ’ সিনেমায় বিখ্যাত চিত্রগ্রাহক সাধন রায়ের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ সিনেমায় একক ক্যারিয়ার শুরু করেন।
স্বাধীনতার পর চিত্রা জহিরের প্রযোজনা ও কাজী জহিরের পরিচালনায় কাজ করেন ‘অবুঝ মন’ সিনেমায়। এরপর ‘বলবান’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালনায় নাম লেখান। ‘যাদুর বাঁশি’, ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ’, ‘মি. মাওলা’, ‘প্রতারক’ তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য সিনেমা। দীর্ঘ জীবনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) ছাড়াও অর্জন করেছেন চ্যানেল আই কর্তৃক প্রবর্তিত ‘ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কার।
জানা গেছে, তিনি ৬৫ সিনেমায় পূর্ণাঙ্গ চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন আর পরিচালনা করেছেন ৯টির মতো চলচ্চিত্র।