যুক্তরাষ্ট্রে কী করছেন শাবনূর, কাদের সঙ্গে সময় কাটছে নায়িকার

শাবনূরছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

গত বছরের এপ্রিলে হুট করেই সিডনি থেকে ঢাকায় এসেছিলেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। ঢাকায় ছিলেন মাত্র ৮ ঘণ্টা। অসুস্থ মাকে সঙ্গে নিয়েই আবার উড়াল দেন অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে। তখন প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, বছর শেষে ঢাকায় ফিরবেন। কয়েক মাস দেশে বেড়াবেন, ঘোরাঘুরি করবেন—এমনই ছিল তাঁর পরিকল্পনা। সবকিছুই এগোচ্ছিল পরিকল্পনা অনুযায়ী। কিন্তু হঠাৎ করেই মত বদলান নব্বই দশকের এই জনপ্রিয় নায়িকা।

বাংলাদেশে না এসে তাঁর যাত্রার গন্তব্য বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রে। সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর একমাত্র সন্তান আইজান নেহানের। শাবনূর ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে আমেরিকা যেতে চায় কি না। সঙ্গে সঙ্গে আইজানের উত্তর ছিল—হ্যাঁ। সেই ‘হ্যাঁ’-এর জন্যই যেন ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করেন শাবনূর।

শাবনূর
ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

এদিকে শাবনূরের দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্রসঙ্গীদের অনেকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন। নব্বই দশকের সহকর্মীদের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরেই অনুরোধ জানাচ্ছিলেন, শাবনূর যেন একবার আমেরিকায় বেড়াতে আসেন। ছেলের আগ্রহ আর সহকর্মীদের টান—দুটিই মিলে যাওয়াতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে না এসে যুক্তরাষ্ট্রেই উড়াল দেন তিনি।

প্রায় মাসখানেক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন শাবনূর। আরও কয়েক দিন থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। এর আগে এক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি। তবে এবারের সফরটা তাঁর কাছে একেবারেই আলাদা। শাবনূর জানালেন, এবারে আনন্দটা অনেক বেশি, অনুভূতিগুলোও বেশ গভীর।’

আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে দেখা হয় মৌসুমী ও শাবনূরের
ছবি : ভিডিও থেকে

এই সফরের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতার একটি ছিল—নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে নতুন বছরের প্রথম দিন কাটানো। ছেলে আইজান নেহানকে নিয়ে বছরের প্রথম দিনটাই কাটিয়েছেন পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত ও আলোঝলমলে এই জায়গায়। সঙ্গে ছিল তুষারপাতের অপূর্ব অভিজ্ঞতা। শাবনূর বলেন, অনেক দিন ধরেই তাঁর ইচ্ছা ছিল স্নোফল দেখার। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। টানা কয়েক দিন দেখার সুযোগ হয়েছে।’

কয়েক বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছেন শাবনূর। পরিবারের অনেক সদস্যই সেখানে থাকেন। তবে সিডনিতে বসবাস করলেও তুষারপাত উপভোগ করা তাঁর জন্য সহজ নয়। শাবনূর জানালেন, তিনি যেখানে থাকেন, সেখান থেকে স্নোফল দেখতে গেলে প্রায় আট ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যেতে হয়। সময়, পরিস্থিতি ও বাস্তবতার কারণে তা আর হয়ে ওঠে না। যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময়টাই ছিল তুষারপাতের মৌসুম। তাই এবারে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য মন ভরে উপভোগ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন
চিত্রনায়ক কাজী মারুফের দাওয়াতে শাবনূর, আছেন এই নায়কের স্ত্রী রাইসা দিহান
ছবি : মারুফের ফেসবুক থেকে

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে শাবনূরের দেখা হয়েছে দেশীয় চলচ্চিত্রের অনেক পরিচিত মুখের সঙ্গে। সমসাময়িক অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে মৌসুমী, অমিত হাসান, কাজী মারুফের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। এ ছাড়া মামুন ইমন, রেসিসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয়েছে তাঁর। একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, পুরোনো দিনের গল্প করছেন, স্মৃতিচারণায় মেতেছেন।

এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, ‘আমরা ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকলেও সমমনা কয়েকজনের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ আছে, সেখানে আমরা প্রায়ই গল্প করি। আড্ডা দিই। ইন্টারেস্টিং অনেক বিষয় শেয়ার করি। আমেরিকায় যাঁরা থাকেন, তাঁরা অনেক দিন ধরে বলছিলেন, যেন তাঁদের ওখান থেকে ঘুরে আসি। আমারও মনে হলো, যাই, ঘুরে আসি। আমার কাছে তো মনে হয়, এখন বিনোদন অঙ্গনের বেশির ভাগ মানুষই আমেরিকায়। সবাই নিজেদের মতো করে বেশ ভালোই আছেন।’

শাবনূরের সঙ্গে চিত্রনায়িকা রেসী
ছবি : রেসির ফেসবুক থেকে

চিত্রনায়িকা মৌসুমী কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া প্রসঙ্গে শাবনূর বললেন, ‘অনেক দিন পর মৌসুমী আপুর সঙ্গে দেখা। আপুকে কাছে পেয়ে মনটা ভরে গেছে, কী যে ভালো লেগেছে! কত গল্প যে করেছি। মনে হচ্ছিল, সময়টা খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেছে।’

শুধু চলচ্চিত্রের মানুষ নয়, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর আত্মীয়স্বজনের অনেকেও থাকেন। তাঁদের সঙ্গেও নিয়মিত দেখা করছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে যাওয়া, তাই কাজ বা অন্য কোনো ব্যস্ততা নেই—পুরোটাই কাটছে ঘোরাঘুরি, আড্ডা আর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় দিয়ে।

ছেলে আইজান নেহানের সঙ্গে শাবনূর
ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে

চলচ্চিত্র থেকে অনেকটা দূরে থাকলেও শাবনূরের জীবনের সময়টা যেন ভিন্ন এক অধ্যায়—মায়ের দায়িত্ব, সন্তানের সঙ্গে সময়, আর পুরোনো মানুষদের সান্নিধ্যে কাটানো কিছু নির্ভার দিন। সামনে কী পরিকল্পনা, দেশে ফেরা কবে, সেই উত্তর আপাতত সময়ের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন নব্বই দশকের এই জনপ্রিয় নায়িকা।