জন্মদিনের প্রথম প্রহরটি কীভাবে শুরু হলো?

১২টা ১ মিনিটে নিজের বাসায় মা, বাবা ও বোনেরা মিলে কেক কেটেছি। সঙ্গে বীরও ছিল। তার আগে ওই রাতে ‘প্রহেলিকা’ ছবির শুটিং শেষ করে বাসায় ফিরলে চমকে যায়। বীর আমাকে দেখে ভাঙা ভাঙা গলায় বলে, ‘হ্যাপি বাড, হ্যাপি বাড...’। ছোট তো, হ্যাপি বার্থডে বলতে পারে না। ওর মুখে এ কথা শুনে খুব হাসছিলাম আমি। কয়েক দিন ধরে বাসায় হয়তো আমার জন্মদিন নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ও হয়তো শুনে শুনে মনে রেখেছে। ছোট্ট মানুষ, পরিষ্কারভাবে তো আর বলতে পারে না।

বীরের বাবা শাকিব খান কখন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন?

এটিও মজার ব্যাপার। আমার সঙ্গে সম্পর্ক, বিয়ে—এই কয়েক বছর আমার জন্মদিন এলে ও সব সময় আমাকে বলে, সে সবার আগে আমাকে উইশ করবে। এ জন্য এক দিন আগেই উইশ করে ফেলে। এবারও তা-ই করেছে। সেভ জোনে থাকে সে (হা হা হা...)। এবারও এক দিন আগে গতকালই আমাকে উইশ করেছে। আমিও তো টানা শুটিংয়ে ব্যস্ত। তো এভাবে কেন আগের দিনই উইশ করে, তাকে বললে সে বলে, ‘আমি ভুলে যেতে পারি, এ জন্য আগেভাগেই করে ফেললাম। পরে স্পেশাল আয়োজন তো হবেই।’ তা ছাড়া সে জানে, আজ আমার শুটিং আছে। শুটিংয়ে সমস্যা করতে চায় না।

এবারের জন্মদিনের সেরা উপহার কী পেলেন?

সেরা উপহার ডায়মন্ডের নাকফুল, বীরের বাবা শাকিব খান দিয়েছে। গত সপ্তাহে আমাকে সে এই উপহার কিনে দিয়েছে। আমি আগে থেকে জানতাম না উপহারটি কী। যখন খুলে দেখলাম নাকফুল, দেখে আমার চোখে জল চলে এসেছিল। এটি হাতে নিয়ে আমি আবেগপ্রবণ হয়েছিলাম। আমি মনে করি, এ উপহার আমার জন্য তার অন্য রকমের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

আপনার এই বিশেষ দিন নিয়ে শাকিব খানের কোনো আয়োজন থাকবে না?

আমি তো দেখি বীরের বাবা তার নিজের জন্মদিনই পালন নিয়ে এক্সসাইটেড থাকে না। এসব ব্যাপারে সে সব সময়ই চাপা স্বভাবের। নিজের জন্মদিনটাই ওভাবে সেলিব্রেশন করে না। এটি আমি বেশ ভালো করেই বুঝি। এ জন্য আমার জন্মদিন নিয়ে তার সেলিব্রেশন ভাবি না।  

বীরের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলে দ্রুতই ছড়িয়ে যায়। মা হিসেবে বিষয়টি কেমন লাগে?

খুবই ভালো লাগে আমার। অফিশিয়ালি আমাদের খবরটি সবার জানার পর আমি যেখানেই যাই, সবাই বীরের খোঁজখবর নেন। তাকে ঘিরে সবার অনেক আগ্রহ। ওকে সবাই এত বেশি ভালোবাসে, এত বেশি পছন্দ করে, ছবি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই সেই ভালোবাসা, সেই আদর সবাই দিতে চান। এ কারণে তার ছবি দ্রুতই ছড়িয়ে যায়। তা ছাড়া আমি তো দেখি, বীর ছোটবেলার শাকিব খান। কারণ, বীরের চোখ, চুলের স্টাইল, তার হাঁটাচলা—সবই অনেকটাই শাকিব খানের মতো। ছোটবেলার শাকিব খানকে দেখিনি, কিন্তু বড়বেলার শাকিব খানকে দেখে বীরের আচরণে ছোটবেলার শাকিব খানকে খুঁজে পাই। আর এটাই তো হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, বাবা-সন্তানের কিছুটা মিল তো থাকবেই।

সিনেমার খবর কী?

গত শনিবার চয়নিকা চৌধুরীর  ‘প্রহেলিকা’ সিনেমায় আমার অংশের শুটিং শেষ হয়েছে। আমার গানের কাজ বাকি। এখন শুটিং করছি ‘মায়া’ সিনেমার। শুটিংয়ে আছে ‘দেয়ালের দেশ’ নামের আরেকটি ছবির। এ ছাড়া ‘প্রেম পুরাণ’, ‘রিভেঞ্জ’ ‘লিডার-আমিই বাংলাদেশ’সহ বেশ কয়েকটি ছবির কাজ শেষ হয়েছে।