সুড়ঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সেই ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খবর প্রকাশ, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন নায়িকা ববি

ববি। নায়িকার ফেসবুক থেকে

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকরি দেওয়া, ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচা এবং কোরবানির গরু কেনার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিটিএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা আবুল বাশারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানার পুলিশ। গতকাল শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আল আমিন হোসাইন। এদিকে এই খবর প্রকাশের পরেই কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে, মির্জা আবুল বাশার নাকি চিত্রনায়িকা ববির স্বামী। গতকাল রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ববির দাবি, এ খবর ভুয়া।

ববি। নায়িকার ফেসবুক থেকে

ফেসবুক পোস্টে ববি লিখেছেন, ‘শনিবার বিকেল থেকে ব্যবসায়ী মির্জা আবুল বাশারকে কেন্দ্র করে আমাকে নিয়ে বেশ কিছু গণমাধ্যমে চটকদার সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেখানে বাশারের সঙ্গে জড়িয়ে “কোথাও কথিত স্ত্রী”, “কোথাও স্ত্রী”শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’

আরও পড়ুন

পোস্টে ভুয়া সংবাদ প্রকাশের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ববি। তিনি লিখেছেন, ‘মূলত ভিউ বাণিজ্য ও আমার সম্মানহানি করতেই একটি কুচক্রী মহল এ কাজ করছে। তবে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। আমাকে হেয় করার জন্য যেসব গণমাধ্যম ভুয়া খবর ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। আমাকে আপনারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, যদি বিয়ে নামে পবিত্র সম্পর্কে জড়িয়ে থাকি, সেটি অবশ্যই আমি নিজ থেকে সামনে আনব।’

ববিকে সবশেষ বড়পর্দায় দেখা গেছে গত ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘তছনছ’ সিনেমায়। ছবিতে তাঁর নায়ক ছিলেন মুন্না খান।

গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আল আমিন হোসাইন জানান, গাড়ি কেনাবেচার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর আবুল বাশারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা হয়। তাঁকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলেও তিনি বারবার স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

আল আমিন হোসাইন বলেন, গুলশান থানার পুলিশের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, বাশার গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সেখানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বাসার ভেতরে থাকা একটি সুড়ঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা চেষ্টার পর আজ দুপুরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।